📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মদসেবনকারীর স্বীকারোক্তি

📄 মদসেবনকারীর স্বীকারোক্তি


অপরাধী আদালতের সামনে মাদক গ্রহণের একবার স্বীকারোক্তি করলেই অপরাধ প্রমাণিত হবে। কিন্তু ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে দুবার স্বীকারোক্তি আবশ্যক। অপরাধী তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে হদ্দ রহিত হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় যা কিছু বলে তা নির্ভরযোগ্য নয়। অতএব ঐ অবস্থায় সে মাদক গ্রহণের স্বীকারোক্তি করলে ঐ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না।

টিকাঃ
৩৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩২; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.৩১৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মুখে মদের গন্ধ

📄 মুখে মদের গন্ধ


হানাফী ও শাফি'ঈগণের মতে, কারো মুখ থেকে মাদকের ঘ্রাণ পাওয়া গেলে তা দ্বারা হদ্দযোগ্য মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হবে না। কেননা মুখের গন্ধ মদ্যপান ছাড়া আরো বিভিন্ন কারণেও হতে পারে। যেমন ঢেকুর কিংবা হাঁচির কারণেও মুখ থেকে মাদকের মত দুর্গন্ধ বের হতে পারে। অথবা হতে পারে যে, সে একান্ত চাপে পড়ে কিংবা অনন্যোপায় হয়ে মদ সেবন করেছে অথবা মদ ব্যতীত সে অন্য কোন পানীয় গ্রহণ করেছে; কিন্তু তা থেকে মদের দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তাই শুধু গন্ধের কারণে হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। তবে মালিকীগণের মতে, শাস্তি প্রদানের জন্য গন্ধই যথেষ্ট। মদের মাদকতা চাই থাকুক বা না থাকুক। তাঁদের বক্তব্য হল, মাদকের দুর্গন্ধই মদ্য পানের প্রমাণ বিশেষ। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত 'উমার, 'উসমান ও 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) প্রমুখ মুখে মাদকের গন্ধ পেয়েই বিভিন্ন মদ্যপায়ীকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। এ থেকেও বোঝা যায়, মুখে মাদকের দুর্গন্ধই হদ্দ প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট।

টিকাঃ
৩৯. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৯৪; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩১; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৯৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯. পৃ. ১৭৩
৪০. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫২৩; আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৩, পৃ. ১৪১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯
৪১. আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৩, পৃ. ১৪১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মাতলামি

📄 মাতলামি


কারো কারো মতে, মাতলামিও মদ্যপায়িতার একটি প্রমাণ। তবে অধিকাংশের মতে, তা দ্বারা হদ্দযোগ্য মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হবে না, যতক্ষণ না সাক্ষ্যপ্রমাণ কিংবা অপরাধীর স্বীকারোক্তি দ্বারা তা সুপ্রমাণিত হবে। কেননা মাতলামি মাদক গ্রহণ ছাড়া আরো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তাই শুধু মাতলামির কারণে হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না。

টিকাঃ
৪২. মাতলামি বলতে ব্যক্তির কথাবার্তার বুঝবার এবং নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলাকে বোঝানো হয়। এটি ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর অভিমত। তবে অন্যান্য ইমামের মতে, আবোল-তাবোল বকাবকি করা, পর-আপন ও ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে না পারা কেই মাতলামি বলা হয়। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৪০-১)
৪৩. আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৫, পৃ. ৩০৯-৩১০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৯; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯. পৃ. ১৭৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 বমি

📄 বমি


মালিকীগণের নিকট মাদক বমিও মদ্যপায়িতার একটি প্রমাণ। তাঁদের দলীল হল, বর্ণিত আছে যে, হযরত 'আলকামা (রা) সাক্ষ্য দেন যে, তিনি হযরত মিকদাদ (রা)কে মদ বমি করতে দেখেছেন। হযরত উমার (রা) বলেন, যে ব্যক্তি মদ বমি করবে, সে মদ পান করেছে। আর তিনি এ ধরনের বমিকারীকে বেত্রাঘাত করেছেন। ইতঃপূর্বে ওয়ালীদ ইবন 'উকবা সম্পর্কেও বর্ণিত হয়েছে যে, তার ব্যাপারে হুমরান সাক্ষ্য দেন যে, সে মদ পান করেছে। অপরজন সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি মদ বমি করতে দেখেছেন। তখন হযরত উসমান (রা) বলেছেন, সে মদ না খেয়ে বমি করতে পারে না। এ বর্ণনাগুলো থেকে জানা যায় যে, বমিও মদ্যপায়িতার একটি প্রমাণ।
তবে হানাফী ও শাফি'ঈগণের মতে, কেউ মাদক বমি করলে তার দ্বারা হদ্দযোগ্য মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হবে না। কেননা তা কেবল মাদক গ্রহণের সন্দেহ সৃষ্টি করে মাত্র। আর সন্দেহের ওপর ভিত্তি করেই হদ্দ কার্যকর করার বিধান নেই। তাছাড়া এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, সে একান্ত চাপে পড়ে কিংবা অনন্যোপায় হয়ে মাদক সেবন করেছে অথবা সে জানতো না যে, তা নেশার উদ্রেক করবে。

টিকাঃ
৪৪. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৩, পৃ. ১৪২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৯
৪৫. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৯
৪৬. মুসলিম, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ১৭০৭
৪৭. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৯৬; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ. ২৯-৩০; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯. পৃ. ১৭৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00