📄 ধর্মান্তরকারীর মুকাল্লাফ (প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন) হওয়া
ধর্মান্তরকারীকে প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন হতে হবে। কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালক কিংবা পাগল' কোন সুস্পষ্ট কুফরী বাক্য উচ্চারণ করলে বা কাজ করলে তাকে ধর্মত্যাগী বলা যাবে না। অনুরূপভাবে ঘুমের নেশায় আচ্ছন্ন ও বেহুঁশ লোকদেরকে তাদের কোন কথা বা কাজের জন্যও ধর্মত্যাগী বলা যাবে না।
তবে মাতাল ও সাবালকের ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফীগণের মতে, মাতালের কুফরী বাক্য বা কাজ ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য হবে না। এ জন্য তার ওপর ধর্মত্যাগের শাস্তি বর্তাবে না। কেননা ধর্মত্যাগ মূলত বিশ্বাসের সাথে জড়িত। মাতাল ব্যক্তি অনেক সময় এমন কথা বলে থাকে, যে কথার ওপর তার বিশ্বাস নেই। তবে অন্যান্য ইমামগণের মতে, মাতালের কুফরী বাক্য বা কাজ ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য হবে। কেননা ইসলামী আইনে মাতাল ব্যক্তিকেও শরী'আতের আদেশাবলী পালনে বাধ্য মনে করা হয়। এ কারণে সে কারো ওপর যিনার অপবাদ দিলে তার ওপর মিথ্যা অপবাদ দানের হদ্দ কার্যকর করা হয় এবং সে স্ত্রীকে তালাক দিলে তাও গৃহীত হয়। এ কারণেই তার কুফরীকেও ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য করা হবে।
অধিকাংশ ইমামের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক বুদ্ধিমান বালককেও তার কুফরীর জন্য ধর্মত্যাগী আখ্যা দেয়া যাবে। তবে শাফি'ঈগণের মতে, যেহেতু তারা আজো শরী'আতের নির্দেশাদি পালনে বাধ্য নয়, তাই কোন কুফরীর জন্য তাদেরকে ধর্মত্যাগী আখ্যা দেয়া সমীচীন নয়। তবে সকল ইমামই এ বিষয়ে এক মত যে, তাদের কুফরীর জন্য তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে না; বরং মারধর কিংবা ধমক বা বন্দী করে তাদেরকে ইসলামী জীবন ধারায় ফিরে আসতে বাধ্য করা হবে। হাম্বলীগণের মতে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। এর পর তাকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি সে তাওবা না করে কুফরীতে অটল থাকে, তাহলে তাকে হত্যা করা হবে।
টিকাঃ
২. তবে যে ব্যক্তি কখনো পাগল হয়, আবার কখনো সুস্থ হয়ে ওঠে, তাহলে হুঁশ অবস্থায় তার কুফরীকে ধর্মত্যাগ রূপে গণ্য করা হবে আর পাগল অবস্থায় কুফরীকে ধর্মত্যাগ রূপ গণ্য করা হবে না। (আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ১৩৪)
৩. আল-বহুতী, কশশাফ, খ.৬, পৃ. ১৭৫; আর-রুহায়বানী, মতালিব.., খ.৬, পৃ.২৮৯
৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.১২৩; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ১৩৪
৫. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৭২, খ.৮, পৃ.৩৬৭; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৩১-২; আল-বহুতী, কশশাফ, খ.৬, পৃ. ১৭৬; আল-আনসারী, আসনাল মতালিব.., খ.৪, পৃ.১২০
৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.১২০; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৭২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.২৪; আর-রুহায়বানী, মতালিব.., খ.৬, পৃ.২৯০
📄 স্বেচ্ছায় কুফরী করা
কারো প্রবল চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় সুস্পষ্ট কুফরীতে লিপ্ত হলেই তা ধর্মত্যাগ-বলে ধর্তব্য হবে। অতএব কেউ প্রবল চাপের মুখে একান্ত বাধ্য হয়ে কোন কুফরী বাক্য উচ্চারণ করলে কিংবা কুফরী কাজ করলেই ধর্মত্যাগী হয়ে যাবে না, যে যাবত তার অন্তঃকরণে পূর্ণ ঈমান বিদ্যমান থাকবে।' আল্লাহ তা'আলা বলেন, إلا من أكره و قلبه مطمئن بالإيمان" - "তবে সে ব্যক্তি ছাড়া যাকে জোর প্রয়োগ করা হয়েছে; কিন্তু তার অন্তর ঈমানে পরিপূর্ণ থাকে।"
টিকাঃ
৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.১২৩, খ.২৪, পৃ.৪৫-৬,১২৯-৩০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৩০
৮. আল-কুর'আন, ১৬ (সূরা আন-নাহল): ১০৬
📄 সত্যিকার অর্থে মুসলিম থাকার প্রমাণ থাকা
ধর্মান্তরের জন্য সত্যিকার অর্থে ইসলাম থেকে কুফরীতে ফিরে যাবার প্রমাণ পাওয়া যেতে হবে। অতএব ভয়ে বা একান্তে চাপে পড়ে কিংবা আর্থিক সংকটে পড়ে কেউ মুসলিম হয়ে পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করে কুফরীতে চলে গেলে তাকে ধর্মত্যাগ করেছে বলে আখ্যা দেয়া যাবে না এবং এ জন্য শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করা যাবে না, যদি তার কথার প্রমাণ পাওয়া যায়।" অনুরূপভাবে যে বংশীয় কিংবা দেশীয় সূত্র ধরে মুসলিম নামে পরিচিতি লাভ করেছে, সে যদি বালিগ হওয়ার পর প্রকৃত অর্থেই ইসলামের বিধি-বিধান মেনে নিয়েছে- তার প্রমাণ পাওয়া না যায়, তা হলেও তাকে কুফরীর জন্য হত্যা করা যাবে না; বরং বন্দী করে রাখা হবে, যে যাবত না সে প্রকৃত ইসলামে ফিরে আসে。
টিকাঃ
৯. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৫, পৃ.২৮৩ তবে মালিকী স্কুলের আশহব ও ইবনু হাবীব (রহ) প্রমুখ ইমামের দৃষ্টিতে- এ ধরনের ব্যক্তির জন্যও ধর্মত্যাগের বিধান প্রযোজ্য হবে। তবে ইমাম আসবগ আল-মালিকীর মতে, তাকে পুনরায় ইসলামে ফিরে আসতে বলা হবে। এজন্য তাকে একটি যৌক্তিক সময় পর্যন্ত কয়েদ করে রাখা হবে এবং প্রহার করা হবে। যদি সে ফিরে আসে তা হলে ভাল। অন্যথায় তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। (আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৫, পৃ.২৮৩)
১০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.১০, পৃ.১২৩