📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 নিজেকে কাফির রূপে ঘোষণা দেয়া

📄 নিজেকে কাফির রূপে ঘোষণা দেয়া


কেউ নিজেকে কাফির রূপে ঘোষণা দিলে কিংবা জেনে বুঝে, এমন কি উপহাস কিংবা রসিকতা করে হলেও কোন কুফরী বাক্য উচ্চারণ করলে সে কাফির হয়ে যাবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় না জেনে কোন কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে, সেও সর্বসাধারণ আলিমের মতানুযায়ী কাফির হয়ে যাবে। তার জ্ঞান না থাকা ওযর হিসেবে বিবেচিত হবে না। কিন্তু অনেকের মতে- এ ধরনের ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে না। তার জ্ঞান না থাকা ওযর রূপে গণ্য হবে। এ মতটি অধিকতর অগ্রগণ্য। কেননা ইমামগণের দৃষ্টিতে, কুফরীর ফাতওয়া দেয়ার বেলায় যথা সম্ভব সতর্ক হওয়া উচিত। যদি উচ্চারিত কুফরী বাক্যের অন্য কোন ব্যাখ্যা দেয়া যায়, তা হলে সে ব্যাখ্যাটিই গ্রহণ করতে হবে। তদুপরি অজ্ঞতা যদি ওযর হিসেবে ধর্তব্য না হয়, তা হলে তো সকল মূর্খকেই কাফির বলতে হবে। তারা তো কোন্টি কুফরী বাক্য, কোন্টি কুফরী বাক্য নয়- তা জানে না। বর্ণিত আছে যে, ইমাম মুহাম্মাদ (রহ)-এর সময়ে জনৈকা মহিলাকে উদ্দেশ্য করে বলা হল, আল্লাহ তা'আলা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদেরকে শাস্তি দেবেন। এটা শুনে মহিলাটি বলল, আল্লাহ তা'আলা এই রূপ করবেন না। কারণ, তারা তো আল্লাহর বান্দাহ। পরে ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) কে মহিলাটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, "সে কাফির হবে না। কারণ সে তো একজন মুর্খ। তোমরা তাকে শিক্ষা দাও।"

টিকাঃ
৬০. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২২৪; শায়খী যাদাহ, আল-মাজমা', খ.১, পৃ. ৬৮৮; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.৬, পৃ.৪৫২;
৬১. আল-হামাভী, গামযু 'উষুনিল বহা'ইর, খ.৩, পৃ.৩০৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল ও দীনকে নিয়ে উপহাস করা কিংবা গালমন্দ করা

📄 আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রাসূল ও দীনকে নিয়ে উপহাস করা কিংবা গালমন্দ করা


আল্লাহকে গালমন্দ বলা বা তাঁর কোন নাম বা গুণ নিয়ে উপহাস করা চরম কুফরী। কেউ এ রূপ করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে কেউ তাঁর কোন নির্দেশ বা কোন প্রতিশ্রুতি কিংবা কোন সর্তকবাণীকে নিয়ে উপহাস করলেও কাফির হয়ে যাবে。
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন কথা বা কাজ সম্পর্কে অযাচিত মন্তব্য করা, তাঁকে গালমন্দ বলা এবং তাঁর প্রদর্শিত দীন বা তাঁর কোন বাণী নিয়ে উপহাস করা প্রভৃতি কুফরী কাজ।
ﻭ ﻟئن سألتهم ليقولن إنما كنا نخوض و نلعب قل أ - بالله و آيته و رسوله كنتم تستهزئون. لا تعتذروا قد كفرتم بعد إيمانكم
"যদি তোমরা তাদের জিজ্ঞেস কর, তাহলে তারা অবশ্যই বলবে যে, আমরা তো কেবল হাসি-ঠাট্টা ও খেল-তামাশাই করেছি। আপনি তাদের বলুন, তাহলে তোমরা কি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ও আয়াতগুলোকে নিয়েই উপহাস করেছ? ছলনা কর না। এ কাজের মাধ্যমে তোমরা নিঃসন্দেহে ঈমান আনয়নের পর কুফরী করেছ।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি যে ব্যক্তি কোন মিথ্যা কথা বা কাজের নিসবত করে, যদিও সে তা ভাল উদ্দেশ্য নিয়ে করে- সে বড় ধরনের অপরাধে লিপ্ত। তাকে প্রকাশ্যে প্রহার করা হবে এবং বন্দী করে রাখা হবে, যে যাবত না সে তাওবা করে। কেননা তাঁর প্রতি মিথ্যা কোন কিছু নিসবত করা তাঁর শান ও মর্যাদাকে ঘায়েল করার শামিল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন,.من كذب علي متعمدا فليتبؤا مقعده من النار - "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি কোন মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামেই তার ঠিকানা গড়ে নেয়।"

টিকাঃ
৬২. আল্লাহকে গালমন্দ বা উপহাসকারীর তাওবা কবুল হবে কি না- তা নিয়েও ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশের মতে, তার তাওবা কবুল হবে। কিন্তু ইমাম আহমাদ (রহ)-এর মতে, তার তাওবা কবুল হবে না। তাকে সর্বাবস্থায় হত্যা করতে হবে। কেননা সে আল্লাহকে গালি দিয়ে কিংবা উপহাস করে চরম মারাত্মক অপরাধ করেছে, যা অমার্জনীয়। (মুল্লা খসরু, দুরারুল হুক্কাম, খ.১, পৃ.৩০০; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ২৩২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ৩৩; আর-রুহায়বানী, মাতালিব.., খ.৬, পৃ.২৯৩)
৬৩. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে গালমন্দ বা উপহাসকারীর তাওবা কবুল হবে কি না- তা নিয়েও ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশের মতে, তার তাওবা কবুল হবে। ইমাম আবূ বাকর আল-ফারিসী (রহ)-এর মতে তাকে হদ্দের আওতায় হত্যা করা হবে; তাওবার কারণে হদ্দ রহিত হবে না। ইমাম সায়দলানীর মতে, তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করা হবে। মালিকীগণের মতে, কোন নবীকে কেউ গালি দিলে তাকে হত্যা করা হবে। তার তাওবা কবুল হবে না। যদি সে তাওবা করে তাহলে হদ্দের আওতায় তাকে হত্যা করা হবে। ইমাম আহমাদ (রহ) থেকেও এ ধরনের একটি মত বর্ণিত রয়েছে। (ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, ৬৪. খ.৪, পৃ. ২৩২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ৮৭-৮৮; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ. ১৩৫-৬; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২২, পৃ. ১৯৩)
৬৫. আল-কুর'আন, ৯ (সূরা আত-তাওবাহ): ৬৫-৬
৬৬. শায়খ আবূ মুহাম্মদ আল-জুয়াইনী (রহ) বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ কুফরীর নামান্তর।" আল-হায়তমী বলেন, "অনেকের দৃষ্টিতে আল্লাহ ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি মিথ্যা আরোপ করা চরম কুফরী, যার ফলে মিথ্যাচারী ব্যক্তি মিল্লাত থেকে বেরিয় যাবে।" (আল-হায়তমী, আয-যাওয়াজির, খ.১, পৃ. ১৬২)
৬৭. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.১৬, পৃ. ৩০২ সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল জানা'ইয), হা.নং : ১২২৯; মুসলিম, (বাব: তাগলীযূল কিষব..), হা.নং: ৩, ৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 নবীগণ (আ)-কে গালি দেয়া

📄 নবীগণ (আ)-কে গালি দেয়া


কেউ কোন নবীকে গালি দিলে কিংবা কোন খারাপ উপাধি (যেমন- যাদুকর, মিথ্যুক, প্রতারক, ভণ্ড ও সন্ত্রাসী প্রভৃতি) দিয়ে অভিহিত করলে অথবা কোন কাজের জন্য দোষারোপ করলে বা ছোট করার মানসে তাঁর কোন রূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি বর্ণনা করলে অথবা তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কোন তুলনা দিলে বা ছবি তৈরি করলে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে কেউ কোন নবীকে লা'নত করলে বা বদ দু'আ করলে অথবা তাঁর ক্ষতি কামনা করলে বা শানের পরিপন্থী কোন কিছু তাঁর প্রতি মিথ্যা আরোপ করলে কিংবা কোন কথা বা কাজের সাহায্যে তাঁকে নিয়ে উপহাস করলে কাফির হয়ে যাবে。
নবীকে গালমন্দকারী মুসলিম হলে সে সর্বসম্মতভাবে মুরতাদ হবে এবং তাকে এ জন্য হত্যা করা হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে অমুসলিম হলে অধিকাংশ ইমামের মতে যেহেতু সে নাগরিক চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই তাকে হত্যা করা হবে। তবে হানাফীগণের মতে, তাকে হত্যা করা হবে না; তবে আদালত সুবিবেচনা অনুযায়ী তাকে যে কোন উপযুক্ত শাস্তি দিতে পারবে。
উল্লেখ্য যে, নবী-রাসূলগণকে ইশারা-ইঙ্গিতে গালি দিলেও স্পষ্টভাষায় গালি দেয়ার মতই একই বিধান প্রযোজ্য হবে। কাদী 'ইয়াদ (রহ) বলেন, সাহাবা কিরাম থেকে আজ পর্যন্ত সকল ইমামই এ বিষয়ে এক মত যে التلويح كالتصريح - "ইশারা-ইঙ্গিত স্পষ্ট বক্তব্যের মতই।"

টিকাঃ
৬৮. আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১১৮, ১২২; শায়খী যাদাহ, মাজমা', খ.১, পৃ.৬৯২
৬৯. আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৬, পৃ.৬২-৩; মুল্লা খসরু, দুরারুল হুক্কাম, খ.১, পৃ.২৯৯
৭০. আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারি খলীল, খ.৮, পৃ.৭০; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.২৪, পৃ. ১৩৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সহধর্মিণীগণকে গালি দেয়া

📄 রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সহধর্মিণীগণকে গালি দেয়া


হযরত 'আয়িশা (রা)-এর পবিত্রতা যেহেতু পবিত্র কুর'আন দ্বারা প্রমাণিত, তাই তাঁর প্রতি কেউ ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করলে বা এ কারণে কেউ তাঁকে গালমন্দ করলে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যাবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। ইমাম মালিক (রহ) বলেছেন, "যে আবূ বাকর (রা)-কে গালি দেবে তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। আর যে হযরত 'আয়িশা (রা) কে গালি দেবে তাকে হত্যা করা হবে।" এ কথা বলার পর তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তর দিলেনঃ " তাঁকে যে অপবাদ দেবে বস্তুত সে কুর'আনের বক্তব্যকেই অস্বীকার করল।" তদুপরি তাঁকে কেউ অন্য কোন কারণে গালি দিলে কিংবা তাঁকে ছোট বা হেয় করে কথা বললে তাকে দীর্ঘ কারাবাস দণ্ড দিতে হবে এবং কঠোরভাবে প্রহার করতে হবে。
তবে অন্য নবী পত্নীদেরকে অপবাদ কিংবা গালি দেয়ার বেলায়ও হযরত 'আয়িশা (রা)-এর অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে কি না- তা নিয়ে ইমামগণের দুটি মত পাওয়া যায়। ক. তাঁদের কাউকে গালি দেয়ার জন্য অন্য সাধারণ সাহাবীকে গালি দেয়ার অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে। এটা হানাফী ও শাফি'ঈগণের অভিমত। ইমাম আহমাদ (রহ) থেকেও এ ধরনের একটি মত বর্ণিত রয়েছে। খ. যে কোন নবী পত্নীকে অপবাদ বা গালি দেয়ার জন্য হযরত 'আয়িশা (রা)-এর অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে। কারণ, যে কোন নবীপত্নীকে অপবাদ দেয়া কিংবা গালি দেয়া প্রকারান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শান ও ব্যক্তিত্বের প্রতি কলঙ্ক লেপনেরই নামান্তর। অধিকাংশ হাম্বলী ইমাম দ্বিতীয় মতটিই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, إن الذين يرمون المحصنت الغفلت المؤمنت لعنوا في الدنيا و الآخرة و لهم عذاب .عظیم - "যারা সতী ও গাফিল ঈমানদার মহিলাদেরকে অপবাদ দেবে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে বিরাট শান্তি।" হযরত 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস (রা) বলেন, "উপর্যুক্ত আয়াতটি বিশেষভাবে হযরত 'আয়িশা ও অন্যান্য নবীপত্নিদের জন্য প্রযোজ্য। যে কেউ তাদেরকে অপবাদ দিলে তাদের তাওবাও কবুল হবে না।" অধিকাংশ ইমামের মতে, নবী পত্নীদের প্রতি অপবাদ আরোপকারীকে বন্দী করে তাওবা করার সুযোগ দেয়া হবে। যদি সে তাওবা করে ফিরে না আসে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে。
কেউ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিবারের অন্য কাউকে গালি দিলে সে কাফির হবে না; তবে তাকে তা'যীরের আওতায় প্রকাশ্যে জোরে প্রহার করা হবে এবং কারাদণ্ড দিতে হবে। কেননা নবী পরিবারের কাউকে গালি দেয়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শান ও মর্যাদায় আঘাত করার শামিল。

টিকাঃ
৭১. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৬, পৃ.২০৬
৭২. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.৪৪; আর-রু'আয়নী, মাওয়াহিবুল জলীল, খ.৬, পৃ.২৮৬; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.৯৪-৫
৭১. এটা হাম্বলীগণের অভিমত। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহও এমতটি গ্রহণ করেছেন। (ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.৪৪; আল-বহুতী, কশশাফ, খ.৬, পৃ.১৭২; আর-রু'আয়নী, মাওয়াহিবুল জলীল, খ.৬, পৃ.২৮৬; ইবনু তাইমিয়্যাহ, আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, খ.৩, পৃ,১৫২)
৭২. আল-কুর'আন, ২৪ (সূরা আন-নূর): ২৩
৭৩. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২৩৬
৭৪. আল-মওয়াক, আত-তাজ.., খ.৮, পৃ.৩৮৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00