📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 পূর্ণ দিয়াত ও আংশিক দিয়াত

📄 পূর্ণ দিয়াত ও আংশিক দিয়াত


ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পূর্ণ দিয়াতের পরিমাণ হল একশতটি উট বা তার সমতুল্য মূল্য। হত্যার জন্য এ দিয়াত প্রযোজ্য হবে। অনুরূপভাবে শরীরে যে সব অঙ্গ একটি করে রয়েছে (যেমন- নাক, জিহ্বা, পুরুষাঙ্গ, নারীর যৌনাঙ্গ, মেরুদণ্ড, গুহ্যদ্বার ও মূত্রনালী ইত্যাদি), অপরাধী তার কোন একটি অঙ্গ কর্তন করলে কিংবা বিচ্ছিন্ন করলে অথবা তার কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিলে পূর্ণ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ৫৪
পক্ষান্তরে শরীরে যে সব অঙ্গ দুটি রয়েছে (যেমন- হাত, পা, চোখ, কান, ওষ্ঠ, ভ্রূ, স্তন, বোঁটা, অণ্ড, চোয়াল ও পাছা ইত্যাদি), অপরাধী দুটিই কর্তন করলে কিংবা বিচ্ছিন্ন করলে অথবা তার কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিলে পূর্ণ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। আর কোন একটি কর্তন করলে কিংবা বিচ্ছিন্ন করলে অথবা তার কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দিলে অর্ধেক দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ৫৫ যেমন- অপরাধী কোন ব্যক্তির একটি হাত বা পা কেটে ফেলল, তা হলে তার ওপর দু হাত বা দুপায়ের জন্য নির্ধারিত পূর্ণ দিয়াতের অর্ধেক পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক হবে। কিন্তু এক প্রকারের একাধিক অঙ্গের মধ্যে একটি মাত্র অঙ্গ পূর্ব থেকেই সুস্থ ছিল এবং অপর অঙ্গটি পূর্ব থেকেই অকেজো ছিল, এ রূপ অবস্থায় সুস্থ অঙ্গটির ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ৫৬
শরীরে যে অঙ্গের চারটি প্রত্যঙ্গ রয়েছে (যেমন- চোখের পাতা ও অক্ষীপক্ষ্ম), কোন ব্যক্তি সে অঙ্গের সব প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত আর তার প্রত্যেকটি প্রত্যঙ্গের জন্য দিয়াতের এক-চতুর্থাংশ ধার্য হবে। ৫৭
শরীরে যে অঙ্গে দশটি প্রত্যঙ্গ রয়েছে, (যেমন হাত ও পায়ের আঙ্গুল) কোন ব্যক্তি সে অঙ্গের সব প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত আর তার প্রত্যেকটি আঙ্গুলের জন্য দিয়াতের এক-দশমাংশ ধার্য হবে। ৫৮
শরীরের যে অঙ্গে বিশের অধিক প্রত্যঙ্গ রয়েছে (যেমন- দাঁতের সংখ্যা সাধারণত ৩২), তার প্রত্যেক প্রত্যঙ্গের দিয়াতের পরিমাণ বিশভাগের এক ভাগ। কোন ব্যক্তি সে অঙ্গের সব প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধন করলে পূর্ণ দিয়াত এবং এর অতিরিক্ত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। এ হিসাব অনুযায়ী ৩২টি দাঁতের দিয়াতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১.৬ দিয়াত (অর্থাৎ একটি পূর্ণ দিয়াত এবং অতিরিক্ত পাঁচ ভাগের তিন ভাগ)। ৫৯

টিকাঃ
৫৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ. ৬৮; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩১১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪০
৫৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩১১; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ. ১২৯-১৩১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪০
৫৬. এটা মালিকী ও হাম্বলীগণের অভিমত। অন্যান্য ইমামগণের মতে- এ রূপ অবস্থায়ও অর্ধেক দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। (আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ-৮৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪২)
৫৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩১১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪০
৫৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৭১; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩১৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৪০
৫৯. তদেব

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অনির্ধারিত দিয়াত

📄 অনির্ধারিত দিয়াত


মানবদেহের বিরুদ্ধে যে সব অপরাধের জন্য আরশ নির্ধারিত নেই, সে সব অপরাধের জন্য বিচারক আঘাতের অবস্থা ও অপরাধের ধরন বিবেচনা করে দিয়াত নির্ধারণ করবেন। যেমন অপরাধী কোন ব্যক্তির কোন অঙ্গ গ্রন্থিসন্ধি থেকে না কেটে তার নিম্নাংশ থেকে কর্তন করেছে। ইসলামী আইনবিদগণের মতে- এ অবস্থায় কিসাস গ্রহণ সম্ভব নয় এবং এর জন্য নির্দিষ্ট আরশও নেই। অতএব এ ক্ষেত্রে বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন। দেহে গজানো অতিরিক্ত (যেমন কোন ব্যক্তির হাতে বা পায়ে অতিরিক্ত আঙ্গুল) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিসাধনের বেলায়ও অনির্ধারিত দিয়াত প্রযোজ্য হবে। ৬০
নিম্নে মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধসমূহের দিয়াতের বিশদ বিবরণ প্রদত্ত হল।

টিকাঃ
৬০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৮২, ১৬৬-৭; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩০২-৩, ৩২৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00