📄 দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সাক্ষ্য
দুজন ন্যায়-পরায়ণ মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্য দ্বারা মদ সেবন প্রমাণিত হবে। নারীর সাক্ষ্য বা নারী-পুরুষের একত্র সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। সাক্ষীদ্বয়ের সাক্ষ্যে মতভেদ হলে হদ্দ কার্যকর হবে না। মাতলামী অবস্থায় একজনের সাক্ষ্যই যথেষ্ট হবে। মুখের গন্ধ থাকলে দুজন সাক্ষীই লাগবে।
ইমাম আবূ হানীফা (রহ) ও আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের মতে সাক্ষ্য প্রদানকালে মুখে মদের গন্ধ পাওয়া যাওয়া শর্ত। তবে ইমাম মুহাম্মাদ (রহ)-এর মতে, তা শর্ত নয়।
উল্লেখ্য যে, অপরাধ সংঘটনের দীর্ঘ দিন পরের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না। তদুপরি সাক্ষ্য মৌলিক হতে হবে। কারো সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে সাক্ষ্য দিলে তাও গ্রহণযোগ্য হবে না।
ইবনু 'আবিদীন বলেন, বিচারক সাক্ষীদেরকে জেরা করে জেনে নেবেন যে, অপরাধী কোথায়, কখন ও কোন অবস্থায় মদ সেবন করেছে? 'খামার' বলতে কি বোঝায়, তারা জানে কি না? কারণ এমনও তো হতে পারে, সে একান্ত চাপে পড়ে কিংবা অনন্যোপায় হয়ে মদ সেবন করেছে। এও সম্ভাবনা রয়েছে, সাক্ষীরা দীর্ঘদিন পর সাক্ষ্য দিচ্ছে। এ ধরনের সম্ভাবনাও রয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সিরকা পান করেছে, আর সাক্ষীরা মনে করেছে, মদ পান করেছে。
টিকাঃ
৩৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩২; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.৩০২; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.৪০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮
📄 মদসেবনকারীর স্বীকারোক্তি
অপরাধী আদালতের সামনে মাদক গ্রহণের একবার স্বীকারোক্তি করলেই অপরাধ প্রমাণিত হবে। কিন্তু ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে দুবার স্বীকারোক্তি আবশ্যক। অপরাধী তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে হদ্দ রহিত হয়ে যাবে। উল্লেখ্য যে, কোন ব্যক্তি মাতাল অবস্থায় যা কিছু বলে তা নির্ভরযোগ্য নয়। অতএব ঐ অবস্থায় সে মাদক গ্রহণের স্বীকারোক্তি করলে ঐ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না।
টিকাঃ
৩৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩২; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.৩১৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯
📄 মুখে মদের গন্ধ
হানাফী ও শাফি'ঈগণের মতে, কারো মুখ থেকে মাদকের ঘ্রাণ পাওয়া গেলে তা দ্বারা হদ্দযোগ্য মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হবে না। কেননা মুখের গন্ধ মদ্যপান ছাড়া আরো বিভিন্ন কারণেও হতে পারে। যেমন ঢেকুর কিংবা হাঁচির কারণেও মুখ থেকে মাদকের মত দুর্গন্ধ বের হতে পারে। অথবা হতে পারে যে, সে একান্ত চাপে পড়ে কিংবা অনন্যোপায় হয়ে মদ সেবন করেছে অথবা মদ ব্যতীত সে অন্য কোন পানীয় গ্রহণ করেছে; কিন্তু তা থেকে মদের দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তাই শুধু গন্ধের কারণে হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। তবে মালিকীগণের মতে, শাস্তি প্রদানের জন্য গন্ধই যথেষ্ট। মদের মাদকতা চাই থাকুক বা না থাকুক। তাঁদের বক্তব্য হল, মাদকের দুর্গন্ধই মদ্য পানের প্রমাণ বিশেষ। বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত 'উমার, 'উসমান ও 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা) প্রমুখ মুখে মাদকের গন্ধ পেয়েই বিভিন্ন মদ্যপায়ীকে বেত্রাঘাত করেছিলেন। এ থেকেও বোঝা যায়, মুখে মাদকের দুর্গন্ধই হদ্দ প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট।
টিকাঃ
৩৯. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৯৪; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.২৪, পৃ.৩১; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৯৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯. পৃ. ১৭৩
৪০. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫২৩; আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৩, পৃ. ১৪১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯
৪১. আল-বাজী, আল-মুন্তকা, খ.৩, পৃ. ১৪১-২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৮-৯
📄 মাতলামি
কারো কারো মতে, মাতলামিও মদ্যপায়িতার একটি প্রমাণ। তবে অধিকাংশের মতে, তা দ্বারা হদ্দযোগ্য মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হবে না, যতক্ষণ না সাক্ষ্যপ্রমাণ কিংবা অপরাধীর স্বীকারোক্তি দ্বারা তা সুপ্রমাণিত হবে। কেননা মাতলামি মাদক গ্রহণ ছাড়া আরো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তাই শুধু মাতলামির কারণে হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না。
টিকাঃ
৪২. মাতলামি বলতে ব্যক্তির কথাবার্তার বুঝবার এবং নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলাকে বোঝানো হয়। এটি ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর অভিমত। তবে অন্যান্য ইমামের মতে, আবোল-তাবোল বকাবকি করা, পর-আপন ও ভাল-মন্দ পার্থক্য করতে না পারা কেই মাতলামি বলা হয়। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৪০-১)
৪৩. আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৫, পৃ. ৩০৯-৩১০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৩৯; আল-হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯. পৃ. ১৭৩