📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ

📄 সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ


অধিকাংশ ইমামের মতে, ধর্মত্যাগের ফলে ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হবে না বটে; তবে যেহেতু সে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়েছে, তাই তার কোন অর্থনৈতিক চুক্তি ও লেনদেন বিশুদ্ধ হবে না। রাষ্ট্র তার যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে। যদি সে তাওবাহ করে ইসলামে ফিরে আসে, তা হলে তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। যদি সে মুরতাদ অবস্থায় কোন অর্থনৈতিক লেনদেন করে, তা হলে তা মুলতবী হয়ে থাকবে। যদি সে ইসলামে ফিরে আসে তাহলে তার কৃত লেনদেন কার্যকর করা হবে আর যদি হত্যা করা হয় কিংবা মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তার কৃত লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে হানাফীগণের মতে, মহিলার ধর্মান্তরের শাস্তি যেহেতু মৃত্যুদণ্ড নয়; তাই সম্পদের ওপর তার মালিকানা স্বত্বও অটুট থাকবে এবং তার যে কোন অর্থনৈতিক লেনদেনও বিশুদ্ধ হবে。
মুরতাদের হত্যা বা মারা যাওয়ার পর তার পরিত্যক্ত ধন-সম্পদের স্বত্বাধিকারী কে হবে- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে তিন ধরনের মত পরিলক্ষিত হয়।
১. তার পরিত্যক্ত সমস্ত ধন-সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে শত্রুসম্পদ হিসেবে জমা হবে। এটি মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বলীগণের অভিমত।
২. তার যাবতীয় পরিত্যক্ত সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদেরদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে। এটি ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের অভিমত। কেননা মীরাছের আইনে ধর্মত্যাগ করার পর থেকে তাকে মৃত ব্যক্তির ন্যায় গণ্য করা হয়।
৩. মুসলিম থাকাকালে তার উপার্জিত যাবতীয় সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন করা হবে এবং মুরতাদ অবস্থায় উপার্জিত যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। এটা ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর অভিমত。

টিকাঃ
৩৩. ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, ধর্মত্যাগের ফলে যেহেতু ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হয় না, তাই মুরতাদ অবস্থায় তার অর্থনৈতিক লেনদেন বিশুদ্ধ হবে। আবূ বাকর আল-হাম্বলীর মতে, ধর্মত্যাগের ফলে ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হয়ে যায়। অতএব তার ধন-সম্পদের ওপর যেহেতু তার কোন মালিকানা স্বত্ব নেই, তাই তার সম্পদের ওপর তার কোন অধিকার চর্চা বৈধ হবে না। (আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.১৩৬- ৭; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৬, পৃ.৭৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৯- ২০;আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ.৪২০-১)
৩৪. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.১৩৭
৩৫. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৬, পৃ.২৫০, খ.৯, পৃ.১৯; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, ৩৬. পৃ.৩৩৯; আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৬, পৃ.২৫০
৩৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৩০, পৃ.৩৭; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.১৩৬-৭; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৬, পৃ.৭৫-৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অভিভাবকত্বের যোগ্যতা হরণ

📄 অভিভাবকত্বের যোগ্যতা হরণ


মুরতাদের অন্যের ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার থাকবে না। সুতরাং সে তার কন্যাদের ও ছোট ছেলেদের বিবাহের 'আকদের অভিভাবক হতে পারবে না। যদি সে আকদ করায়, তা হলে সে 'আকদ বাতিল বলে গণ্য হবে。

টিকাঃ
৩৮. --কাসানী, বদা'ই, খ.২, পৃ.২৩৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মুরতাদ ও কাফির ফাত্ওয়া দেবার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন

📄 মুরতাদ ও কাফির ফাত্ওয়া দেবার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন


কোন মুসলিমকে কাফির ফাতওয়া দেয়ার ব্যাপারে যথাসম্ভব বিরত থাকা প্রয়োজন। সাধারণভাবে কুফরী বোঝায় এ ধরনের মুসলিমের যে কোন কথা বা কাজের কোন রূপ একটি সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো গেলে অথবা তা কুফরী হবার ব্যাপারে সামান্যতম মতভেদ থাকলে সেটিই গ্রহণ করতে হবে। কেননা প্রত্যেক মুসলিম সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করাই হল ইসলামের বিধান। তদুপরি ধর্মান্তরের শাস্তি যেহেতু চরম, তাই তার অপরাধও চরম হতে হবে এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে হবে। অতএব, যে কথা বা কাজে কুফরী হবার ব্যাপারে সামান্যটুকুন সন্দেহ থাকবে, তার জন্য ধর্মান্তরের চরম শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে না। হানাফীগণের মতে, কোন বিষয়ে যদি কাফির বলার মত অনেক উপলক্ষ পাওয়া যায়; কিন্তু কাফির না বলার মত তাতে যদি একটি উপলক্ষও থাকে, তা হলে এর জন্য কাউকে কাফির রূপে ফাতওয়া দেয়া সমীচীন নয়। তবে কেউ স্বেচ্ছায় স্পষ্টভাবে কোন কুফরী বাক্য উচ্চারণ করলে বা কোন কুফরী কাজ করলে তাকে রক্ষা করার মানসে তার কথা বা কাজের অযাচিত ব্যাখ্যা করাও সমীচীন নয়。

টিকাঃ
৪৮. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২২৯-৩০
৪৯. তদেব

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 যিন্দীকের শাস্তি

📄 যিন্দীকের শাস্তি


যিন্দীক বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যে মনের ভেতর কুফরী লুকিয়ে রাখে এবং বাইরে নিজেকে একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে প্রকাশ করে। এ রূপ ব্যক্তির কোন কোন আমলের মাধ্যমে তার অন্তরের কুটিলতা ধরা পড়ে যায়। দীন ও মিল্লাতের জন্য এ ধরনের ব্যক্তি ভীষণ ক্ষতিকর। তারা মিল্লাতের বন্ধু সেজে ভেতরে ভেতরে মিল্লাতের ধ্বংস ডেকে আনে। তাদের শাস্তি ও তাওবা কবুল হবার ব্যাপারে ইমামগণের দুটি মত রয়েছে。
১. যথার্থ সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা কেউ যিন্দীক বলে সাব্যস্ত হলে তাকে হত্যা করা হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে না। অধিকন্তু সে তাওবার দাবী করলেও তা গ্রহণ করা হবে না। তবে যদি সে তার মামলা আদালতে পেশ হবার আগেই তাওবা করে স্বতস্ফূর্তভাবে বিচারকের দরবারে হাজির হয়ে অপরাধ স্বীকার করে নেয়, তাহলেই তার তাওবা কবুল করা হবে। এটা মালিকী ইমামগণের অভিমত। হানাফী, শাফি'ঈ ও হাম্বলী প্রভৃতি স্কুলের মধ্যেও এর অনুরূপ একটি অভিমতও পাওয়া যায়। তাঁদের বক্তব্য হলঃ যিন্দীকের তাওবা থেকে এ কথা বোঝতে পারা সম্ভব নয় যে, সে তার পূর্বের কপট ও কুটিল আচরণ থেকে ফিরে এসেছে। কারণ তার বাহ্যিক রূপ তো সর্বদা একজন প্রকৃত মুসলিমের মতোই। তাই তার তাওবা নতুন কোন ফায়দা দেবে না।
২. যিন্দীকের বিধান মুরতাদের বিধানের মতোই। তাকে প্রথমে বন্দী করে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা করে এবং সে প্রকৃত অর্থেই তাওবা করেছে তার প্রমাণও যদি মিলে, তা হলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। এটি হানাফী, শাফি'ঈ ও হাম্বলী প্রভৃতি স্কুলের ইমামগণের দুটি অভিমতের মধ্যে একটি। হযরত 'আলী (রা) ও ইবন মাস'উদ (রা) থেকেও এ ধরনের মত বর্ণিত রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য হল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুনাফিকদেরকে চেনার পরও হত্যা করেন নি। সুতরাং তাঁর কর্মনীতি থেকে বোঝা যায়, যে যাবত না তাদের কুটিলতা ধরা পড়বে, ততক্ষণ তাদের কোন রূপ শাস্তি দেয়া যাবে না। আর কোন রূপ কুটিলতা ধরা পড়লে তাদেরকে মুরতাদের মত প্রথমে তাওবার সুযোগ দিতে হবে।

টিকাঃ
১১৬. 'আল্লামা দসূকী বলেন, ইসলামের প্রাথমিক কালে এ ধরনের লোকেরাই মুনাফিক নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ফকীহগণ (ইসলামী আইনতত্ত্ববিদ) তাদেরকেই যিন্দীক নামে অভিহিত করেন। তবে কেউ কেউ মুনাফিক ও যিন্দীকের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য করেছেন। মুনাফিক হল যার অন্তরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কোন বিশ্বাসই নেই। আর যিন্দীক রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে। হানাফী ও কতিপয় শাফি'ঈ ইমামের মতে, যার কোন দীন-ধর্ম নেই সে যিন্দীক। শরী'আতের নিষিদ্ধ ঘোষিত বিষয়গুলোকে মুবাহ বলে বিশ্বাস করাও যিন্দীকের একটি বিশেষ পরিচয়।
১১৭. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১৮-৯; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৬, পৃ.৯৮; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৯-৭০; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৫, পৃ. ২৮২; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.১৬৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00