📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 উত্তরাধিকার স্বত্ব থেকে বঞ্চিতকরণ

📄 উত্তরাধিকার স্বত্ব থেকে বঞ্চিতকরণ


ইসলামী উত্তরাধিকারের নিয়ম মতে, মৃত ব্যক্তি ও তার আত্মীয়-স্বজনরা একই ধর্মাবলম্বী হলে তারা তার ওয়ারিছ হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) "لا يرث الكافر المسلم ' و لا يرث المسلم الكافر " কাফির মুসলিমের ওয়ারিছ হবে না এবং মুসলিমও কাফিরের ওয়ারিছ হবে না।" অতএব ধর্মত্যাগী যেহেতু মুসলিম নয়, তাই সে তার মুসলিম নিকটাত্মীয়ের ওয়ারিছ হতে পারবে না। অনুরূপভাবে তার নতুন ধর্মের কিংবা অন্য ধর্মাবলম্বী কোন আত্মীয়েরও সে ওয়ারিছ হবে না। কারণ মুরতাদের কোন ধর্ম নেই।

টিকাঃ
৩১. আহমাদ, আল-মুসনাদ, হা.নং : ২১৮১৪; বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, হা.নং : ১২০০৪, ১২০০৫
৩২. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৬, পৃ.২৪৮; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.৩, পৃ.২৫

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ

📄 সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ


অধিকাংশ ইমামের মতে, ধর্মত্যাগের ফলে ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হবে না বটে; তবে যেহেতু সে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য হয়েছে, তাই তার কোন অর্থনৈতিক চুক্তি ও লেনদেন বিশুদ্ধ হবে না। রাষ্ট্র তার যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করবে। যদি সে তাওবাহ করে ইসলামে ফিরে আসে, তা হলে তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। যদি সে মুরতাদ অবস্থায় কোন অর্থনৈতিক লেনদেন করে, তা হলে তা মুলতবী হয়ে থাকবে। যদি সে ইসলামে ফিরে আসে তাহলে তার কৃত লেনদেন কার্যকর করা হবে আর যদি হত্যা করা হয় কিংবা মৃত্যুবরণ করে, তাহলে তার কৃত লেনদেন বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে হানাফীগণের মতে, মহিলার ধর্মান্তরের শাস্তি যেহেতু মৃত্যুদণ্ড নয়; তাই সম্পদের ওপর তার মালিকানা স্বত্বও অটুট থাকবে এবং তার যে কোন অর্থনৈতিক লেনদেনও বিশুদ্ধ হবে。
মুরতাদের হত্যা বা মারা যাওয়ার পর তার পরিত্যক্ত ধন-সম্পদের স্বত্বাধিকারী কে হবে- তা নিয়ে ইমামগণের মধ্যে তিন ধরনের মত পরিলক্ষিত হয়।
১. তার পরিত্যক্ত সমস্ত ধন-সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে শত্রুসম্পদ হিসেবে জমা হবে। এটি মালিকী, শাফিঈ ও হাম্বলীগণের অভিমত।
২. তার যাবতীয় পরিত্যক্ত সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদেরদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে। এটি ইমাম আবূ ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ) প্রমুখের অভিমত। কেননা মীরাছের আইনে ধর্মত্যাগ করার পর থেকে তাকে মৃত ব্যক্তির ন্যায় গণ্য করা হয়।
৩. মুসলিম থাকাকালে তার উপার্জিত যাবতীয় সম্পদ তার মুসলিম ওয়ারিছদের মধ্যে বন্টন করা হবে এবং মুরতাদ অবস্থায় উপার্জিত যাবতীয় সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। এটা ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর অভিমত。

টিকাঃ
৩৩. ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, ধর্মত্যাগের ফলে যেহেতু ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হয় না, তাই মুরতাদ অবস্থায় তার অর্থনৈতিক লেনদেন বিশুদ্ধ হবে। আবূ বাকর আল-হাম্বলীর মতে, ধর্মত্যাগের ফলে ধন-সম্পদের ওপর মুরতাদের মালিকানা স্বত্ব নষ্ট হয়ে যায়। অতএব তার ধন-সম্পদের ওপর যেহেতু তার কোন মালিকানা স্বত্ব নেই, তাই তার সম্পদের ওপর তার কোন অধিকার চর্চা বৈধ হবে না। (আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.১৩৬- ৭; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৬, পৃ.৭৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৯- ২০;আর-রামালী, নিহায়াতুল মুহতাজ, খ.৭, পৃ.৪২০-১)
৩৪. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.১৩৭
৩৫. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৬, পৃ.২৫০, খ.৯, পৃ.১৯; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, ৩৬. পৃ.৩৩৯; আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৬, পৃ.২৫০
৩৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৩০, পৃ.৩৭; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.১৩৬-৭; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৬, পৃ.৭৫-৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অভিভাবকত্বের যোগ্যতা হরণ

📄 অভিভাবকত্বের যোগ্যতা হরণ


মুরতাদের অন্যের ওপর অভিভাবকত্বের অধিকার থাকবে না। সুতরাং সে তার কন্যাদের ও ছোট ছেলেদের বিবাহের 'আকদের অভিভাবক হতে পারবে না। যদি সে আকদ করায়, তা হলে সে 'আকদ বাতিল বলে গণ্য হবে。

টিকাঃ
৩৮. --কাসানী, বদা'ই, খ.২, পৃ.২৩৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মুরতাদ ও কাফির ফাত্ওয়া দেবার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন

📄 মুরতাদ ও কাফির ফাত্ওয়া দেবার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন


কোন মুসলিমকে কাফির ফাতওয়া দেয়ার ব্যাপারে যথাসম্ভব বিরত থাকা প্রয়োজন। সাধারণভাবে কুফরী বোঝায় এ ধরনের মুসলিমের যে কোন কথা বা কাজের কোন রূপ একটি সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করানো গেলে অথবা তা কুফরী হবার ব্যাপারে সামান্যতম মতভেদ থাকলে সেটিই গ্রহণ করতে হবে। কেননা প্রত্যেক মুসলিম সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করাই হল ইসলামের বিধান। তদুপরি ধর্মান্তরের শাস্তি যেহেতু চরম, তাই তার অপরাধও চরম হতে হবে এবং তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হতে হবে। অতএব, যে কথা বা কাজে কুফরী হবার ব্যাপারে সামান্যটুকুন সন্দেহ থাকবে, তার জন্য ধর্মান্তরের চরম শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে না। হানাফীগণের মতে, কোন বিষয়ে যদি কাফির বলার মত অনেক উপলক্ষ পাওয়া যায়; কিন্তু কাফির না বলার মত তাতে যদি একটি উপলক্ষও থাকে, তা হলে এর জন্য কাউকে কাফির রূপে ফাতওয়া দেয়া সমীচীন নয়। তবে কেউ স্বেচ্ছায় স্পষ্টভাবে কোন কুফরী বাক্য উচ্চারণ করলে বা কোন কুফরী কাজ করলে তাকে রক্ষা করার মানসে তার কথা বা কাজের অযাচিত ব্যাখ্যা করাও সমীচীন নয়。

টিকাঃ
৪৮. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২২৯-৩০
৪৯. তদেব

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00