📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 উর্ধ্বতন বা অধস্তন ব্যক্তি না হওয়া

📄 উর্ধ্বতন বা অধস্তন ব্যক্তি না হওয়া


অধিকাংশ ইমামের মতে, অভিযোগকারী অভিযুক্ত ব্যক্তির ঊর্ধ্বতন (যেমন পিতা, মাতা, দাদা) কিংবা অধস্তন (ছেলে, মেয়ে বা নাতি-নাতনি) না হওয়াও শর্ত। তবে মালিকীগণের এক মতানুযায়ী কোন পিতা যদি তার ছেলের বিরুদ্ধে যিনার মিথ্যার অভিযোগ দেয়, তার ওপরও হদ্দ কার্যকর করা হবে。

টিকাঃ
২৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, ১২৩-৪; আল-কাসানী, বাদাই, খ.৭, পৃ.৪২; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ. ১২০-১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৮৯
২৬. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ.১৪৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 অভিযোগের পক্ষে চারজন সাক্ষীর অভিন্ন সাক্ষ্য পেশ করা

📄 অভিযোগের পক্ষে চারজন সাক্ষীর অভিন্ন সাক্ষ্য পেশ করা


অভিযোগ আরোপকারীকে চারজন সাক্ষী দ্বারা তার উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত করতে হবে। যদি সে চারজন সাক্ষী উপস্থাপন করতে না পারে, তবেই তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। চারজন সাক্ষীর অপরাধের অনুকূলে সাক্ষ্য প্রদান করার পর হদ্দ কার্যকর করার আগেই যদি এক বা একাধিক সাক্ষী তার সাক্ষ্য প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে যিনা প্রমাণিত হবে না এবং সাক্ষীগণের সকলেই কাযাফের দণ্ডে দণ্ডিত হবে。
অনুরূপভাবে কোন সাক্ষী সাক্ষ্যদানের অযোগ্য সাব্যস্ত হলে সকল সাক্ষীই কাযাফের দণ্ডে দণ্ডিত হবে, যদি যিনার শাস্তি কার্যকর করার আগেই এ অযোগ্যতা ধরা পড়ে। যদি অভিযুক্তের ওপর বেত্রাঘাতের দণ্ড কার্যকর করার পরেই অযোগ্যতা ধরা পড়ে, ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে, সাক্ষীরা কাযাফের দণ্ড ভোগ করবে এবং সাহেবাইনের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে বায়তুল মাল থেকে 'আরশ' (ক্ষতিপূরণ) প্রদান করতে হবে। যদি রজমের পর অযোগ্যতা ধরা পড়ে তা হলে সাক্ষীদের ওপর হদ্দ কার্যকর হবে না; তবে বায়তুল মাল থেকে দিয়াত প্রদান করতে হবে।
ঘটনার স্থান ও সময়ের ব্যাপারে সাক্ষীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলে তাদের ওপর কাযাফের শাস্তি কার্যকর করা যাবে না। কারণ, সাক্ষীর সংখ্যা চার তো পূর্ণ হয়েছে; তবে তাদের সাক্ষ্যের ত্রুটির কারণে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। অনুরূপভাবে অপরাধীকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও মতভেদ হলে সাক্ষীগণ শাস্তি ভোগ করবে না। অনুরূপভাবে দুজন সাক্ষ্য দিল যে, যিনা জোরপূর্বক সংঘটিত হয়েছে এবং অপর দুজন সাক্ষ্য দিল যে, স্বেচ্ছায় ও সম্মতিতে যিনা সংঘটিত হয়েছে, এ ক্ষেত্রেও সাক্ষীরা দণ্ডযোগ্য হবে না।

টিকাঃ
২৭. ইমাম মুহাম্মদের মতে, শুধু সাক্ষ্য প্রত্যাহারকারী কাযাফের দণ্ডে দণ্ডিত হবে; তবে বিচারকের রায় দেবার আগে প্রত্যাহার করা হলে সকলেকে কাযাফের দণ্ড ভোগ করতে হবে। হদ্দ কার্যকর করার পর কোন সাক্ষী তার সাক্ষ্য প্রত্যাহার করলে সে কাযাফের দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে এক চতুর্থাংশ দিয়াত প্রদান করতে হবে।
২৮. যেমন কোন সাক্ষী সমাজে পাপাচারী বলে কুখ্যাত হলে কিংবা ইতিপূর্বে কাযাফের দণ্ড ভোগ করে থাকলে।
২৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, ৪৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৪০; যায়ল'ঈ, খ.৩, পৃ.১৮৯-১৯০

ফন্ট সাইজ
15px
17px