📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী

📄 স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী


১. প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কেউ যিনার স্বীকারোক্তি প্রদান করলেও হদ্দ কার্যকর করা হবে না।
২. সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন হতে হবে। পাগল ও মাতাল ব্যক্তির স্বীকারোক্তি আমলে নেয়া হবে না।
৩. বাকসম্পন্ন হতে হবে। ইশারা ও লিখিতভাবে স্বীকার মৌখিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার মতো। তবে বোবাদের স্বীকারোক্তি হানাফীগণের মতে আমলযোগ্য নয়। অন্য তিন ইমামের মতে বোবার লিখিত ও ইশারায় স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হবে, যদি ইশারা দ্বারা যিনা বোঝায়।
৪. পূর্ণ স্বাধীনতা ও এখতিয়ার থাকতে হবে। জোর-জবরদস্তি করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

টিকাঃ
৯৪. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৯৮; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৬৬; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১৩১; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৬২-৬৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী

📄 স্বীকারোক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী


১. চার বার স্বীকারোক্তি প্রদান করতে হবে। এটা হানাফী ও হাম্বলীগণের অভিমত। তাঁদের মতানুযায়ী চারবারের কম স্বীকারোক্তি করলে যিনার শাস্তি কার্যকর হবে না। বর্ণিত রয়েছে, হযরত মা'ইয (রা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে এসে যিনার স্বীকারোক্তি দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে তিনি চারবারই স্বীকারোক্তি দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথম তিন বারেই মুখ ফিরিয়ে নিলেন। চতুর্থবার তার কথা আমলে নিলেন। এ থেকে জানা যায় যে, যদি একবার স্বীকারোক্তিই হদ্দের জন্য যথেষ্ট হত, তা হলেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেনই বা চতুর্থবার স্বীকারোক্তি দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। মালিকী ও শাফি'ঈগণের মতে, চার চারবার স্বীকার করার প্রয়োজন নেই; বরং একবার স্বীকার করাই শাস্তি কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট।
২. ভিন্ন ভিন্ন এজলাসে স্বীকারোক্তি প্রদান করতে হবে
যে সব ইমামের দৃষ্টিতে, চার বার স্বীকৃতি দিতে হবে, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ হানাফীগণের মতে, এই চারবার স্বীকৃতি ভিন্ন ভিন্ন চারটি এজলাসে সম্পন্ন হতে হবে। তবে অন্যদের মতে, এক মজলিসে চারবার স্বীকৃতি দানও যথেষ্ট হবে।
৩. বিচারকের এজলাসে স্বীকারোক্তি প্রদান করতে হবে।
৪. স্বীকারোক্তি সুস্পষ্ট ও বিশদ বর্ণনাসম্বলিত হতে হবে। অস্পষ্ট স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কখন, কার সাথে, কোন স্থানে, কোন অবস্থায় ও কিভাবে সঙ্গম করা হল তার বিশদ বিবরণ স্বীকারোক্তিতে থাকা প্রয়োজন।
৫. স্বীকারোক্তির ওপর অটল থাকতে হবে। যদি স্বীকারোক্তি প্রদানকারী নারী-পুরুষ কোন পর্যায়ে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তাছাড়া হদ্দ কার্যকর করার সময়েও যদি কেউ নিজের স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসে, তাহলে বাকী হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। বর্ণিত রয়েছে, হযরত মা'ইয (রা) যখন পাথরের প্রচণ্ড আঘাত সহ্য করতে না পেরে পালাতে শুরু করলেন, তখন লোকেরা তার পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে ধরে ফেলে এবং প্রস্তারাঘাতে সে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘটনাটি জানতে পেরে বললেন, هلا تركتموه لعله .أن يتوب فيتوب الله عليه - “তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না? হয়ত সে তাওবা করত এবং আল্লাহও তার তাওবা কবুল করতেন।" এ থেকে জানা যায় যে, স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নিলে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং এ রূপ অবস্থায় হদ্দ প্রয়োগ করা যায় না。

টিকাঃ
৯৫. সহীহ মুসলিম, (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ১৬৯১, ১৬৯২; আবু দাউদ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৪১৯
৯৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৮৯-৯২; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৫০-১; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৪৭২; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৭, পৃ. ১৩২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.১, পৃ.৬০
৯৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৮৯-৯২; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৫০-১; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৭, পৃ. ১৩২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৬১
৯৮. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৭, পৃ. ১৩২; মুল্লা খসরু, দুরারুল হুক্কাম, খ.২, পৃ.৭৪
৯৯. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৬৬; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ.২৩৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.১, পৃ.৬১
১০০. আবূ দাউদ (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৪১৯
১০১. ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ.২২২-৩; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ১০; আল-বুজায়রমী, আত-তাজরীদ, খ.৪, পৃ.২১৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পর স্বীকারোক্তি দান

📄 অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পর স্বীকারোক্তি দান


অধিকাংশ ইমামের মতে, অপরাধ সংঘটিত করার দীর্ঘ দিন পরেও যদি কেউ যিনার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তা আমলে নিয়ে হদ্দ কার্যকর করা হবে। ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যদি কেউ চল্লিশ বৎসর পরে এসেও স্বীকার করে, তাহলেও আমি তার ওপর হদ্দ কার্যকর করব。

টিকাঃ
১০২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৯৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৫১

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তি দানকারীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ

📄 স্বীকারোক্তি দানকারীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ


অধিকাংশ ইমামের মতে, যদি কেউ স্বেচ্ছায় বিচারকের কাছে গিয়ে যিনার স্বীকৃতি দেয়, তাহলে বিচারক তাকে তার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারবে। শাফি'ঈগণের মতে, এটা জায়িয। আর হানাফী ও হাম্বলী ইমামগণের মতে, এটা বিচারকের জন্য মুস্তাহাব। তাঁদের বক্তব্য হল, বর্ণিত রয়েছে, হযরত মা'ইজ (রা) যিনার স্বীকৃতি দেবার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, সম্ভবত তুমি তাকে চুমা দিয়েছ বা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরেছ কিংবা তার প্রতি নজর দিয়েছ। এ থেকে জানা যায়, বিচারকের জন্য স্বীকৃতি দানকারীকে নিজের বক্তব্য ফিরিয়ে নেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা সমীচীন।

টিকাঃ
১০৩. আবুদাউদ (কিতাবুল হুদুদ), হা.নং: ৪৪১৯, ৪৪২৭
১০৪. যায়ল'ঈ, আত-তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.১৬৭; আল-বাবরতী, আল-'ইনায়াহ, খ.৫, পৃ.২২৩; বহুতী, কশশাফ, খ.৬, পৃ. ১০৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৭৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00