📄 প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া
ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। যে সব ইমাম অপ্রাপ্ত বয়স্কের ধর্মান্তরকে হদ্দযোগ্য ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য করেন, তাদের দৃষ্টিতেও এ শাস্তি কার্যকর করা যাবে না, যে যাবত না সে বালিগ হবে। ইমাম শাফি'ঈ (রহ) বলেন, বালিগ হবার আগে কেউ ঈমান এনে আবার বালিগ হবার আগেই কিংবা বালিগ হবার পর ধর্মত্যাগ করল, অতঃপর বালিগ হবার পর তাওবাও করল না, তাকে হত্যা করা যাবে না। কারণ, সে বালিগ অবস্থায় ঈমানদার ছিল না। তবে তাকে পুনরায় ঈমানের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করা হবে。
টিকাঃ
৪২. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২৪; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.১২৩; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.২৯২-৩
৪৩. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৭২
📄 সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হওয়া
ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে সুস্থ বিবেকসম্পন্ন হতে হবে।
📄 স্বেচ্ছায় ধর্মান্তর করা
ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে কারো কোন জবরদস্তি ছাড়া স্বেচ্ছায় ধর্মত্যাগ করতে হবে।
📄 তাওবার সুযোগ দান করা
ধর্মান্তরের শাস্তি কার্যকর করার জন্য ধর্মান্তরকারীকে তাওবার জন্য তিন দিন সুযোগ দিতে হবে। এটা মালিকী ও হাম্বলীগণের মতে ওয়াজিব। তাঁদের বক্তব্য হল : হয়ত তার কাছে ইসলামের কোন বিষয়ে সন্দেহ ছিল। তাই তা নিরসন করা প্রয়োজন। হানাফীগণের মতে, এটা মুস্তাহাব। কেননা ইসলামের দা'ওয়াত তো তার কাছে আগেই পৌঁছে গেছে এবং সে বুঝে শুনেই ইসলাম গ্রহণ করেছে কিংবা মেনে নিয়েছে। বর্ণিত আছে, জনৈক ধর্মত্যাগীকে তাওবার সুযোগ না দিয়ে হত্যা করার খবর শুনে হযরত 'উমার (রা) ভীষণ দুঃখিত হলেন এবং বললেন, "আমি অবশ্যই তাকে তাওবার জন্য তিন দিনের সুযোগ দিতাম। যদি সে তাওবা করত তা তো ভালই হত। তা না হলেই আমি তাকে হত্যা করতাম।" তাছাড়া ইতঃপূর্বে বর্ণিত হযরত জাবির (রা)-এর হাদীস থেকেও জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মু রুমান নাম্নী জনৈকা ধর্মত্য্যাগকারিণী মহিলাকে তাওবার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে, তাওবার সুযোগ না দিয়ে ধর্মত্যাগীকে হত্যা করা হলে হত্যাকারী অপরাধী সাব্যস্ত হবে। এ জন্য হত্যাকারীকে তা'যীরের আওতায় সাধারণ শাস্তি দেয়া যাবে; কিসাস বা বড় ধরনের শাস্তি দেয়া যাবে না。
টিকাঃ
শাফি'ঈগণের মতে, তাওবার জন্য তাৎক্ষণিক সুযোগ দেয়া হবে। তিন দিনের ফুরসত দেয়া যাবে না। (আল-জুমাল, ফুতুহাত.., খ.৫, পৃ. ১২৬; আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ. ৭, পৃ.৪১৯)
আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.৯৮-৯; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.১৩৪-৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৭-৮
আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.৯৯
যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.২৮৪