📄 ধারালো নয়- এ ধরনের যে কোন অস্ত্র বা উপকরণ দিয়ে হত্যা করা
ধারালো নয়-এ ধরনের যে কোন ভারী অস্ত্র বা উপকরণ যেমন বড় পাথর, হাতুড়ী, নেহাই ও বৃহৎ কাষ্ঠখণ্ড প্রভৃতির সাহায্যে হত্যা করা হলে তা 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য হবে। এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) ও মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখও এ মত পোষণ করেন। বর্ণিত আছে যে, জনৈক ইয়াহুদী এক মহিলার মাথা পাথর দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছিল। এ অপরাধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)ও ঐ ইয়াহুদীর মাথা দু'পাথরের মধ্যে গুড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।" এ হাদীস থেকে জানা যায়, যে কোন ভারী অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হলেও কিসাসের আওতায় হত্যাকারীর ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে যে কোন ভারী অস্ত্র বা উপকরণ দিয়ে হত্যা করা হলে হত্যাকারীর ওপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না; তবে দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। তাঁর দলীল হল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ১ إن في قتيل عمد الخطأ ، قتيل السوط والعصا و الحجر مائة من الإبل.
"অসতর্কতামূলক ইচ্ছাকৃত হত্যায় নিহত তথা বেত, লাঠি ও পাথরের আঘাতে নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একশতটি উষ্ট্র দিতে হবে।" এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বেত, লাঠি ও পাথর প্রভৃতি দ্বারা হত্যাকে 'অসতর্কতামূলক ইচ্ছাকৃত হত্যা' নামে অভিহিত করেছেন এবং এ ক্ষেত্রে কিসাস নয়; দিয়াত বাধ্যতামূলক হবার কথাই বলেছেন। অতএব এ হাদীস থেকে জানা যায় যে, ধারালো নয়- এ ধরনের যে কোন অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হলে তাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না; তবে দিয়াত বাধ্যতামূলক হবে। আমাদের বর্তমান সময়ে যেহেতু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হত্যার নিত্য নতুন কৌশলও উদ্ভাবিত হয়েছে, তাই এ ক্ষেত্রে আমি ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতের চাইতে জামহুরের মতকেই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মনে করি।
তবে ধারালো নয়-এ ধরনের যে কোন হালকা বা ক্ষুদ্র অস্ত্র বা উপকরণ যেমন ছোট লাঠি বা বেত কিংবা ছোট পাথর দ্বারা আঘাত করে কিংবা শরীরের নাজুক স্থানে প্রচণ্ড কিল-ঘুষি মেরে বা জোরে অণ্ডকোষ মোচড়িয়ে কাউকে হত্যা করা হলে তাও অধিকাংশ ইমামের মতে 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য করা হবে। কিন্তু হানাফীগণের মতে, তা 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' নয়; 'প্রায় ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য করা হবে।
টিকাঃ
৩০. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ৬৪৮৩, ৬৪৮৫; মুসলিম, (কিতাবুল কাসামাহ.), হা.নং: ১৬৭২
৩১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১৫৪২৫, ১৫৪২৬
৩২. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ৬; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ. ১২২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ. ২০৯
৩৩. ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর বর্ণিত দলীলে বেত ও লাঠির সাথে পাথরের কথা উল্লেখ রয়েছে। এ থেকে জানা যায় যে, এখানে পাথর দ্বারা ক্ষুদ্র পাথরই উদ্দেশ্য; বড় পাথর নয়।
📄 গুলি বা বোমা মেরে হত্যা করা
বন্দুকের গুলির সাহায্যে কিংবা বোমা মেরেও কাউকে হত্যা করা হলে তা 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য করা হবে। কেননা গুলি নিক্ষেপ কিংবা বোমা মারার পেছনে উদ্দেশ্য হত্যাই হয়ে থাকে; শিক্ষা দান উদ্দেশ্য হয় না।
📄 শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা
গলায় ফাঁস লাগিয়ে কিংবা কোন কিছুর (যেমন- হাত, রুমাল ও বালিশ প্রভৃতি) সাহায্যে মুখ ও নাক চেপে ধরে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হলে তাও 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য হবে। এটাও অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) ও মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখও এ মত পোষণ করেন।
📄 ধ্বংসের পথে ফেলে হত্যা করা
ধ্বংসের পথে ফেলে কাউকে হত্যা করা হলে তাও 'ইচ্ছাকৃত হত্যা' রূপে গণ্য হবে। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। এ ধরনের হত্যার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নে প্রদত্ত হল-