📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 জিহ্বার কিসাস

📄 জিহ্বার কিসাস


হানাফীগণের মতে (ইমাম আবূ ইউসূফ [রহ] ছাড়া) জিহ্বার ক্ষেত্রে কিসাস নেই, যদি তা মূল থেকেও কর্তন করা হয়। কেননা জিহ্বার মূলসন্ধিতে পৌঁছে কর্তন করা কঠিন ব্যাপার। কিন্তু অধিকাংশ ইমামের মতে- জিহ্বার পরিবর্তে জিহ্বাতেই কিসাস কার্যকর করা হবে। তাঁদের বক্তব্য হল- কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে যখমগুলোকে কিসাসযোগ্য বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি জিহ্বারও একটি মূলসন্ধি রয়েছে যেখান পৌঁছা সম্ভব, তাই চোখের মত জিহ্বাতেও কিসাস গ্রহণ করা হবে।
তাঁদের মতানুযায়ী বাকশক্তিহীন জিহ্বা ও বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বার মধ্যে যেহেতু কার্যক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে বিরাট পার্থক্য রয়েছে, তাই বাকশক্তিহীন জিহ্বার পরিবর্তে বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বাতে কিসাস নেয়া যাবে না। তবে বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বার পরিবর্তে বাকশক্তিহীন জিহ্বা থেকে কিসাস গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই, যদি আহত ব্যক্তি সম্মত হয়। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের অভিমত। মালিকীগণের মতে- এ রূপ অবস্থায় কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। ১৩০

টিকাঃ
১৩০. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ওষ্ঠের কিসাস

📄 ওষ্ঠের কিসাস


ওষ্ঠ কর্তনের জন্য কিসাস ওয়াজিব হবে, যদি তা পুরোই কেটে ফেলা হয়। এটা হানাফীগণের অভিমত। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে ওষ্ঠ কর্তন যেভাবেই হোক- কিসাস ওয়াজিব হবে। তাঁদের বক্তব্য হল- কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে যখমগুলোকে কিসাসযোগ্য বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি ওষ্ঠেরও একটি সুনির্দিষ্ট আয়তন রয়েছে যা থেকে কিসাস গ্রহণ করা সম্ভব। তাই হাত-পায়ের মত ওষ্ঠেও কিসাস গ্রহণ করা হবে। ১৩১

টিকাঃ
১৩১. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 দাঁতের কিসাসন

📄 দাঁতের কিসাসন


দাঁত উৎপাটনের ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। অনুরূপভাবে দাঁত ভেঙ্গে ফেললেও অধিকাংশ ইমামের মতে কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে দাঁতের পরিবর্তে দাঁতে কিসাস নেবার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুবা'ই (রা) কর্তৃক এক দাসীর দাঁত ভাঙ্গার ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিসাসের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদুপরি দাঁত -উৎপাটন করা হোক কিংবা ভেঙ্গে ফেলা হোক- তার অনুরূপ কিসাস গ্রহণ করা সম্ভব। যদি উৎপাটন করা হয়, তাহলে কিসাসস্বরূপও দাঁত উৎপাটন করা হবে। যদি ভেঙ্গে ফেলা হয়, তাহলে সমতা রক্ষার প্রয়োজনে কিসাসস্বরূপ সমপরিমাণ ভেঙ্গে ফেলা হবে। যদি অপরাধীর দাঁত ভেঙ্গে ফেলার মত না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবে না; দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে।
বৈশিষ্ট্য ও কার্যপ্রকৃতির মধ্যে মিল থাকায় দাঁতগুলোর ছোট-বড় হওয়া এবং বেঁটে-লম্বা হওয়া কিসাসের জন্য বিবেচ্য নয়। তবে সামনের দাঁতের পরিবর্তে সামনের দাঁতেই, মাড়ির দাঁতের পরিবর্তে মাঁড়ির দাঁতেই কিসাস নেয়া হবে। উপরের দাঁতের পরিবর্তে নিচের দাঁতে এবং নিচের পরিবর্তে উপরের দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে না। অনুরূপভাবে ভাঙ্গা দাঁতের পরিবর্তে সুস্থ দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে না। তবে সুস্থ দাঁতের পরিবর্তে ভাঙ্গা দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে। অতিরিক্ত দাঁতের পরিবর্তেও কিসাস নেয়া যাবে, যদি অপরাধীর অতিরিক্ত দাঁত থাকে। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলী ইমামগণের অভিমত। হানাফীগণের মতে- অতিরিক্ত দাঁতে কিসাস নেই। এ ক্ষেত্রে বিচারকের ফায়সালাই কার্যকর হবে। ১৩২

টিকাঃ
১৩২. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩৪-৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ২৬৩-৪; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৭-৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মহিলার স্তনের কিসাস

📄 মহিলার স্তনের কিসাস


মহিলাদের স্তনের বোঁটায় কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা বোঁটার একটি সুনির্দিষ্ট আয়তন রয়েছে, যা থেকে সমপরিমাণের কিসাস গ্রহণ করা সম্ভব। তাই অন্যান্য অঙ্গের মত বোঁটায়ও কিসাস গ্রহণ করা হবে। তবে তাদের স্তনের যেহেতু সুনির্দিষ্ট কোন গ্রন্থেসন্নিধি নেই এবং এ কারণে সমপরিমাণের কিসাস গ্রহণ করা অসম্ভব, তাই স্তনের জন্য কোন কিসাসের বিধান প্রযোজ্য হবে না। পুরুষের বোঁটার পরিবর্তে মহিলার বোঁটায় কিসাস নেয়া যাবে না। তবে মহিলার বোঁটার পরিবর্তে পুরুষের বোঁটায় কিসাস নেয়া যাবে, যদি সে দাবি করে। এটা হানাফী ও শাফি'ঈগণের অভিমত। তবে মালিকী ও হাম্বলীগণের মতে, স্তনের মত বোঁটায়ও কিসাস ওয়াজিব হবে না; দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00