📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তি

📄 স্বীকারোক্তি


হত্যাকারী স্বেচ্ছায় হত্যার স্বীকারোক্তি প্রদান করলে হত্যা প্রমাণিত হবে। তবে কারো চাপের মুখে একান্ত বাধ্য হয়ে অপরাধ স্বীকার করে নিলে তা দ্বারা হত্যা প্রমাণিত হবে না। ৮০

টিকাঃ
৮০. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ.৮৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সাক্ষ্যপ্রমাণ

📄 সাক্ষ্যপ্রমাণ


দুজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা হত্যা প্রমাণিত হবে। একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার সাক্ষ্য কিসাসযোগ্য হত্যা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে ভুলবশত হত্যা এবং কিসাসযোগ্য নয়- এমন সকল হত্যার ক্ষেত্রে একজন পুরুষের সাথে দুজন মহিলার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে। ৮১ উল্লেখ্য যে, সাক্ষীদের সাক্ষ্যে পূর্ণ মিল থাকতে হবে। যদি হত্যার স্থান, সময় ও উপকরণ প্রভৃতি ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাক্ষীর সাক্ষ্যের মধ্যে কোন রূপ পার্থক্য দেখা দেয়, তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্যে গরমিল হলে তা ধর্তব্য হবে না। ৮২

টিকাঃ
৮১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.১০৫
৮২. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১২৩; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ. ২৬৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 শপথ

📄 শপথ


শপথ (কসামাহ) ৮৩ দ্বারাও হত্যা প্রমাণ করা করা যেতে পারে। শাফি'ঈগণের মতে- শপথ দ্বারা প্রমাণিত ইচ্ছাকৃত হত্যার জন্য কিসাস এবং ভুলবশত হত্যার জন্য দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। হানাফী ও হাম্বলীগণের মতে- শপথ দ্বারা প্রমাণিত কোন হত্যার জন্য কিসাস কার্যকর করা যাবে না; কেবল দিয়াতই বাধ্যতামূলক হবে। ৮৪
এর নিয়ম হল - কোন ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় কোন জনপদে পাওয়া গেলে এবং তার হত্যাকারী জানা না গেলে অথবা কোন ঘরে কিংবা কারো কোন খোলা জায়গায় একদল লোক একত্রিত হয়ে কোন হত্যাকাণ্ড ঘটাল এবং এরপর তারা সকলে সটকে পড়ল, তাহলে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছরা সে জনপদের বা সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চাশজন লোককে বেছে নেবে, যাদের মধ্যে হত্যাকারী থাকার সম্ভাবনা বিদ্যমান রয়েছে অথবা যাদের সাথে নিহত ব্যক্তির শত্রুতা রয়েছে বলে জানা যাবে। তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর নামে এ মর্মে শপথ করবে যে, তারা তাকে হত্যা করে নি। উপরন্তু, তারা জানে না যে, হত্যাকারী কে? যদি তারা শপথ করে, তাহলে তারা দিয়াত প্রদান করা থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। আর যদি সবাই শপথ করতে অস্বীকার করে, তাহলে সবার ওপরই দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। ৮৬ যদি সাধারণ্যের চলাচল বা প্রবেশের জায়গায় (যেমন- বড় মসজিদ ও হাইওয়ে প্রভৃতি) কোন ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে শপথের এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। বায়তুল মাল থেকে তার সম্পূর্ণ দিয়াত পরিশোধ করতে হবে। ৮৭
যদি শহরের কোন এলাকায় বা রাস্তায় কিংবা শহরের কোন নিকটবর্তী এলাকায় কোন ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তাহলে শহরের সংশ্লিষ্ট এলাকার সকল লোককেই শপথ করতে হবে। যদি দুটি শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় কোন ব্যক্তিকে নিহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তাহলে দূরত্বের দিক থেকে যে শহরের নিকটবর্তী এলাকায় লাশ পাওয়া যাবে, সে শহরের বাসিন্দাদেরকে শপথ করতে হবে। ৮৮

টিকাঃ
৮৩. হত্যা প্রমাণের উদ্দেশ্য নির্ধারিত নিয়মে শপথ করাকে ইসলামী শাস্তি আইনের পরিভাষায় 'কাসামাহ' বলা হয়।
৮৪. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৮৪
৮৫. এটা হানাফীগণের অভিমত। অন্যান্য মাযহাবের ইমামগণের মতে শপথের নিয়ম হল- নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছরা প্রথমে পঞ্চাশ বার এ বলে শপথ করবে যে, এ ব্যক্তিই হত্যা করেছে। যদি তারা শপথ করতে অস্বীকার করে, তাহলে অভিযুক্তদেরকে শপথ করতে বলা হবে। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৩৮২)
৮৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.১০৬-৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৯১-২
৮৭. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১৭৪
৮৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.১১৯-১২০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৯২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 লক্ষণ প্রমাণ

📄 লক্ষণ প্রমাণ


ইবনুল কাইয়িম (রহ) ও ইবনু ফারহুন (রহ) প্রমুখের মতে বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারাও হত্যা প্রমাণ করা যাবে, যদি তাতে সুস্পষ্টভাবে হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- কোন ব্যক্তিকে নিহত ব্যক্তির পাশে তরবারী কিংবা অস্ত্রসহ অথবা রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলে অথবা কাউকে তার পরিচিত শত্রুর ঘরে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেলে কিংবা নিহত ব্যক্তি মুমূর্ষু অবস্থায় 'অমুক আমাকে হত্যা করেছে'- এ মর্মে ঘোষণা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি হত্যাকারীরূপে ধর্তব্য হবে। তাদের মতে- লক্ষণপ্রমাণকে যদি প্রামাণিক দলীল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া না হয়, তা হলে বহু অধিকারই ক্ষুণ্ণ হবে। যুলম ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে যাবে। তবে অধিকাংশ ইমামের মতে- সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবেই কিসাস বা দিয়াতযোগ্য হত্যা প্রমাণ করা যাবে না। তবে শক্তিশালী কোন লক্ষণ পাওয়া গেলে শপথের উপর্যুক্ত নিয়ম অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণ করা যাবে। ৮৯

টিকাঃ
৮৯. ইবনুল কাইয়িম, আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ, পৃ.৩-৪, ৮৪; ইবনু ফারহুন, তাবছিরাতুল হুক্কাম ...খ.১, পৃ.১১৮, ১৪৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00