📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর করা

📄 স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর করা


ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে কারো কোন জবরদস্তি ছাড়া স্বেচ্ছায় ধর্মত্যাগ করতে হবে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 তাওবার সুযোগ দান করা

📄 তাওবার সুযোগ দান করা


ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে তাওবার জন্য তিন দিন সুযোগ দিতে হবে। এটা মালিকী ও হাম্বলীগণের মতে ওয়াজিব। তাঁদের বক্তব্য হল : হয়ত তার কাছে ইসলামের কোন বিষয়ে সন্দেহ ছিল। তাই তা নিরসন করা প্রয়োজন। হানাফীগণের মতে, এটা মুস্তাহাব। কেননা ইসলামের দা'ওয়াত তো তার কাছে আগেই পৌঁছে গেছে এবং সে বুঝে শুনেই ইসলাম গ্রহণ করেছে কিংবা মেনে নিয়েছে। বর্ণিত আছে, জনৈক ধর্মত্যাগীকে তাওবার সুযোগ না দিয়ে হত্যা করার খবর শুনে হযরত 'উমার (রা) ভীষণ দুঃখিত হলেন এবং বললেন, "আমি অবশ্যই তাকে তাওবার জন্য তিন দিনের সুযোগ দিতাম। যদি সে তাওবা করত তা তো ভালই হত। তা না হলেই আমি তাকে হত্যা করতাম।" তাছাড়া ইতঃপূর্বে বর্ণিত হযরত জাবির (রা)-এর হাদীস থেকেও জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু রুমান নাম্নী জনৈকা ধর্মত্য্যাগকারিণী মহিলাকে তাওবার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, তাওবার সুযোগ না দিয়ে ধর্মত্যাগীকে হত্যা করা হলে হত্যাকারী অপরাধী সাব্যস্ত হবে। এ জন্য হত্যাকারীকে তা'যীরের আওতায় সাধারণ শাস্তি দেয়া যাবে; কিসাস বা বড় ধরনের শাস্তি দেয়া যাবে না。

টিকাঃ
শাফি'ঈগণের মতে, তাওবার জন্য তাৎক্ষণিক সুযোগ দেয়া হবে। তিন দিনের ফুরসত দেয়া যাবে না। (আল-জুমাল, ফুতুহাত.., খ.৫, পৃ. ১২৬; আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৭, পৃ.৪১৯)
আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.৯৮-৯; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.১৩৪-৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৭-৮
আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.৯৯
যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.২৮৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার সম্ভাবনা না থাকা

📄 ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার সম্ভাবনা না থাকা


ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীর বক্তব্য বা কাজ এমন হতে হবে, যা সুস্পষ্ট রূপে কুফরী বোঝায়। যদি তার বক্তব্যে কিংবা কাজে ভিন্ন কোন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা থাকে এবং সে নিজেও যদি তা বলে, তা হলে তাকে এ কথা বা কাজের জন্য ধর্মত্যাগ করেছে- বলা যাবে না এবং এর জন্য শাস্তিও দেয়া যাবে না। অনুরূপভাবে আবেগের আতিশয্যে কারো মুখ দিয়ে ভুলক্রমে বা অসতর্কতামূলকভাবে হঠাৎ কোন কুফরী বাক্য উচ্চারিত হলে তাও ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য হবে না। যেমন- কেউ আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাইল, "হে আল্লাহ! তুমি আমার রব, আর আমি তোমার গোলাম"; কিন্তু তার মুখ দিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বের হয়ে গেল- "তুমি আমার গোলাম, আর আমি তোমার রব”।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00