📄 ভুলবশত হত্যা (قتل خطا)
নিষিদ্ধ নয়- এমন কোন কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় সতকর্তা অবলম্বন না করার কারণে ভুলবশত হত্যা সংঘটিত হলে তাকে 'ভুলবশত হত্যা' বলা হয় এবং এর জন্য দিয়াত ও কাফফারা ওয়াজিব হবে। এ ভুল কর্তার ধারণার মধ্যেও হতে পারে, কাজের মধ্যেও হতে পারে এবং ধারণা ও কাজ উভয়ের মধ্যেও হতে পারে।
১. কর্তার ধারণায় ভুল যেমন- শিকারী কোন মানুষকে শিকারের পশু মনে করে তার প্রতি তীর বা গুলি নিক্ষেপ করল, পরে দেখা গেল যে, সে মানুষ, শিকারের প্রাণি নয়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তিকে শত্রু সৈন্য মনে করে তীর নিক্ষেপ করল, পরে দেখা গেল যে, সে শত্রু সৈন্য নয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর কাজের মধ্যে ভুল হয়নি; কারণ সে যা মারতে চেয়েছে তা-ই মেরেছে; বরং ভুল হয়েছে তার ধারণা বা অনুমানের মধ্যে।
২. কর্তার কাজে ভুল যেমন এক শিকারী একটি হরিণের প্রতি গুলি ছুঁড়ল; কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা ঝোপের মধ্যে কোন কাজে রত কোন মানুষের দেহে বিদ্ধ হল এবং এর ফলে সে মারা গেল। অনুরূপভাবে শত্রুসৈন্যকে টার্গেট করে তীর নিক্ষেপ করল বা গুলি ছুঁড়ল; কিন্তু তীর বা গুলিটি লক্ষ্যচ্যুত হয়ে অপর ব্যক্তির ওপর আঘাত করল এবং এর ফলে সে মারা গেল।
৩. ধারণা ও কাজ- উভয়ে ভুল যেমন- শিকারী কোন মানুষকে শিকারের পশু মনে করে তার প্রতি তীর বা গুলি নিক্ষেপ করল; কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অপর ব্যক্তির দেহে বিদ্ধ হল এবং এর ফলে সে মারা গেল। এ ক্ষেত্রে সে মানুষকে শিকারের পশু মনে করে নিজের অনুমানে ভুল করেছে এবং যার প্রতি তীর বা গুলি নিক্ষেপ করেছে তা তার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির শরীরে গিয়ে লাগায় সে কাজেও ভুল করেছে।
টিকাঃ
১৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৩৪; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১০০-১
📄 প্রায় ভুলবশত হত্যা (قتل شبه خطا)
কোন ব্যক্তির কোন কাজের দ্বারা হত্যা সংঘটিত হলে তাকে 'প্রায় ভুলবশত হত্যা' বলা হয়। এ ক্ষেত্রে অপরাধীর কোন ধরনের সংকল্প ছাড়াই হত্যা সংঘটিত হয় বলে একে 'প্রায় ভুলবশত হত্যা' নামে অভিহিত করা হয়। যেমন- কোন ব্যক্তি ঘুমন্ত অবস্থায় পার্শ্ব পরিবর্তন করার সময় অপর কোন ব্যক্তির ওপর উল্টে পড়ল এবং এর ফলে অপর ব্যক্তিটি মারা গেল। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি ঘটনাক্রমে কোন উচ্চ স্থান থেকে গড়িয়ে অপর কোন ব্যক্তির ওপর পড়ল এবং এর ফলে অপর ব্যক্তিটি মারা গেল। এ প্রকারের হত্যা একদিকে যেহেতু অপরাধীর অসতর্কতার কারণেই সংঘটিত হয়েছে, তাই এটা ভুলবশত হত্যার মধ্যে গণ্য হবে এবং এ জন্য দিয়াত ওয়াজিব হবে। অপরদিকে যেহেতু অপরাধীর কর্ম ও হত্যার মধ্যে সরাসরি 'কারণ'-এর সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, তাই এ জন্য কাফফারাও ওয়াজিব হবে。
টিকাঃ
১৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৬, ১০৪
📄 কারণবশত হত্যা (قتل بالتسبب)
কোন ব্যক্তির প্রয়োজনীয় সতর্কতার অভাবজনিত কাজের ফলে অন্য ব্যক্তির প্রাণনাশ হলে তাকে 'কারণজনিত হত্যা' বলা হয়। যেমন- কোন ব্যক্তি যাতায়াতের রাস্তার পার্শ্বে গর্ত খনন করল এবং তাতে কোন পথচারী পড়ে গিয়ে মারা গেল অথবা কেউ পথের পার্শ্বে একটি প্রকাণ্ড পাথর রাখল এবং তার সাথে পথচারী ধাক্কা খেয়ে মারা গেল। এ প্রকারের হত্যায় অপরাধী সরাসরি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে না; বরং তার কোন সম্পাদিত কাজই হত্যার কারণ হয়। এখানে অপরাধী যে কাজটি করে তা তার জন্য বৈধ; তবে সে কর্ম সম্পাদনে সীমা লঙ্ঘন করেছে, যার ফলে তার কর্মটি হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ প্রকারের হত্যায় মৃত্যুদণ্ড হবে না এবং কাফফারাও ওয়াজিব হবে না। তবে দিয়াত ওয়াজিব হবে।
এ প্রকারের হত্যা যদিও একদিক থেকে 'ভুলবশত হত্যা'র মতোই; কিন্তু অন্য দিক থেকে তা 'ভুলবশত হত্যা'র আওতায় পড়ে না। যেমন- অপরাধীর খননকার্যের দ্বারা কাউকেও হত্যা করার ইচ্ছা তার ছিল না; বরং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ দিক থেকে তা 'ভুলবশত হত্যা'র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে 'ভুলবশত হত্যা'র ক্ষেত্রে অপরাধীর কাজের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে হত্যা সংঘটিত হয়, আর এ ক্ষেত্রে তার কোন সম্পাদিত কাজের কারণেই হত্যা সংঘটিত হয়।
টিকাঃ
১৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৬, পৃ.৬৬; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.২৩৯; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১০২