📄 প্রায় ভুলবশত হত্যা ও কারণবশত হত্যার দিয়াত
প্রায় ভুলবশত হত্যা ও কারণবশত হত্যার ক্ষেত্রে ভুলবশত হত্যার অনুরূপ দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ২০
টিকাঃ
২০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৬
📄 ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত
ইচ্ছাকৃত হত্যার নির্ধারিত শাস্তি হল কিসাস। তবে দিয়াত প্রদানের শর্তে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের হত্যাকারীর সাথে সমঝোতা করার ইখতিয়ারও রয়েছে। এরূপ হত্যার জন্য কঠোর দিয়াত (مغلظة) প্রযোজ্য হবে। দিয়াতের এ কঠোরতা তিন দিক থেকে আরোপ করা হবে। ১. দিয়াতের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের দায়ভার কেবল হত্যাকারীর ওপরই বর্তাবে। ২. দিয়াতের সম্পূর্ণ অর্থ নগদ পরিশোধ করতে হবে। ২১ ও ৩. দিয়াতস্বরূপ প্রদেয় উটের উচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ। ২২ এরূপ হত্যার দিয়াতের জন্য একশত উষ্ট্রীর মধ্যে ত্রিশটি চার বৎসর বয়সের, আর ত্রিশটি তিন বৎসর বয়সের উট এবং ৪০টি গর্ভবতী উষ্ট্রী হতে হবে। ২৩ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من قتل متعمدا دفع إلى أولياء المقتول فإن شاؤا قتلوا و إن شاؤا أخذوا الدية و هي ثلثون حقة و ثلثون جذعة و أربعون خلفة و ما صولحوا عليه فهو لهم ، و ذلك تشديد .العقل "যে ব্যক্তি অপরকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করল, তাকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কাছে সমর্পন করা হবে। তারা ইচ্ছা করলে তাকে হত্যা করবে অথবা ইচ্ছা করলে দিয়াত গ্রহণ করবে। দিয়াতের পরিমাণ হল- ত্রিশটি তিন বৎসর বয়সের, ৩০টি চার বৎসর বয়সের এবং ৪০টি গর্ভবতী উষ্ট্রী। আর যদি তারা সমঝোতা করে তবে যে পরিমাণের বিনিময়ে সমঝোতা হয়েছে, তা-ই তারা পাবে। এ বিধান দিয়াতে কঠোরতা সৃষ্টির জন্য আরোপ করা হয়েছে।” ২৪
নিহতের অভিভাবকদের জন্য সমঝোতার ক্ষেত্রে এ পরিমাণের বেশি দাবি করা বৈধ নয়। অবশ্যই এর কম পরিমাণের ওপরও সমঝোতা করা যেতে পারে। ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইচ্ছাকৃত হত্যার নির্ধারিত শাস্তি হল কিসাস। এ কারণে দিয়াত প্রদানে হত্যাকারীর স্বেচ্ছায় সম্মত হওয়া আবশ্যক। তার সম্মতি ছাড়া তার নিকট থেকে তা জোর করে আদায় করা বৈধ নয়। হত্যার অপরাধে তার জীবন ধ্বংস করা বৈধ হলেও তার সম্পদ দখল করা বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا يحل مال امرئ مسلم إلا بطيب نفس منه - "কোন মুসলিমের সম্পদ তার সম্মতি ছাড়া অন্যের জন্য বৈধ নয়।” ২৫ এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। ২৬ পক্ষান্তরে হাম্বলীগণের মতে ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি হল কিসাস কিংবা দিয়াত। এ দুটি শাস্তির মধ্যে যে কোন এক ধরনের শাস্তি বেছে নেয়ার ইখতিয়ার নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের রয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে কিসাস গ্রহণ করবে, ইচ্ছে করলে দিয়াতও নিতে পারে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من قتل له قتيل فهو بخير النظرين : إما أن يودى " و إما أن يقاد - "যার কোন ব্যক্তি নিহত হবে, তার দুটি ইখতিয়ার রয়েছে। সে ইচ্ছে করলে রক্তমূল্যও নিতে পারবে, ইচ্ছে করলে কিসাসও গ্রহণ করতে পারবে।” ২৭ তাঁদের মতানুযায়ী হত্যাকারীর সম্মতি ছাড়া তার নিকট থেকে দিয়াতের অর্থ জোর করে আদায় করা বৈধ হবে যেমন ক্ষতিপূরণের অর্থ জোর করে আদায় করা যায়। ২৮
টিকাঃ
২১. এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে হানাফীগণের মতে- তিন বৎসরের মধ্যে আদায় করার সুযোগ থাকবে। (আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৫৭; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১২)
২২. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৫৭
২৩. এটা শাফি'ঈ ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের অভিমত। অন্যান্য ইমামগণের দৃষ্টিতে একশত উটের মধ্যে পচিশটি চার বৎসর বয়সের ও পচিশটি তিন বৎসর বয়সের উট, আর পচিশটি দুবৎসর বয়সের উষ্ট্রী এবং ২৫টি এক বৎসর বয়সের উস্ত্রী হতে হবে। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ২৯৩-৪)
২৪. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং ২৬২৬; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৫৯০৮
২৫. আল বায়হাকী, আস-সুনান আল- কুবরা, হা.নং: ১১৩২৫; আবূ ই'য়ালা, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১৫৭০
২৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ. ৬০-৩
২৭. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ৬৪৮৬; আবু দাউদ (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ৪৫০৫
২৮. আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৩; আল-বহুতী, কাশশাফ, খ.৫, পৃ. ৫৪৩
📄 প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যার দিয়াত
'প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা'র জন্য কিসাস প্রযোজ্য নয়। এর শাস্তি হল কঠোর দিয়াত। ইচ্ছাকৃত হত্যার মতই এরূপ হত্যার ক্ষেত্রেও দিয়াতরূপে প্রদেয় উটগুলো উচ্চ বয়সের হতে হবে। ২৯ অর্থাৎ একশত উষ্ট্রীর মধ্যে ত্রিশটি চার বৎসর বয়সের, আর ত্রিশটি তিন বৎসর বয়সের উট এবং ৪০টি গর্ভবতী উষ্ট্রী হতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ألا إن في قتيل عمد الخطأ ، قتيل السوط والعصا و الحجر مائة من الإبل أربعون في بطونها الإبل - "অসতর্কতামূলক ইচ্ছাকৃত হত্যায় নিহত তথা বেত, লাঠি ও পাথরের আঘাতে নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একশতটি উষ্ট্র দিতে হবে। তন্মধ্যে চল্লিশটি গর্ভবতী হতে হবে।” ৩০ উল্লেখ্য যে, এ দিয়াতের অর্থসম্পদ আদায়ের দায়ভার কেবল হত্যাকারীর ওপর বর্তাবে না; বরং ভুলবশত হত্যার মত এ দায়ভার তার ও তার বংশের লোকদের ওপর আরোপিত হবে।” উপরন্তু তারা তিন বৎসরের মধ্যে তিন কিস্তিতে এ দিয়াত পরিশোধ করতে পারবে। ৩২
টিকাঃ
২৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ. ৬৫
৩০. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১৫৪২৫, ১৪৪২৬
৩১. এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে ইমাম যুহরী, ইবনু সীরীন ও কাতাদাহ (রহ) প্রমুখের মতে- 'প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা'র দিয়াত আদায়ের দায়ভার কেবল হত্যাকারীর ওপরই বর্তাবে। কারণ এ ক্ষেত্রে অপরাধটি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়, যদিও সরাসরি হয়ত হত্যা করার উদ্দেশ্য থাকে না। তাই তার অপকর্মের ভার অপরের ওপর বর্তানো সমীচীন হবে না।
৩২. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৫১; আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ, খ.২, পৃ.১২০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.২৯৪-৫