📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হত্যার অপরাধ

📄 হত্যার অপরাধ


হত্যা ( القتل ) বলতে কোন কিছুর আঘাতে, অস্ত্রের সাহায্যে, পাথর নিক্ষেপে, বিষ প্রয়োগে বা অন্য কোন উপায়ে মানুষের প্রাণনাশ করাকে বোঝানো হয়। মানব হত্যা একটি মানবতা বিধ্বংসী জঘন্যতম অপরাধ। যখন কেউ তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে এ অপরাধ করে, তখন সে গোটা মানবতার সাথে শত্রুতা করে। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো যেমন গোটা মানব জাতির জীবন বাঁচানোর সমতুল্য, তেমনি একজন মানুষের জীবন সংহার গোটা মানব জাতির জীবন সংহারের সমতুল্য। ইসলামের দৃষ্টিতে শিরকের অমার্জনীয় অপরাধের পর মানব হত্যাই সবচাইতে বড় ও মারাত্মক অপরাধ। এ কারণেই ইসলামী শরী'আতে এ অপরাধের বীভৎসতা প্রকট করে তোলা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মানব মনে তীব্র ঘৃণা ও বিদ্বেষ জাগাতে চেষ্টা করা হয়েছে আর সেই সাথে ইসলামী আইনে এর জন্য ন্যায়-বিচারভিত্তিক কঠিন শাস্তির বিধান দেয়া হয়েছে।
و من يقتل مؤمنا فجزاؤه جهنم خالدا فيها و غضب الله عليه و لعنه و أعد له عذابا عظيما - “যে কোন লোক কোন মু'মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হচ্ছে জাহান্নাম। সে চিরকালই সেখানে থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হন এবং তার প্রতি অভিশাপ করেন। উপরন্তু তিনি তার জন্য কঠিন আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لزوال الدنيا أهون على الله من قتل مؤمن بغير حق - "কোন মু'মিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চাইতে দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যাওয়াই আল্লাহর নিকট অধিকতর সহজ।"

টিকাঃ
৭. আল-কুর'আন, ৫ (সূরা আল-মা'ইদা) : ৩২
৮. আল-কুর'আন, ৪ (সূরা আন-নিসা) : ৯৩
৯. আত্ তিরমিযী, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ১৩৯৫; ইবনু মাজাহ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ২৬১৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি

📄 ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি


'ইচ্ছাকৃত হত্যা'র শাস্তিস্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করা হবে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড হবে। - يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم القصاص في القتلى "হে, মু'মিনগণ! নিহতদের ব্যাপারে তেমাদের জন্য কিসাসের বিধান দেয়া হয়েছে।" তিনি আরো বলেন, وكتبنا عليهم فيها أن النفس بالنفس - "তাদের জন্য আমরা তাতে বিধান নির্ধারণ করেছিলাম যে, প্রাণের বদলে প্রাণ...।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من قتل عمدا فهو قود - "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করেছে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।"

টিকাঃ
১৬. আল-কুর'আন, ২ (সূরা আল-বাকারাহ): ১৭৮
১৭. আল-কুর'আন, ৫ (সূরা আল-মা'ইদা): ৩৪
১৮. আবূ দাউদ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ৪৫৩৯; নাসাঈ, আস-সুনান আল-কুবরা, (কিতাবুল কাসামাহ), হা.নং: ৬৯৯৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হত্যার বদলা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ওয়াজিব হবার শর্তাবলী

📄 হত্যার বদলা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ওয়াজিব হবার শর্তাবলী


হত্যার বদলা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ওয়াজিব হবার জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। এগুলো পাওয়া গেলেই হত্যার কিসাসস্বরূপ মৃত্যুদণ্ডদান বাধ্যতামূলক হবে। এ সব শর্তের মধ্যে কয়েকটি হত্যাকারীর সাথে, আর কয়েকটি নিহত ব্যক্তির সাথে, আর কয়েকটি মৃত্যুদণ্ড দাবীকারীদের সাথে, আর কতিপয় হত্যাকর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ সব শর্তের মধ্যে কতিপয় শর্তের ক্ষেত্রে সকল ইমামই ঐকমত্য পোষণ করেছেন আবার কোন কোন শর্তের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উপায়

📄 মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উপায়


তরবারি দ্বারাই হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, لا قود إلا بالسيف "কেবল তরবারি দ্বারাই কিসাস কার্যকর করতে হবে।" ৯০ তদুপরি তরবারি খুবই তীক্ষ্ণ ও শাণিত হতে হবে, যাতে যার ওপর তা চালানো হবে তাকে খুব দ্রুত ঠাণ্ডা করে দেয়। সে অন্যভাবে কষ্ট পাবে না। তাছাড়া লোকেরা তরবারিকে খুব বেশি ভয় পায়। ফলে তা জীবিত লোকদের জন্য একটা ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং নিহত ব্যক্তির ওয়ারিছদের ক্রোধাগ্নিও নির্বাপিত করে।
তরবারি ছাড়া অন্য কিছুর সাহায্যে হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বৈধ নয়। এমনকি হত্যাকারী কোন ব্যক্তিকে নির্যাতন করে হত্যা করলেও তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা যাবে না। এটা হানাফী ইমামগণের অভিমত। অধিকাংশ হাম্বলী ইমামও এ মত পোষণ করেন। তাদের মতানুযায়ী কিসাসের বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এ কারণে কিসাস কার্যকর করার পূর্বে তাকে কোনরূপ মারধর করা, তার ওপর নির্যাতন চালানো, কারাগারের মধ্যে কষ্ট দেয়া বা ক্ষুৎ-পিপাসায় ছটফট করতে বাধ্য করা এবং কিসাস কার্যকর করার পর তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ টুকরা টুকরা করা ও দেহ বিকৃত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি হাদীসে ভোঁতা তরবারি দ্বারা হত্যা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, إن الله " كتب الإحسان على كل شيئ فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة. বস্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। অতএব যখন তোমরা (কিসাসস্বরূপ) হত্যা করবে, তখন উত্তমভাবে হত্যাকার্য সম্পন্ন করবে।” ৯১
মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতে, হত্যার কিসাসস্বরূপ যে হত্যাকার্য হবে, তা ঠিক সেভাবেই হতে হবে যেভাবে প্রথম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। আল্লাহ তা'আলা বলেন, إن عاقبتم فعاقبوا بمثل ما عوقبتم به - "তোমরা যখন প্রতিশোধস্বরূপ শাস্তি দেবে, তখন তোমরা তা ঠিক সেভাবেই করবে, যেভাবে তোমরা নিজেরা শাস্তি পেয়েছ।” ৯২ বর্ণিত রয়েছে, জনৈক ইয়াহুদী দুটি পাথরের মাঝখানে রেখে এক মুসলিম মেয়ের মস্তক চূর্ণ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কিসাসস্বরূপ ঐ ইয়াহুদীটির মস্তক দুটি প্রস্তরের মাঝে রেখে ছেঁচে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৯৩

টিকাঃ
৯০. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ২৬৬৭; আল-বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৫৮৬৮, ১৫৮৭০
৯১. সহীহ মুসলিম, (কিতাবুস সায়দ ওয়ায যাবা'ইহ), হা.নং ১৯৫৫; তিরমিযী, (কিতাবুদ দিয়াত), হা.নং: ১৪০৯
৯২. আল-কুর'আন, (সূরা আন-নাহাল): ১২৬
৯৩. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুদ দিয়াত), হা. নং: ২৬৬৫; আহমদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১২৯১৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00