📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ক্ষমা

📄 ক্ষমা


অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অভিযোগ উত্থাপনকারীকে -আদালতে মামলা দায়েরের আগে হোক কিংবা পরে- ক্ষমা করে দেয়, তাহলে কাযাফের শাস্তি রহিত হয়ে যাবে। কেননা কাযাফের শাস্তি বান্দাহর অধিকারের সাথে জড়িত, যা দাবী ছাড়া কার্যকর করা হয় না। পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে, বান্দাহর অধিকারের সাথে জড়িত শাস্তিসমূহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা দ্বারা রহিত হয়ে যায়। এটা শাফি'ঈ ও হাম্বলী ইমামগণের অভিমত। মালিকীগণের মতে, আদালতে মামলা দায়েরের আগে হলে ক্ষমা করে দেয়া জায়িয; কিন্তু মামলা দায়েরের পরে ক্ষমা করা জায়িয নয়। হানাফীগণের মতে, আদালতে মামলা দায়েরের আগে কিংবা পরে- কোন অবস্থায় কাযাফের দণ্ড ক্ষমা করে দেয়া জায়িয নয়। তাঁদের বক্তব্য হল, কাযাফের শাস্তি নিরেট বান্দাহর অধিকারের সাথে জড়িত নয়; এতে আল্লাহর অধিকারও রয়েছে। আর যে সব শাস্তিতে বান্দাহর অধিকারের সাথে আল্লাহর অধিকার জড়িত রয়েছে, তাতে বান্দাহর ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার নেই。

টিকাঃ
৪২. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৫, পৃ.৩১৬; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৩, পৃ.৩৭৫; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৬, পৃ.৯৩; আর-রুহায়বানী, মাতালিব.., খ.৬, পৃ.১৯৫। হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবু ইউসূফ (রহ) থেকে এ ধরনের একটি মত বর্ণিত রয়েছে। (আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১০৯)
৪৩. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৪৮৮; আস-সাভী, বুলগাতুস সালিক, খ.৪, পৃ.৪৬৭
৪৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১০৯; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ২০৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 লি‘আন

📄 লি‘আন


যদি অভিযোগকারী স্বামী হয় এবং তার এমন কোন সাক্ষী নেই, যারা তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এমতাবস্থায় সে লি'আন করলে কাযাফের হদ্দ রহিত হয়ে যাবে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সাক্ষ্য পেশ

📄 সাক্ষ্য পেশ


যদি অভিযোগ উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযোগকারী শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাবে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ‘মুহসান’-এর চরিত্র হারিয়ে ফেলা

📄 ‘মুহসান’-এর চরিত্র হারিয়ে ফেলা


হানাফী ও মালিকীগণের মতে, অভিযোগ ওঠার পর যদি অভিযুক্ত ব্যক্তির 'মুহসান' চরিত্র নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ অভিযোগ আরোপিত হবার পর কেউ যিনা করল, কিংবা ধর্মত্যাগ করল বা পাগল হয়ে গেল তাহলে অভিযোগকারী শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাবে। কারণ হদ্দ প্রমাণের জন্য যেমন অভিযুক্ত ব্যক্তির মুহসান হওয়া দরকার, তেমনি হদ্দ কার্যকর করার জন্য তার মুহসান হিসেবে নিজেকে ধরে রাখাও প্রয়োজন। শাফি'ঈগণের মতে, হদ্দ কার্যকর করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন যিনায় লিপ্ত হলে অভিযোগকারী শাস্তি থেকে খালাস পেয়ে যাবে। তবে হাম্বলীদের মতে, অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির মুহসান চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য হারিয়ে গেলেও হদ্দ রহিত হবে না। যেমন হদ্দ কার্যকর করার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোন যিনায় লিপ্ত হলে কিংবা পাগল হয়ে গেলে অভিযোগকারী হদ্দ থেকে রেহাই পাবে না。

টিকাঃ
৪৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১২৭; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৩, পৃ.৩৭৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৮, পৃ.৫৬; আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারি খলীল, খ.৪, পৃ.১২৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00