📄 যাকাত আদায় না করার শাস্তি
কেউ কার্পণ্য করে যাকাত আদায় না করলে তার নিকট থেকে জোর করে যাকাত আদায় করে নেয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজন হলে তার সাথে লড়াই করতে হবে, যদি সে সরকারের আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে অস্ত্র ধারণ করে। বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ বাকর (রা) যাকাত অস্বীকারকারীদের সাথে লড়াই করেছিলেন। হানাফীগণের মতে, তা'যীরের আওতায় তাকে বন্দী করে রাখতে হবে, যে যাবত না সে যাকাত আদায় করে। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে, বলপ্রয়োগ করে কঠোরতার সাথে যাকাত আদায় করা হবে এবং সরকার সুবিবেচনা অনুযায়ী তাকে যে কোন রূপ শাস্তি দিতে পারবে。
টিকাঃ
১২০. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২, পৃ.৩৩৯, খ.৪, পৃ.২৬৯; আল-মাওয়ার্দী, আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ.৭২-৩; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.৩, পৃ.১২৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.২, পৃ. ৩১৮; ইবনু রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ.১, পৃ. ২৫০;
📄 রোযা না রাখার শাস্তি
কোন ব্যক্তি কোন শার'ঈ ওযর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রমযানের রোযা না রাখলে সে শাস্তিযোগ্য হবে। হানাফীগণের মতে, তাকে তা'যীরের আওতায় বন্দী করে রাখা হবে, যে যাবত না সে তাওবা করে রোযা রাখা শুরু করে। কারো কারো মতে, তাকে বন্দী অবস্থায় প্রহারও করা হবে। 'আল্লামা শারানবিলালীর মতে, যদি কেউ রমযান মাসে প্রকাশ্যে কোন ওযর ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা রাখা ছেড়ে দেয়, তাকে হত্যা করা হবে। কেননা তার এ কাজ থেকে বোঝা যায়, সে হয়ত রোযাকে উপহাস করছে অথবা তার ফারযিয়্যাতকে অস্বীকার করছে। কারো মতে, এ রূপ ব্যক্তিকে বিচারক সুবিবেচনা অনুযায়ী বেত্রাঘাত, কিংবা কারাদণ্ড অথবা উভয়বিধ শাস্তি দিতে পারবেন। শাফি'ঈগণের মতে, এ রূপ ব্যক্তিকে আটকে রাখা হবে এবং দিনে পানাহার থেকে বারণ করা হবে। মাওয়ার্দীর মতে, তাকে পুরো রমযান মাস আটক করে রাখা হবে。
যে ব্যক্তি রমযান মাসে মদ্যপান করবে, তাকে মদ্যপানের হদ্দ হিসেবে আশিটি বেত্রাঘাত করার পর রমযানের পবিত্রতা নষ্ট করার কারণে তাকে বন্দী করা হবে এবং আরো অতিরিক্ত বিশটি বেত্রাঘাত করা হবে। হযরত 'আলী (রা) থেকে এ ধরনের মত বর্ণিত রয়েছে。
টিকাঃ
১২১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.১৬, পৃ.৩০৩; আল-মাওয়ার্দী, আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃ.৭২-৩; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.৩, পৃ.১২৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.২, পৃ. ৩১৮; ইবনু রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ, খ.১, পৃ. ২৫০
১২২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ. ৩৩; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৩৪৯
📄 হজ্জ পালন না করার শাস্তি
হজ্জ ফরয হবার পরেও কেউ হজ্জ না করলে তাকে হজ্জ আদায় করতে বাধ্য করা যাবে না। কারণ, হজ্জের ফরযের ক্ষেত্রে সার্বিক সামর্থ্যের একটি ব্যাপার জড়িত রয়েছে। তাই হজ্জ না করার ক্ষেত্রে কারো এমন অভ্যন্তরীন সমস্যাও থাকতে পারে, যা বাইরের লোকদের জানার সুযোগ নেই। তদুপরি কেউ জীবদ্দশায় হজ্জ করে যেতে সমর্থ না হলে মৃত্যুর পরে তার নায়িবী হজ্জ করানোরও সুযোগ রয়েছে。
টিকাঃ
১২৩. নববী, আল-মাজমূ', খ.৭. পৃ.৩; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৪, পৃ. ২-৪; আল-কাসানী, বদাই, খ.২, পৃ.১০৭৮