📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আল্লাহ ও তাঁর দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য জ্ঞাপনকারী কোন কাজ

📄 আল্লাহ ও তাঁর দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য জ্ঞাপনকারী কোন কাজ


আল্লাহ ও তাঁর দীনের প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন বা অস্বীকার বোঝা যায়- এ ধরনের যে কোন কাজ কুফরী। যেমন- আল্লাহ তা'আলার কোন চিত্র আঁকা বা তাঁর মূর্তি তৈরি করা, চাঁদ-সুরুজের পূজা করা, তাচ্ছিল্যের সাথে ডাস্টবিন বা অন্য কোথাও পুরো মুসহাফ কিংবা অংশবিশেষ ছুড়ে মারা। কোন ব্যক্তি এ রূপ কোন কাজ করলে সে কাফির হয়ে যাবে, যদিও সে আল্লাহ কিংবা কুর'আনের প্রতি বিশ্বাসী বলে নিজেকে দাবী করে। কারণ, তার এ অযাচিত কাজ আল্লাহ ও তাঁর কুর'আনকে মিথ্যাপ্রতিপন্নকরণ রূপে বিবেচিত হবে। অধিকন্তু, তা তাঁর প্রতি প্রকাশ্য তাচ্ছিল্য প্রদর্শন, যা সুস্পষ্ট কুফরী。

টিকাঃ
৯১. মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতে হাদীসগ্রন্থ ছুড়ে মারার জন্যও এ বিধান প্রযোজ্য হবে। অনুরূপভাবে আল্লাহ কিংবা কোন নবী-রাসূল বা ফেরেশতার নাম লিখিত অথবা কোন শার'ঈ বক্তব্য সম্বলিত কোন কাগজ কেউ যদি অবমাননা করার মানসে ও তাচ্ছিল্যের সাথে ডাস্টবিনে ছুড়ে মারে কিংবা ময়লার সাথে মিশিয় ফেলে সেও কাফির হয়ে যাবে। (আদ-দাসুকী, আল- হাশিয়াতু.., খ.৪, পৃ.৩০১; আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ. ৪১৬-৭)
৯২. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২২২; নববী, আল-মাজমূ', খ.২, পৃ.১৯৬; আল- আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ.১১৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আল্লাহ ছাড়া কারো উদ্দেশ্যে মাথা নত করা, সিজদা করা

📄 আল্লাহ ছাড়া কারো উদ্দেশ্যে মাথা নত করা, সিজদা করা


আল্লাহ ছাড়া কোন মূর্তিকে উদ্দেশ্য করে সিজদা করা- ইচ্ছাকৃতভাবে হোক কিংবা তামাসাচ্ছলে হোক- চরম কুফরী। কেউ এ রূপ করলে সে কাফির হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে কোন 'আলিম বা বুজর্গ কিংবা কোন প্রতাপশালী রাজা বাদশাহের সামনে মাটিতে সিজদা করা বা নুইয়ে পড়াও হারাম। যে তা করবে এবং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকবে- দুজনেই বড় গুনাহগার হবে। কেননা মূর্তিপুজার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ বলে এ রূপ অবস্থাকে ইসলাম চরমভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এ রূপ ব্যক্তি কাফির হবে কি না- তা কিছুটা ব্যাখ্যার দাবী রাখে। কেউ যদি কারো সামনে তার 'ইবাদাত এবং বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য প্রকাশের নিমিত্তে এ রূপ করে থাকে, তা হলে সে নিঃসন্দেহে কাফির হয়ে যাবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। যদি তা কেবল সম্মান প্রদর্শনের জন্যই করে থাকে, তা হলে সে কাফির হবে না বটে; তবে বড় গুনাহগার হবে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'لا ينبغي لبشر أن يسجد لبشر و لو صح لبشر أن يسجد لبشر لأمرت المرأة أن تسجد لزوجها من عظم حقه عليها -
"একজন মানুষের অন্য মানুষকে উদ্দেশ্য করে সিজদা করা উচিত নয়। যদি তা রীতি সিদ্ধই হত, তা হলে আমি অবশ্যই স্বামীর অধিকারের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে উদ্দেশ্য করে সিজদা করার জন্য স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম। "
তবে পরস্পর একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে সচরাচর লোকেরা যে সামান্য পরিমাণে ঝুকে মাথা নত করে থাকে, যা কোনভাবেই রুকু'র পর্যায়ে পৌঁছে না, তা কুফরীও নয় এবং হারামও নয়। তবে তা নিঃসন্দেহে মাকরূহ। এ রূপ অবস্থাও পরিহার করে চলা উচিত। বর্ণিত রয়েছে, জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমাদের কারো একভাইয়ের সাথে অপর ভাইয়ের বা বন্ধুর সাক্ষাত হয়, তখন কি একজন অপরের উদ্দেশ্যে ঝুঁকে পড়বে? তিনি বললেন, না। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তাকে ধরে কি চুমো খাবে? তিনি বললেন, না। লোকটি ফিরে আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে কি তার হাত ধরে মুসাফাহা করবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ।"
তবে ঝুঁকতে গিয়ে রুকু'র পর্যায়ে চলে গেলে অনেকের মতে- এ রূপ অবস্থায় যদি ব্যক্তিবিশেষকে আল্লাহর মত সম্মান প্রদর্শন করা উদ্দেশ্য না হয়, তা হলে তা কুফরী এবং হারাম হবে না। তবে এটিও ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ঘৃণিত আচরণ (মাকরূহ তাহরীমী)। আবার অনেক আলিমের মতে, ব্যক্তিবিশেষকে আল্লাহর মত সম্মান প্রদর্শন করার উদ্দেশ্য না থাকলেও এভাবে পরস্পর একে অপরকে সম্মান প্রদর্শন করা হারাম। কেননা রুকু'র আকৃতিতে সম্মান প্রদর্শনের নিয়মটি কেবল আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট; কোন বান্দাহর জন্য এটা প্রযোজ্য নয়। ইবনু 'আল্লান সিদ্দীকী বলেন, "সাক্ষাতের সময় রুকুর মত করে ঝুঁকে যাওয়া একটি চরম ভ্রান্তিমূলক বিদ'আত। যদি কেউ আল্লাহকে যেভাবে সম্মান প্রদর্শন করা হয়, সেভাবে কাউকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে ঝুঁকে যায়, তাহলে সে নিঃসন্দেহে মুরতাদ ও কাফির হয়ে যাবে।"

টিকাঃ
৯৩. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.১, পৃ.২০২; শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.২, পৃ.৫৪২; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.১, পৃ.৬০। এটা অধিকাংশ হানাফী ইমামের অভিমত। তবে হানাফীগণের মধ্যে শামসুল আইয়িম্মাহ আস-সারাখসী (রা) ও আরো অনেকের মতে, এ রূপ অবস্থায়ও সে কাফির হয়ে যাবে। কেননা সিজদার মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন কেবল আল্লাহর জন্য সুনির্দিষ্ট। কোন বান্দাহর জন্য প্রযোজ্য নয়। (শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.২, পৃ.৫৪২)
৯৪. আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক, (কিতাবুন নিকাহ), হা.নং ২৭৬৮; নাসাঈ, আস-সুনান আল- কুবরা, হা.নং: ৯১৪৭; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং: ১৩২৬৩
৯৫. আত্ তিরমিযী, (কিতাবুল ইস্তি'যান), হা.নং: ২৭২৮
৯৬. শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.২, পৃ.৫৪২; রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ.৪১৭; কালয়ূবী ও 'উমায়রাহ, আল-হাশিয়াতু.., খ.১, পৃ.৩৯
৯৭. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.২৩, পৃ.১৩৫

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অমুসলিমদের পরিচয়সূচক পোশাক বা বেশভূষা ধারণ করা

📄 অমুসলিমদের পরিচয়সূচক পোশাক বা বেশভূষা ধারণ করা


কোন মুসলিম অমুসলিমদের পরিচয়সূচক কোন পোশাক বা বেশভূষা (যেমন- ব্রাহ্মণদের পৈতা, বৌদ্ধদের গেরুয়া বর্ণের কাপড় ও খ্রিস্টানদের ক্রস প্রভৃতি) ধারণ করলে সে কাফির হয়ে যাবে, যদি সে তা কোন রূপ অনুরাগ বা আগ্রহ নিয়ে পরে থাকে। যদি সে তা খেলাচ্ছলে পরে থাকে, তা হলে এর জন্য তাকে কাফির বলা যাবে না; তবে এ রূপ করাও হারাম。

টিকাঃ
৯৮. এটা মালিকী ও হাম্বলীগণের অভিমত। (ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১৬৮; ইবনু গুনায়ম, আল-ফাওয়াকিহ.., খ.২, পৃ.২৮১)

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 দীনের কোন বিধানকে অস্বীকার করে আমল করা ছেড়ে দেয়া

📄 দীনের কোন বিধানকে অস্বীকার করে আমল করা ছেড়ে দেয়া


দীনের যে কোন অকাট্য ও সর্বজনপরিচিত বিধানকে (যেমন নামায, রোযা, যাকাত, হজ্জ ও জিহাদ প্রভৃতি) কেউ অস্বীকার করে কিংবা উপহাস করে আমল করা ছেড়ে দিলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে। তবে গাফলতি বা ইত্যাকার অন্য কোন কারণে তা কেউ আদায় না করলে সে কাফির হবে না বটে; তবে সে শাস্তিযোগ্য হবে。

টিকাঃ
৯৯. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২২; নববী, আল-মাজমূ', খ.৫, পৃ.৩০৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00