📄 নিহত ব্যক্তি ‘মা‘সূমুদ দ্দাম’ হওয়া
দিয়াত বাধ্যতামূলক হবার জন্য নিহত ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকতে হবে। অর্থাৎ সে যদি অন্য কোন অপরাধে (যেমন হত্যা, ধর্মত্যাগ ও ব্যভিচার প্রভৃতি) হত্যাদণ্ডে দণ্ডিত হয় কিংবা রাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী অমুসলিম (হারাবী) হয়, তাহলে হত্যাকারীর ওপর দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে না। কেননা সে হত্যাযোগ্য অপরাধে লিপ্ত হয়ে কিংবা সে অবৈধভাবে ইসলামী রাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিজেই বিঘ্নিত করেছে। তবে সরকারের কর্তৃত্বের অবমাননা করার কারণে তা'যীরের আওতায় হত্যাকারীর শাস্তি হবে।
উল্লেখ্য যে, দিয়াত ওয়াজিব হবার জন্য নিহত ব্যক্তি বা হত্যাকারী কারোই মুসলিম হওয়া শর্ত নয়। মুসলিম অমুসলিমকে এবং অমুসলিম মুসলিমকে হত্যা করলে দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। অনুরূপভাবে নিহত ব্যক্তি বা হত্যাকারী কারোই মুকাল্লাফ (প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন) হওয়াও শর্ত নয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাগলকে হত্যা করা হলে যেমন হত্যাকারীর ওপর দিয়াত ওয়াজিব হবে, তেমনি তারা হত্যা করলেও তাদের সম্পদে দিয়াত ওয়াজিব হবে। ১০
টিকাঃ
১০. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৫২ ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা ইক, খ.৮, পৃ.৩৭৩
📄 হত্যাকাণ্ড ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হওয়া
দিয়াত বাধ্যতামূলক হবার জন্য হত্যাকাণ্ড ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হতে হবে। অতএব কোন হারাবী ইসলাম গ্রহণ করল; কিন্তু হিজরাত করে ইসলামী রাষ্ট্রে চলে আসল না। এরূপ অবস্থায় দারুল হারবের মধ্যে কোন মুসলিম তাকে হত্যা করলে এর জন্য হত্যাকারীর ওপর দিয়াত আরোপিত হবে না। কেননা সে মুসলিম হলেও দারুল হারবের বাসিন্দা হবার কারণে তার জীবনের নিরাপত্তা রক্ষা করার দায়িত্ব যেহেতু ইসলামী রাষ্ট্রের সরকারের নেই, তাই তার হত্যার জন্য হত্যাকারীর ওপর দিয়াত আরোপ করা যাবে না। এটা হানাফীগণের অভিমত। তবে অন্যান্য মাযহাবের ইমামগণের মতে- দিয়াত বাধ্যতামূলক হবার জন্য হত্যাকাণ্ড ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হওয়া শর্ত নয়। তাঁদের মতানুযায়ী যে কোন ব্যক্তি দারুল হারবে কোন মুসলিমকে হত্যা করলে হত্যাকারীর ওপর দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ১১
টিকাঃ
১১. আল-কাসানী, বাদাই, খ.৭, পৃ.২৫২ ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৮, পৃ.৩৭৩