📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কাফফারা

📄 কাফফারা


'ভুলবশত হত্যা' ও 'প্রায় ভুলবশত হত্যা'র ক্ষেত্রে কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হবে। কাফফারার উদ্দেশ্য হল পাপের ক্ষমা পাওয়া। তবে ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড যেহেতু অত্যন্ত বড় ও কঠিন এবং এ কাজের প্রতিফল খুবই ভয়াবহ, তাই এরূপ হত্যাকাণ্ডে কাফফারার কোন অবকাশ নেই। কিন্তু 'প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা'র ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হবে। এটা হানাফী ও মালিকীগণের অভিমত। ৯৭ শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে- সব ধরনের হত্যায় কাফফারা ওয়াজিব হবে। তাঁদের কথা হল- ইচ্ছাকৃত হত্যায় যেহেতু পাপের স্খলন অধিকতর প্রয়োজন, তাই ভুলবশত হত্যার চাইতে এরূপ হত্যাকাণ্ডে কাফফারা আরো অধিক কঠোরভাবে ওয়াজিব হওয়াই যুক্তিযুক্ত। ৯৮
হত্যার কাফফারা হচ্ছে একজন ঈমানদার দাস বা দাসী মুক্ত করা। তা পাওয়া না গেলে একাধারে দু মাস রোযা রাখা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন, من قتل مؤمنا خطأ فتحرير رقبة مؤمنة ودية مسلمة إلى أهله إلا أن يصدقوا فإن كان من قوم عدو لكم و هو مؤمن فتحرير رقبة مؤمنة و إن كان من قوم بينكم و بينهم ميثاق فدية مسلمة إلى أهله و تحرير رقبة مؤمنة فمن لم يجد فصيام شهرين متتابعين توبة من الله و كان الله عليما حكيما - “এবং কেউ কোন মু'মিনকে ভুলবশত হত্যা করলে একজন ঈমানদার দাস বা দাসী মুক্ত করা এবং নিহতের পরিবারকে দিয়াত প্রদান করা বিধেয়, যদি না তারা ক্ষমা করে। যদি সে তোমাদের শত্রুপক্ষের লোক হয় এবং মু'মিন হয় তবে একজন ঈমানদার দাস মুক্ত করা বিধেয়। নিহত ব্যক্তি যদি তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ (অমুসলিম) সম্প্রদায়ের লোক হয় তবে তার পরিবারকে দিয়াত প্রদান এবং একজন ঈমানদার দাস মুক্ত করা বিধেয়। যে তা পারবে না তাকে একাধারে দুমাস রোযা রাখতে হবে।” ৯৯
কোন মুসলিম অপর কোন মুসলিম বা ইসলামী রাষ্ট্রের কোন অমুলিম নাগরিককে হত্যা করলে হত্যাকারীকে উক্ত কাফফারা আদায় করতে হবে।

টিকাঃ
৯৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৭, পৃ.৮৪; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ. ২৭১-৫
৯৮. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ৪০২; ইবনু মুফলিহ, ফুরু', খ.৬, পৃ.৪৪
৯৯. আল-কুর'আন, ৪ (সূরা আন-নিসা): ৯২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 উত্তরাধিকার স্বত্ব থেকে বঞ্চিত করা

📄 উত্তরাধিকার স্বত্ব থেকে বঞ্চিত করা


হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من قتل قتيلا فإنه لا يرثه و إن لم يكن له وارث غيره و إن كان والده وولده فليس لقاتل ميراث - “যে ব্যক্তি অপর কোন লোককে হত্যা করল, সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে না, যদিও তার অন্য কোন ওয়ারিছ না থাকে কিংবা সে তার পিতা বা পুত্র হয়। অতএব হত্যাকারীর জন্য কোন উত্তরাধিকারস্বত্ব নেই। "১০০ 'ইচ্ছাকৃত হত্যা'য় হত্যাকারী মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে- এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। তবে অন্যান্য প্রকারের হত্যার ক্ষেত্রে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
হানাফীগণের মতে- সর্বপ্রকারের হত্যায় হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে, যদি সে গায়র মুকাল্লাফ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল) না হয়। তবে 'কারণবশত হত্যা' এবং 'অধিকারজনিত হত্যা'র জন্য এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
মালিকীগণের মতে- কেবল 'ইচ্ছাকৃত হত্যা'র ক্ষেত্রেই হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে। 'ভুলবশত হত্যা' ও অন্যান্য হত্যার জন্য এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।
শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে- কিসাস বা দিয়াতযোগ্য যে কোন ধরনের হত্যার ক্ষেত্রেই হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির মীরাছ থেকে বঞ্চিত হবে, এমন কি যদি সে গায়র মুকাল্লাফ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল) ও হয়। ১০১

টিকাঃ
১০০. আল-বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১২০২২; 'আবদুর রযযাক, আল-মুহান্নাফ, হা.নং: ১৭৭৮৭, ১৭৭৯৮
১০১. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.২৪০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৬, পৃ. ২৪৪-৫

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অসিয়্যাত থেকে বঞ্চিত করা

📄 অসিয়্যাত থেকে বঞ্চিত করা


হত্যাকারী নিহত ব্যক্তির অসিয়্যাত থেকে বঞ্চিত হবে। হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা (রহ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের মতে হত্যাকারী - ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করুক কিংবা ভুলবশত হত্যা করুক- সে অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا وصية لقاتل - "হত্যাকারীর জন্য অসিয়‍্যাত নেই। "১০২ মালিকীগণের মতে- অসিয়‍্যাতের পর পরই অসিয়‍্যাতকারী মৃত্যুবরণ করলে হত্যাকারী অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত হবে, যদি সে সরাসরি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পক্ষান্তরে অসিয়‍্যাতকারী আক্রান্ত হবার দীর্ঘ দিন পর মারা গেলে অসিয়‍্যাত বাতিল হবে না, যদি সে আঘাতকারীকে চেনার পরও অসিয়‍্যাত করে। তবে আঘাতকারীকে না জেনে অসিয়‍্যাত করলে অসিয়‍্যাত বাতিল হবে কি না- এ বিষয়ে তাঁদের দুটি মত রয়েছে।
হাম্বলীগণের মতে- কিসাস কিংবা কাফফারাযোগ্য যে কোন হত্যা হত্যাকারীকে অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত করবে। অসিয়‍্যাত চাই ঘটনা ঘটার আগে হোক কিংবা পরে। তাঁদের অপর একটি বক্তব্য অনুযায়ী অসিয়‍্যাতের পরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত হবে আর পূর্বে ঘটে থাকলে বঞ্চিত হবে না। তাঁদের তৃতীয় অন্য একটি মতও রয়েছে। তা হল কোন অবস্থাতেই হত্যাকারী অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত হবে না। এটা শাফি'ঈগণের দুটি মতের মধ্যে স্পষ্টতম অভিমত। তাঁদের অপর মতটি হল- হত্যাকারী অসিয়‍্যাত থেকে বঞ্চিত থাকবে। ১০৩

টিকাঃ
১০২. ইবনু হাজর আল আসকালানী, আদ-দিরায়াহ... হা.নং: ১০৫৬
১০৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৭, পৃ.১৭৬-৮; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩৩৯-৩৪০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৬, পৃ.১২৬; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.৭, পৃ.২৩৩-৪; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৩৪৭-৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00