📄 কিসাসের দাবীদার বিদ্যমান থাকা
কিসাস কার্যকর করার জন্য নিহত ব্যক্তির রক্তের দাবীদার বিদ্যমান থাকতে হবে। যদি রক্তের কোন দাবীদারই খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড হবে না। উল্লেখ্য যে, ওয়ারিছরাই একমাত্র কিসাসের আওতায় মৃত্যুদণ্ড দাবী করার বৈধ অধিকারী। তারা ছাড়া অন্য কেউ কিসাস দাবী করলে তা কার্যকর করা যাবে না। ৬৮
তবে নিহত ব্যক্তি লাওয়ারিছ হলে অর্থাৎ তার কোন ওয়ারিছ না থাকলে অধিকাংশ ইমামের মতে সরকারই কিসাসের দাবীদার হবে। সরকার ইচ্ছে করলে হত্যাকারীকে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে এবং ইচ্ছে করলে ক্ষমাও করতে পারে। ৬৯ হযরত 'আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, السُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ - "যার অভিভাবক নেই শাসকই তার অভিভাবক।" ৭০
টিকাঃ
৬৮. নিহত ব্যক্তির প্রত্যেক ওয়ারিছই- মূল ফুরূদ হোক বা 'আসাবাহ, পুরুষ হোক বা নারী, ছোট হোক বা বড়- কিসাস দাবি করার বেলায় পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কিসাসের দাবী পেশ করার জন্য সকলের একত্রিত হবার প্রয়োজন নেই। তাদের যে কোন একজনের দাবিও ন্যায্য বলে গণ্য হবে।
৬৯. ইমাম আবু ইউসূফ (রহ.)-এর মতে- ইসলামী রাষ্ট্রে নিহত ব্যক্তির জন্য সরকারের কিসাস দাবী করার অধিকার নেই। মালিকীগণের মতে, সরকারের কিসাস দাবী করার অধিকার রয়েছে; তবে তার ক্ষমা করার অধিকার নেই। (আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.৩৩, পৃ. ২৭২)
৭০. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা.নং : ২৫৩৬৫; ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুহান্নাফ, হা.নং: ৩৬১১৭
📄 রক্তের দাবীদারদের শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ উপযুক্ততা থাকা
নিহত ব্যক্তির রক্তের দাবীদারদের প্রত্যেককে পূর্ণ উপযুক্ত হতে হবে অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে। যদি রক্তের দাবীদাররা সকলেই উপযুক্ত না হয় বা তাদের মধ্যে কয়েকজন উপযুক্ত, অপর কয়েকজন উপযুক্ত না হয়, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে- তাদের মধ্যকার উপযুক্তরা অনুপযুক্তদের অভিভাবক বলে গণ্য হবে এবং তারা কিসাস দাবী করতে পারবে। কেননা তাঁর মতে- ওয়ারিছদের প্রত্যেকেরই কিসাসের দাবী করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। শাফি'ঈ ও হাম্বলী মতাবলম্বী ইমামগণ এবং হানাফী ইমামগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) ও মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের মতে, রক্তের দাবীদাররা সকলেই অনুপযুক্ত হলে কিংবা কেউ উপযুক্ত আর কেউ অনুপযুক্ত হলে যেহেতু এ সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাদের কেউ হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেবে এবং এর ফলে মৃত্যুদণ্ড রহিত হবে, তাই কিসাস কার্যকর করার জন্য ছোটদের বড় হওয়া পর্যন্ত এবং পাগলদের বিবেক-বুদ্ধি ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৭১
টিকাঃ
৭১. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৪১-৫; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৮, পৃ.৩৪২; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১০; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.৩৩, পৃ. ২৭৩-৪
📄 নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের পক্ষ থেকে কিসাসের দাবী থাকা
কিসাস বাধ্যতামূলক হবার জন্য নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের পক্ষ থেকে কিসাসের দাবী থাকতে হবে। অতএব, তাদের পক্ষ থেকে কিসাসের দাবী করা না হলে কিসাস রহিত হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “ইযহাকু হত্যা অবশ্যই সদগুণ العمد قود إلا أن يعفو ولي المقتول বদলা গ্রহণযোগ্য। তবে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছরা ক্ষমা করে দিলে ভিন্ন কথা।” ৭২ তদুপরি কিসাস কার্যকর করার জন্য কিসাসের দাবিতে সকল ওয়ারিছের একমত হতে হবে। যদি তাদের একজনও হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয় বা দিয়াত বা মালের বিনিময়ে সমঝোতা করতে চায়, তাহলে কিসাস রহিত হয়ে যাবে; দিয়াত ওয়াজিব হবে। ৭৩
টিকাঃ
৭২. দারাকুতনী, আস-সুনান, (কিতাবুল হুদূদ..), হা.নং: ৪৫; ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুহান্নাফ, হা.নং: ২৭৭৬৬
৭৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৪৩
📄 নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের সকলেই উপস্থিত থাকা
কিসাস কার্যকর করার জন্য সকল ওয়ারিছের উপস্থিত থাকা জরুরী। ওয়ারিছদের কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কিংবা নিশ্চিতভাবে তার মতামত জানার চেষ্টা করতে হবে। কারণ অনুপস্থিত ওয়ারিছ হত্যাকারীকে হয়ত বা ক্ষমা করে দিতে পারে বা অর্থের বিনিময়ে হত্যাকারীর সাথে সমঝোতা করতে পারে। এ অবস্থায় কিসাস কার্যকর করা হলে তা অনুপস্থিত ওয়ারিছের অধিকারে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপরূপে গণ্য হবে।