📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 যিন্দীকের শাস্তি

📄 যিন্দীকের শাস্তি


যিন্দীক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে মনের ভেতর কুফরী লুকিয়ে রাখে এবং বাইরে নিজেকে একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে প্রকাশ করে। এ রূপ ব্যক্তির কোন কোন আমলের মাধ্যমে তার অন্তরের কুটিলতা ধরা পড়ে যায়। দীন ও মিল্লাতের জন্য এ ধরনের ব্যক্তি ভীষণ ক্ষতিকর। তারা মিল্লাতের বন্ধু সেজে ভেতরে ভেতরে মিল্লাতের ধ্বংস ডেকে আনে। তাদের শাস্তি ও তাওবা কবুল হবার ব্যাপারে ইমামগণের দুটি মত রয়েছে。
১. যথার্থ সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা কেউ যিন্দীক বলে সাব্যস্ত হলে তাকে হত্যা করা হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে না। অধিকন্তু সে তাওবার দাবী করলেও তা গ্রহণ করা হবে না। তবে যদি সে তার মামলা আদালতে পেশ হবার আগেই তাওবা করে স্বতস্ফূর্তভাবে বিচারকের দরবারে হাজির হয়ে অপরাধ স্বীকার করে নেয়, তাহলেই তার তাওবা কবুল করা হবে। এটা মালিকী ইমামগণের অভিমত। হানাফী, শাফি'ঈ ও হাম্বলী প্রভৃতি স্কুলের মধ্যেও এর অনুরূপ একটি অভিমতও পাওয়া যায়। তাঁদের বক্তব্য হলঃ যিন্দীকের তাওবা থেকে এ কথা বোঝতে পারা সম্ভব নয় যে, সে তার পূর্বের কপট ও কুটিল আচরণ থেকে ফিরে এসেছে। কারণ তার বাহ্যিক রূপ তো সর্বদা একজন প্রকৃত মুসলিমের মতোই। তাই তার তাওবা নতুন কোন ফায়দা দেবে না।
২. যিন্দীকের বিধান মুরতাদের বিধানের মতোই। তাকে প্রথমে বন্দী করে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা করে এবং সে প্রকৃত অর্থেই তাওবা করেছে তার প্রমাণও যদি মিলে, তা হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। এটি হানাফী, শাফি'ঈ ও হাম্বলী প্রভৃতি স্কুলের ইমামগণের দুটি অভিমতের মধ্যে একটি। হযরত 'আলী (রা) ও ইবন মাস'উদ (রা) থেকেও এ ধরনের মত বর্ণিত রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য হল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুনাফিকদেরকে চেনার পরও হত্যা করেন নি। সুতরাং তাঁর কর্মনীতি থেকে বোঝা যায়, যে যাবত না তাদের কুটিলতা ধরা পড়বে, ততক্ষণ তাদের কোন রূপ শাস্তি দেয়া যাবে না। আর কোন রূপ কুটিলতা ধরা পড়লে তাদেরকে মুরতাদের মত প্রথমে তাওবার সুযোগ দিতে হবে।

টিকাঃ
১১৬. 'আল্লামা দসূকী বলেন, ইসলামের প্রাথমিক কালে এ ধরনের লোকেরাই মুনাফিক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ফকীহগণ (ইসলামী আইনতত্ত্ববিদ) তাদেরকেই যিন্দীক নামে অভিহিত করেন। তবে কেউ কেউ মুনাফিক ও যিন্দীকের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য করেছেন। মুনাফিক হল যার অন্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কোন বিশ্বাসই নেই। আর যিন্দীক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে। হানাফী ও কতিপয় শাফি'ঈ ইমামের মতে, যার কোন দীন-ধর্ম নেই সে যিন্দীক। শরী'আতের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিষয়গুলোকে মুবাহ বলে বিশ্বাস করাও যিন্দীকের একটি বিশেষ পরিচয়।
১১৭. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১৮-৯; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৬, পৃ.৯৮; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৯-৭০; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৫, পৃ. ২৮২; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১৬৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ইবাদাত আদায় না করার শাস্তি

📄 ইবাদাত আদায় না করার শাস্তি


ইবাদাত আদায় না করার শাস্তি:

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00