📄 পুরুষাঙ্গের কিসাস
পুরুষাঙ্গ কর্তন বা অকেজো করার ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। পুরুষের শিশ্নাগ্র কর্তনের ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। পুরুষাঙ্গের মাথার অংশবিশেষ কর্তন করলে এবং সমপরিমাণ বদলা নেয়া সম্ভব হলে কিসাস কার্যকর হবে। অন্যথায় দিয়াত ওয়াজিব হবে। অণ্ডকোষদ্বয়ের জন্য কিসাস ওয়াজিব হবে। তবে অণ্ডকোষদ্বয়ের একটি কর্তন করলে কিসাস ওয়াজিব হবে না। অণ্ডকোষদ্বয় কর্তনের পর পুরুষাঙ্গ কর্তন করা হলে কেবল অণ্ডকোষদ্বয়ের জন্য কিসাস কার্যকর হবে এবং পুরুষাঙ্গের জন্য বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী দিয়াত ধার্য করবেন। এটা হানাফীগণের অভিমত। অন্যান্য ইমামগণের মতে- উভয় অঙ্গের জন্যই কিসাস কার্যকর হবে না। ১৩৪
টিকাঃ
১৩৪. আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.১০, পৃ.২৩৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ২৫৯; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৫; আর-রুহায়বানী, মাতালিবু.., খ.৬, পৃ.১১৭
📄 হাড়ের কিসাস
হাড় ভাঙ্গার জন্য কিসাস নেই। এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। হযরত ‘আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রা), ইবনু মাস'উদ (রা) ও 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রা) প্রমুখ থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: لا قصاص في عظم إلا في السن “দাঁত ছাড়া অন্য হাড়ে কোন কিসাস নেই।”১৩৫ তদুপরি হাড়ের ক্ষেত্রে পূর্ণ সমতা রক্ষা করে বদলা নেয়া যেহেতু দুরূহ ব্যাপার, তাই এ ক্ষেত্রে কিসাস না থাকাটাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। ১৩৬ শাফি'ঈগণের মতে- আহত ব্যক্তি ইচ্ছে করলে আক্রান্ত স্থানের নিচের নিকটবর্তী গ্রন্থিসন্ধি থেকে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ কিসাসস্বরূপ কেটে নিতে পারবে। অবশিষ্টের জন্য বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী ন্যায়ানুগ বিনিময়সহ অতিরিক্ত দণ্ড দেবেন।
মালিকীগণ বলেন, দেহের যে সব হাড়ে বিপদের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে (যেমন বক্ষ, ঘাড়, পিঠ ও উরুর হাড়), তাতে কিসাস কার্যকর হবে না। এ ক্ষেত্রে বিচারকের ফায়সালাই কার্যকর হবে। বিচারক অপরাধীর অবস্থা ও অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনা করে তা'যীরের আওতায় ক্ষতিপূরণ সহ যে কোন রূপ সাধারণ দণ্ড দিতে পারবে।
টিকাঃ
১৩৫. ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, হা.নং ২৭৩০৫; ইবনু হাজর, আদ-দিরায়াহ, হা.নং: ১০১৮
১৩৬. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮
📄 মাথা ফাটার কিসাস
মাথায় যে আঘাতে মস্তকের হাড়ের উপরিভাগের ঝিল্লি কেটে হাড় প্রকাশ পায়, তজ্জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। ১৩৭ তবে কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক হবে।
টিকাঃ
১৩৭. এ জাতীয় আঘাতকে 'মুদিহাহ' বলা হয়। এ ক্ষেত্রে যেহেতু কোন রূপ সীমালঙ্ঘন ছাড়াই সমান বদলা নেয়া সম্ভব, মাথার হাড় পর্যন্ত সহজেই ছুরি পৌঁছানো যায়, তাই এ জাতীয় আঘাতের বেলায় কিসাস কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ জন্য কিসাসের নির্দেশ দিয়েছেন। (ইবনু হাজর আল আসকালানী, আদ-দিরায়াহ, হা.নং: ১০৩৩)
📄 অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কর্মক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়ার কিসাস
অঙ্গহানি কিংবা বিচ্ছিন্ন করার মত অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করলেও কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। কোন কারণে কিসাস কার্যকর করা সম্ভব না হলে দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে।