📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা

📄 ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করা


মানবদেহের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধ ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হলেই কিসাস ওয়াজিব হবে। ভুলবশত কিংবা অসতর্কতার কারণে সংঘটিত অপরাধের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবে না। তবে এ ক্ষেত্রে 'প্রায় ইচ্ছাকৃত অপরাধ'ও 'ইচ্ছাকৃত অপরাধ'রূপে গণ্য হবে। যেমন- কেউ কারো শরীরের কোন অংশে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানল বা এমন কোন ছোট পাথর বা কঙ্কর নিক্ষেপ করল, যাতে সাধারণত আক্রান্ত স্থান ফেটে বা ভেঙ্গে যাবার অথবা বিচ্ছিন্ন হবার কথা নয়; কিন্তু ঘটনাক্রমে আক্রান্ত স্থান ফেটে গেল কিংবা ভেঙ্গে গেল অথবা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, তাহলে কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। এটা হানাফী মতাবলম্বী ইমামগণের অভিমত। ১০৪ হাম্বলী স্কুলের ইমাম আবূ বকর (রহ) ও ইবনু আবী মূসা (রহ) প্রমুখও এ ধরনের মত পোষণ করেন। তবে শাফি'ঈ মতাবলম্বী ও অধিকাংশ হাম্বলী ইমামের মতে- মানব দেহের বিরুদ্ধে কৃত প্রায় ইচ্ছাকৃত অপরাধে কিসাস বাধ্যতামূলক হবে না। মালিকীগণের মতে- শত্রুতামূলক আঘাতে দেহে কোন ক্ষত সৃষ্টি হলেই কিসাস ওয়াজিব হবে। খেলাধুলার সময় কিংবা শিক্ষা দানমূলক শাস্তিতে দেহের কোন ক্ষতি হলে তার জন্য কিসাস ওয়াজিব হবে না। ১০৫

টিকাঃ
১০৪. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ. ২৩৫
১০৫. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.২৫১; আদ-দাসূকী, আল-হাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ.২৫২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরাধ সীমালংঘন মূলক হওয়া

📄 অপরাধ সীমালংঘন মূলক হওয়া


মানবদেহের বিরুদ্ধে অন্যায় বা সীমালঙ্ঘন মূলক অপরাধের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবে। যদি কেউ আইনসিদ্ধ পন্থায় কিংবা কাউকে তার অনুমতিক্রমে আঘাত করে এবং এর ফলে তার কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি সাধিত হয়, তাহলে অপরাধীর ওপর কিসাস কার্যকর করা যাবে না।
অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি নিজের জান, ধন-সম্পদ বা নিজের স্ত্রী-কন্যার সতীত্ব রক্ষার প্রয়োজনে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে তার শরীরের কোন রূপ ক্ষতি সাধন করলেও তার ওপর কিসাস কার্যকর করা যাবে না।
শিক্ষক, পিতামাতা বা আইনানুগ অভিভাবকের শিক্ষাদানমূলক শাস্তিতে কোন ছাত্র বা সন্তানের শরীরের কোন রূপ ক্ষতি সাধিত হলে তার জন্যও কিসাস কার্যকর করা যাবে না।
উল্লেখ‍্য যে, অপরাধী মুকাল্লাফ (প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন) না হলে তাকে তার অপরাধের জন্য সীমালঙ্ঘনকারীরূপে বিবেচনা করা যাবে না। এ কারণে মানবদেহের বিরুদ্ধে তার যে কোন অপরাধ কিসাসযোগ্য হবে না। তবে তা'যীরের আওতায় তার অপরাধের জন্য যে কোন উপযুক্ত শাস্তি দেয়া যাবে। ১০৬

টিকাঃ
১০৬. আদ-দাসূকী, আল-হাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ.২৫২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ধর্মগত মিল থাকা

📄 ধর্মগত মিল থাকা


মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবার জন্য অপরাধী ও আহত ব্যক্তির মধ্যে ধর্মগত মিল থাকা শর্ত কি না - তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। হানাফীগণের দৃষ্টিতে- মুসলিম ও অমুসলিমের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের ক্ষতিপূরণ দানের পরিমাণের মধ্যে যেহেতু কোন ধরনের তারতম্য করা হয় না, তাই মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধের কিসাস গ্রহণের ক্ষেত্রেও কোনরূপ তারতম্য বিধেয় নয়। অতএব, মুসলিম ও অমুসলিম পরস্পরের মধ্যে কিসাসের বিধান কার্যকর হবে। মালিকীগণের প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী মুসলিমের জন্য অমুসলিম থেকে তার কোন অপরাধের কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। শাফি'ঈ ইমামগণের মতে- কোন মুসলিমের হাত-পা কর্তনের অপরাধে অমুসলিম থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে। তবে কোন অমুসলিমের হাত-পা কর্তনের অপরাধে মুসলিম থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না। হাম্বলী ইমামগণও এ মত পোষণ করেন। ১০৭

টিকাঃ
১০৭. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১১২; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩৫; আল- মাওস্'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১৬, পৃ.৬৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.২৫২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 লিঙ্গের মিল থাকা

📄 লিঙ্গের মিল থাকা


অধিকাংশ ইমামের দৃষ্টিতে মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবার জন্য অপরাধী ও আহত ব্যক্তির মধ্যে লিঙ্গের মিল থাকা শর্ত নয়। অতএব নারী ও পুরুষ পরস্পরের মধ্যে কিসাস জারি হবে।
তবে হানাফীগণের প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কিসাস বাধ্যতামূলক হবার জন্য অপরাধী ও আহত ব্যক্তির মধ্যে লিঙ্গের মিল থাকা শর্ত। যদি দুজনেই পুরুষ কিংবা নারী হয়, তা হলে কিসাস ওয়াজিব হবে। যদি এক জন পুরুষ, অপর জন নারী হয়, তা হল কিসাস বাধ্যতামূলক হবে না। তাঁদের বক্তব্য হল- কিসাসের জন্য শর্ত হল দুজনের সংশ্লিষ্ট অঙ্গের মধ্যে পূর্ণ সমতা বিদ্যমান থাকা দরকার। নারী ও পুরুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিয়ে যেহেতু তারতম্য রয়েছে, তাই একজনের অঙ্গের পরিবর্তে অন্যজনের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ বদলারূপে নেয়া যাবে না। তবে কোন মহিলা যদি কোন পুরুষের হাত বা অন্য কোন অঙ্গ কেটে ফেলে, তা হলে ক্ষতিপূরণের পরিবর্তে কিসাস গ্রহণের অধিকার পুরুষের রয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) বলেন, " শিজাজ (মুখমণ্ডলে আঘাত বা মাথা ফাটানো)-এর যে সব অবস্থায় কিসাস জারি হয়, সে সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ পরস্পরের মধ্যেও কিসাস কার্যকর হবে। তাঁর কথা হল, শিজাজের শাস্তির উদ্দেশ্য কোন অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করা নয়; কেবল সামাজিকভাবে অপদস্থ করাই উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে নারী- পুরুষের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই। পক্ষান্তরে হাত-পা কর্তনের কিসাসের মধ্যে অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করা হয়। আর উভয়ের হাত-পায়ের কার্যক্ষমতার মধ্যে যেহেতু তারতম্য রয়েছে, তাই উভয়ের এ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতিপূরণের পরিমাণের মধ্যেও পার্থক্য হবে। " ১০৮

টিকাঃ
১০৮. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১১২; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩৫-৬; আল- মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১৬, পৃ.৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00