📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পর স্বীকারোক্তি দান

📄 অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পর স্বীকারোক্তি দান


অধিকাংশ ইমামের মতে, অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পরেও যদি কেউ যিনার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তা আমলে নিয়ে হদ্দ কার্যকর করা হবে। ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যদি কেউ চল্লিশ বৎসর পরে এসেও স্বীকার করে, তাহলেও আমি তার ওপর হদ্দ কার্যকর করব。

টিকাঃ
১০২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৯৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৫১

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তি দানকারীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ

📄 স্বীকারোক্তি দানকারীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ


অধিকাংশ ইমামের মতে, যদি কেউ স্বেচ্ছায় বিচারকের কাছে গিয়ে যিনার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে বিচারক তাকে তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারবে। শাফি'ঈগণের মতে, এটা জায়িয। আর হানাফী ও হাম্বলী ইমামগণের মতে, এটা বিচারকের জন্য মুস্তাহাব। তাঁদের বক্তব্য হল, বর্ণিত রয়েছে, হযরত মা'ইজ (রা) যিনার স্বীকৃতি দেবার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, সম্ভবত তুমি তাকে চুমা দিয়েছ বা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছ কিংবা তার প্রতি নজর দিয়েছ। এ থেকে জানা যায়, বিচারকের জন্য স্বীকৃতি দানকারীকে নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা সমীচীন।

টিকাঃ
১০৩. আবুদাউদ (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ৪৪১৯, ৪৪২৭
১০৪. যায়ল'ঈ, আত-তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.১৬৭; আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.২২৩; বহুতী, কশশাফ, খ.৬, পৃ. ১০৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৭৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 একজনের স্বীকারোক্তি এবং অন্যজনের অস্বীকার

📄 একজনের স্বীকারোক্তি এবং অন্যজনের অস্বীকার


একজন যেনার স্বীকারোক্তি করলে এবং অপরজন অস্বীকার করলে স্বীকারোক্তিকারীর ওপর হদ্দ কার্যকর হবে এবং অস্বীকারকারী রেহাই পাবে। যেমন একজন পুরুষ একজন মেয়ের সাথে যিনা করল। পুরুষটি অপরাধ স্বীকার করল; কিন্তু মেয়েটি অপরাধ অস্বীকার করল। এ অবস্থায় যে অপরাধ স্বীকার করেছে, তার ওপর হদ্দ কার্যকর হবে এবং যে অপরাধ অস্বীকার করেছে সে শাস্তি থেকে রেহাই পাবে। হযরত সাহল ইবন সা'দ (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে যিনার স্বীকারোক্তি করল এবং যে নারীর সাথে যিনা করেছে তার নামও বলল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে নারীকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। সে অপরাধ অস্বীকার করল। তিনি স্বীকারোক্তিকারী পুরুষটির ওপর হদ্দ কার্যকর করলেন এবং মেয়েটিকে রেহাই দিলেন。
অনুরূপভাবে সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত হওয়া ছাড়া কেউ যিনা করে অস্বীকার করলে তার ওপরও হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। এমনকি এ অপরাধ প্রকাশিত হয়ে না পড়লে তা গোপন করে রাখাই শ্রেয়।

টিকাঃ
১০৫. এটা সাহেবাইন ও অন্যান্য ইমামগণের অভিমত। ইমাম আবু হানীফা (রহ)-এর মতে, এ রূপ অবস্থায় স্বীকারোক্তিকারীর ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। তবে মহিলাটি স্বীকারোক্তিকারী পুরুষের প্রতি যদি মিথ্যা অপবাদ আরোপের অভিযোগ করে এবং সে যদি চার জন সাক্ষী পেশ করতে সমর্থ না হয়, তাহলে তার ওপর যিনার নয়, কাযাফের হদ্দ কার্যকর করা হবে। ( যায়ল'ঈ, আত-তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.১৮৪; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ২৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৬১)
১০৬. আবূ দাউদ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৪৩৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00