📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কানের কিসাস

📄 কানের কিসাস


কানের বদলায় কানে কিসাস নেয়া হবে। কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে কানের বদলায় কানে কিসাস নেবার কথা বলা হয়েছে। তদুপরি কানের আয়তন সুনির্দিষ্ট হবার কারণে তার অনুরূপ বদলা নিতে যেহেতু কোন রূপ অসুবিধা হয় না, তাই হাত-পায়ের মত কানের পরিবর্তে কানে কিসাস গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে। ছোট ও বড় কানের তফাত কিসাসের জন্য বিবেচ্য নয়। তদুপরি শ্রবণশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তির কান ও বধিরের কান দুটিই যেহেতু সমতুল্য, শ্রবণশক্তির বিলুপ্তির কারণ কানের ত্রুটির কারণে নয়; বরং মাথার কোন ত্রুটিই এর জন্য দায়ী, তাই একটার পরিবর্তে অন্যটিতে কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। অনুরূপভাবে সুস্থ কানের বদলায় অকেজো কানেও কিসাস গ্রহণ করা যাবে। কারণ, কান অকেজো হলেও তার শ্রবণ শক্তি সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে।
কানের অংশবিশেষ কর্তনের বেলায়ও কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলী ইমামগণের অভিমত। হানাফীগণের মতে- কর্তিত অংশ সুনির্দিষ্ট এবং তার অনুরূপ বদলা নেয়া সম্ভব হলেই কেবল কিসাস নেয়া যাবে।
ছিদ্রযুক্ত কানের পরিবর্তে সুস্থ কানে কিসাস নেয়া হবে। কারণ ছিদ্রযুক্ত হওয়া কানের দোষ নয়। অনেক সময় কানে দুল পরার জন্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেও কান ছিদ্র করা হয়। যদি কানের ছিদ্র যথাযথ স্থানে না হয় কিংবা কর্তনকারীর কান ফাটা এবং আহত ব্যক্তির কান সম্পূর্ণ হয়, তাহলে হানাফীগণের দৃষ্টিতে আহত ব্যক্তির এ ইখতিয়ার থাকবে যে, সে ইচ্ছে করলে কিসাসও গ্রহণ করতে পারে, ইচ্ছে করলে কানের অর্ধেক দিয়াতও নিতে পারে। যদি কর্তিত কানটি অপূর্ণাঙ্গ হয়, তাহলে তার ক্ষতিপূরণ দান বাধ্যতামূলক হবে। শাফি'ঈগণের দৃষ্টিতে সুস্থ কানের বদলায় ফাটা কানে কিসাস নেয়া যাবে; তবে ফাটা হবার কারণে যে পরিমাণ কান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার সম পরিমাণ দিয়াত দানও বাধ্যতামূলক হবে। হাম্বলীগণের মতে- সুস্থ কানের পরিবর্তে ফাটা কানে বদলা নেয়া হবে। তবে ফাটা কানের পরিবর্তে সুস্থ কানে বদলা নেয়া যাবে না। কারণ কানের ছিদ্র যখন ফাটা রূপে দেখা যায়, তা ত্রুটিরূপে গণ্য হয়। আর ত্রুটিযুক্ত অঙ্গের পরিবর্তে ত্রুটিহীন অঙ্গে কিসাস কার্যকর হয় না। ১২৯

টিকাঃ
১২৯. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.২৫৭; আল- হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 জিহ্বার কিসাস

📄 জিহ্বার কিসাস


হানাফীগণের মতে (ইমাম আবূ ইউসূফ [রহ] ছাড়া) জিহ্বার ক্ষেত্রে কিসাস নেই, যদি তা মূল থেকেও কর্তন করা হয়। কেননা জিহ্বার মূলসন্ধিতে পৌঁছে কর্তন করা কঠিন ব্যাপার। কিন্তু অধিকাংশ ইমামের মতে- জিহ্বার পরিবর্তে জিহ্বাতেই কিসাস কার্যকর করা হবে। তাঁদের বক্তব্য হল- কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে যখমগুলোকে কিসাসযোগ্য বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি জিহ্বারও একটি মূলসন্ধি রয়েছে যেখান পৌঁছা সম্ভব, তাই চোখের মত জিহ্বাতেও কিসাস গ্রহণ করা হবে।
তাঁদের মতানুযায়ী বাকশক্তিহীন জিহ্বা ও বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বার মধ্যে যেহেতু কার্যক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে বিরাট পার্থক্য রয়েছে, তাই বাকশক্তিহীন জিহ্বার পরিবর্তে বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বাতে কিসাস নেয়া যাবে না। তবে বাকশক্তিসম্পন্ন জিহ্বার পরিবর্তে বাকশক্তিহীন জিহ্বা থেকে কিসাস গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই, যদি আহত ব্যক্তি সম্মত হয়। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের অভিমত। মালিকীগণের মতে- এ রূপ অবস্থায় কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। ১৩০

টিকাঃ
১৩০. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ওষ্ঠের কিসাস

📄 ওষ্ঠের কিসাস


ওষ্ঠ কর্তনের জন্য কিসাস ওয়াজিব হবে, যদি তা পুরোই কেটে ফেলা হয়। এটা হানাফীগণের অভিমত। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে ওষ্ঠ কর্তন যেভাবেই হোক- কিসাস ওয়াজিব হবে। তাঁদের বক্তব্য হল- কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে যখমগুলোকে কিসাসযোগ্য বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তদুপরি ওষ্ঠেরও একটি সুনির্দিষ্ট আয়তন রয়েছে যা থেকে কিসাস গ্রহণ করা সম্ভব। তাই হাত-পায়ের মত ওষ্ঠেও কিসাস গ্রহণ করা হবে। ১৩১

টিকাঃ
১৩১. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 দাঁতের কিসাসন

📄 দাঁতের কিসাসন


দাঁত উৎপাটনের ক্ষেত্রে কিসাস ওয়াজিব হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। অনুরূপভাবে দাঁত ভেঙ্গে ফেললেও অধিকাংশ ইমামের মতে কিসাস ওয়াজিব হবে। কেননা কিসাসের বিধান সম্বলিত উপর্যুক্ত আয়াতে দাঁতের পরিবর্তে দাঁতে কিসাস নেবার কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রুবা'ই (রা) কর্তৃক এক দাসীর দাঁত ভাঙ্গার ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিসাসের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তদুপরি দাঁত -উৎপাটন করা হোক কিংবা ভেঙ্গে ফেলা হোক- তার অনুরূপ কিসাস গ্রহণ করা সম্ভব। যদি উৎপাটন করা হয়, তাহলে কিসাসস্বরূপও দাঁত উৎপাটন করা হবে। যদি ভেঙ্গে ফেলা হয়, তাহলে সমতা রক্ষার প্রয়োজনে কিসাসস্বরূপ সমপরিমাণ ভেঙ্গে ফেলা হবে। যদি অপরাধীর দাঁত ভেঙ্গে ফেলার মত না হয়, তাহলে কিসাস ওয়াজিব হবে না; দিয়াত প্রদান বাধ্যতামূলক হবে।
বৈশিষ্ট্য ও কার্যপ্রকৃতির মধ্যে মিল থাকায় দাঁতগুলোর ছোট-বড় হওয়া এবং বেঁটে-লম্বা হওয়া কিসাসের জন্য বিবেচ্য নয়। তবে সামনের দাঁতের পরিবর্তে সামনের দাঁতেই, মাড়ির দাঁতের পরিবর্তে মাঁড়ির দাঁতেই কিসাস নেয়া হবে। উপরের দাঁতের পরিবর্তে নিচের দাঁতে এবং নিচের পরিবর্তে উপরের দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে না। অনুরূপভাবে ভাঙ্গা দাঁতের পরিবর্তে সুস্থ দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে না। তবে সুস্থ দাঁতের পরিবর্তে ভাঙ্গা দাঁতে কিসাস নেয়া যাবে। অতিরিক্ত দাঁতের পরিবর্তেও কিসাস নেয়া যাবে, যদি অপরাধীর অতিরিক্ত দাঁত থাকে। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলী ইমামগণের অভিমত। হানাফীগণের মতে- অতিরিক্ত দাঁতে কিসাস নেই। এ ক্ষেত্রে বিচারকের ফায়সালাই কার্যকর হবে। ১৩২

টিকাঃ
১৩২. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৮; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩৪-৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ২৬৩-৪; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৮, পৃ.৪২৭-৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00