📄 আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ
কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে কারো দেহে কোন রূপ ক্ষত সৃষ্টি করে এবং এ ক্ষতের কারণে দীর্ঘ দিন অসুস্থ অবস্থায় শয্যায় পড়ে থেকে অবশেষে এ ক্ষতের প্রতিক্রিয়ায় মারা যায়, তাহলে আঘাতকারীর ওপর কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। ১১৮
টিকাঃ
১১৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.১৬৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩০৪
📄 আঘাতের প্রতিক্রিয়া বা সংক্রমণ
কেউ যদি কারো কোন অঙ্গে আঘাত করে এবং সে আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে নির্দিষ্ট কোন অঙ্গের আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় অন্য একটি অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেলে (যেমন কেউ কারো একটি আঙ্গুল কেটে ফেলল। এরপর ক্রমশ তার প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি পেতে পেতে পুরো হাতের মণিবন্ধ পর্যন্ত সংক্রমিত হল এবং এর ফলে গোটা মণিবন্ধই কেটে ফেলতে হল), কিসাস ওয়াজিব হবে কি না- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। শাফি'ঈ ও অধিকাংশ হানাফী ইমামের মতে- এরূপ অবস্থায় শুধু প্রথম আক্রান্ত অঙ্গের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবে এবং সংক্রমিত অঙ্গের জন্য দিয়াত ওয়াজিব হবে। তাঁদের বক্তব্য হল- শরীরের কোন অঙ্গ সরাসরি আক্রান্ত হওয়া ছাড়া অন্য অঙ্গের আঘাতের প্রতিক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে গেলে তাতে কিসাস বাধ্যতামূলক হবে না। পক্ষান্তরে হাম্বলী মতাবলম্বী ইমামগণের দৃষ্টিতে- এরূপ অবস্থায় অপরাধীর সংশ্লিষ্ট দুটি অঙ্গেই কিসাস ওয়াজিব হবে। তাঁদের কথা হল- শরীরের যে সব অঙ্গ আহত করার জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হয়, সংক্রমণের কারণে এ সব অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেলেও কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। ইমাম আবূ হানীফা (রহ) বলেন, কোন ব্যক্তি কারো একটি আঙ্গুল কেটে ফেলল এবং এর প্রতিক্রিয়ায় পার্শ্ববর্তী অপর একটি আঙ্গুল যদি অকেজো হয়ে পড়ে, তা হলে কোন আঙ্গুলের জন্যই কিসাস ওয়াজিব হবে না; বরং দুটি আঙ্গুলের জন্য দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। তদুপরি কেউ ভুলক্রমে কারো কোন অঙ্গে যখম করলে এবং এ যখমের প্রতিক্রিয়ায় অপর একটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু দিয়াতই ওয়াজিব হবে। ১১৯
টিকাঃ
১১৯. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২৪, পৃ.২৮৫
📄 মানবজীবন ও মানবদেহের বিরুদ্ধে একসাথে অপরাধ
মানব জীবন ও মানবদেহের বিরুদ্ধে কেউ এক সাথে অপরাধ করলে (যেমন- প্রথমে দেহের কোন একটি অঙ্গ কেটে ফেলল, অতঃপর হত্যা করল) প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক নির্দিষ্ট শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক হবে, যদি দুটি অপরাধই এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা না হয় অথবা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হয়; কিন্তু প্রথম অপরাধের যখম থেকে সুস্থ হবার পর দ্বিতীয় অপরাধ করা হয়। এটা হানাফীগণের অভিমত। ১২০
মালিকীগণের মতে হাত-পা কর্তনের অপরাধ - চাই তা নিহত ব্যক্তির হোক কিংবা অপর কোন ব্যক্তির- মানবজীবনের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে, ১২১ যদি অপরাধী দুটি অপরাধই ইচ্ছাকৃতভাবে করে। যেমন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কারো হাত কেটে ফেলল, এর পর সে তাকে হত্যা করল। অতঃপর সে ইচ্ছাকৃতভাবে অপর এক ব্যক্তির একটি পা কেটে ফেলল, তাহলে অপরাধীকে শুধু হত্যাই করা হবে। তার হাত-পা কর্তন করা যাবে না, যদি সে হাত-পা কর্তন করে দৈহিকভাবে বিকৃতি ঘটানোর ইচ্ছা না করে। যদি এরূপ ইচ্ছা করে থাকে, তাহলে হাত-পায়ের কর্তনের অপরাধ মানবজীবনের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের মধ্যে শামিল হবে না। এ ধরনের অবস্থায় প্রথমে হাত-পা কর্তনের জন্য কিসাস গ্রহণ করা হবে। অতঃপর তাকে হত্যা করা হবে। ১২২
শাফি'ঈগণের মতে, যদি দুটি অপরাধই ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত হয় এবং জানের বিরুদ্ধে অপরাধটি যদি হাত বা পা সুস্থ হবার পরেই সংঘটিত হয়, তা হলে হাত বা পা কর্তনের জন্য দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। যদি জানের বিরুদ্ধে অপরাধটি হাত বা পা সুস্থ হবার আগেই সংঘটিত হয়, তাহলে তাঁদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধের শাস্তি মানবজীবনের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের শাস্তির (কিসাস) মধ্যে শামিল হয়ে যাবে। যদি দুটি অপরাধের একটি ইচ্ছাকৃতভাবে, আর অপরটি ভুলবশত সংঘটিত হয়, তা হলে তাঁদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক হবে। ১২৩
টিকাঃ
১২০. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ. ১১৭-৮ এ ধরনের অপরাধের মোট ১৬টি প্রকরণ রয়েছে। যথা- কেউ হাত বা পা কর্তনের পর হত্যা করল। এ দুটি অপরাধই ইচ্ছাকৃতভাবে হতে পারে আবার ভুলবশতও হতে পারে। অথবা একটি ইচ্ছাকৃতভাবে আর অপরটি ভুলবশতও হতে পারে। এ চারটি প্রকরণের প্রত্যেকটি অপরাধ আবার এক বা একাধিক ব্যক্তির ওপর হতে পারে। এভাবে তা আট প্রকারে উন্নীত হল। এ আটপ্রকরণের প্রত্যেকটির আবার দু অবস্থা হতে পারে। একটি: যখম থেকে সুস্থ হবার আগে, আর অপরটি সুস্থ হবার পরে। (আল-হামভী, গামযু 'উয়ুনিল বছা'ইর, খ.১, পৃ. ৩৯৬-৭)
১২১. অর্থাৎ প্রত্যেকটি অপরাধের জন্য পৃথক পৃথক শাস্তি প্রদান বাধ্যতামূলক হবে না; বরং জানের কিসাসের মধ্যে সব ক'টি অপরাধের শাস্তি হয়ে যাবে।
১২২. আর-রু'আয়নী, মাওয়াহিবুল জলীল, খ.৬, পৃ.২৫৬; 'উলায়শ, মিনহুল জলীল, খ.৯, পৃ.৮৯
১২৩. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.৭৫; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১১, পৃ.৯২-৩