📄 পশ্চাদপসারনকারীকে পিছু ধাওয়া না করা
তাদের পশ্চাদপসরনকারীকে পিছু ধাওয়া করা যাবে না।
📄 আহত ব্যক্তিকে ধ্বংস না করা
তাদের আহত ব্যক্তিকে ধ্বংস করা যাবে না।
📄 বন্দীদেরকে হত্যা না করা
তাদের বন্দীদেরকে হত্যা করা যাবে না।
যখন লড়াইয়ে বিদ্রোহীরা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যায় এবং তাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে কিংবা দুর্বল হবার কারণে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে দিয়ে লড়াই করা ছেড়ে দেয় তাদের পিছু ধাওয়া করা, তাদের আহতদের ধ্বংস করা ও বন্দীদের হত্যা করা জায়িয হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) কে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে ইবন মাস'উদ! তুমি কি জান, এ উম্মাতের বিদ্রোহীদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ কি? ইবনু মাস'উদ উত্তর দিলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নিদের্শ হলঃ لَا يَتْبَعُ مُدْبِرَهُم ، وَ لَا - يُقْتَلُ أَسِيْرُهُم ، وَ لَا يُذْفَفُ عَلَى جَرِيْحِهِمْ তাদের পশ্চাদপসরণকারীকে পিছু ধাওয়া করা যাবে না, তাদের বন্দীদেরকে হত্যা করা যাবে না এবং তাদের আহত ব্যক্তিকে ধ্বংস করা যাবে না।” উষ্ট্রের যুদ্ধে হযরত 'আলী (রা) তাঁর অনুসারীদেরকে বলেছিলেন, لا تتبعوا مديرا و لا تجهزوا على جريح و لا .تقتلوا أسيرا - "তোমরা কোন পলায়নকারীর পিছু নেবে না, কোন আহত ব্যক্তিকে ধ্বংস করবে না এবং কোন বন্দীকে হত্যা করবে না।”
টিকাঃ
২৫. এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হানাফীগণের মতে, যুদ্ধবন্দীদের মিলিত হবার মত কোন দল থাকলে সরকারের সুবিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ইখতিয়ার থাকবে। সরকার চাইলে তাদেরকে হত্যাও করতে পারে। আবার ভাল মনে করলে কারাদণ্ডও দিতে পারবে। মালিকীগণের মধ্যে কারো মত হল, যুদ্ধ শেষে কেউ বন্দী হলে তাকে হত্যা করা যাবে না। তবে যুদ্ধাবস্থায় কেউ বন্দী হলে যদি সরকার প্রধান বা তাঁর প্রতিনিধি উক্ত বন্দীর পক্ষ থেকে কোন রূপ ক্ষতির আশঙ্কা করেন, তাহলে তাকে হত্যাও করতে পারেন। আবার কারো মতে, যুদ্ধশেষে আটককৃত বন্দীকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাকে হত্যা করা যাবে। (আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.১৪০-১; আল-বুজায়রমী, তুহফাতুল হাবীব, খ.৪, পৃ-২৩৩; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১৫৫; আর-রুহায়বানী, মাতালিব.., খ.৬, পৃ.২৬৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৯-১০; আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারি খলীল, খ.৮, পৃ.৬০)
২৬. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবু কিতালি আহলিল বাগৃহ), হা.নং: ২৬৬২; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা', হা.নং: ১৬৫৩২
২৭. ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুছান্নাফ, হা.নং ৩৭৭৭৮; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা', হা.নং: ১৬৫২৪, ১৬৫২৫
📄 বিদ্রোহীদের সম্পত্তিকে গনীমত মনে না করা
তাদের সম্পত্তি গনীমাতের মাল হিসেবে গণ্য হবে না।
তাদের ধন-সম্পদ গনীমাতের মাল হিসেবে জব্দ করে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং যোদ্ধাদের মধ্যে বন্টনও করে দেয়া যাবে না। তদুপরি তা ধ্বংস করাও যাবে না। তবে সাময়িকভাবে তাদের যাবতীয় ধন-সম্পদ ক্রোক করা যাবে, যাতে তাদের শক্তি খর্ব হয়ে যায় এবং তারা তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসে। যদি তাদের সম্পদের মধ্যে এ ধরনের কোন সম্পদ থাকে, যা সংরক্ষণ করতে গেলে অর্থকড়ি ব্যয় হবে, তা হলে তা বিক্রি করে দিয়ে তার মূল্য জমা রাখাই শ্রেয় হবে। পরবর্তীকালে তারা তাওবা করে সরকারের আনুগত্যের পথে ফিরে আসলে তাদের সম্পদ তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে。
টিকাঃ
২৮. আল-কাসানী, বদা'ই,খ.৭, পৃ.১৪১; আর-রুহায়বানী, মাতালিব, খ.৬, পৃ.২৬৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৯; আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারি খলীল, খ.৮, পৃ.৬০