📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 দুজনের এক জন পুরুষ এবং অপরজন নারী হওয়া

📄 দুজনের এক জন পুরুষ এবং অপরজন নারী হওয়া


যিনার হদ্দ ওয়াজিব হবার জন্য যিনাকারীদের দুজনের একজনকে পুরুষ আর অপরজনকে নারী হতে হবে। যদি দুজনই সমজাতীয় হয় কিংবা একজন পশু হয়, তাহলে কারো ওপর হদ্দ কায়িম কার্যকর করা যাবে না。

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 সন্দেহমুক্ত হওয়া

📄 সন্দেহমুক্ত হওয়া


যিনার হদ্দ কার্যকর করার জন্য যৌন মিলনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারবে না। কেউ যদি কোন সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কারো সাথে সঙ্গম করে, তাহলে একে যিনা হিসেবে বিবেচনা করে তার ওপর হদ্দ কায়েম করা যাবে না; তবে ক্ষেত্রবিশেষে সন্দেহের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আদালত প্রয়োজন মনে করলে তাকে যথোপযুক্ত তা'যীরী শাস্তি দিতে পারবে। এ সন্দেহ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন-
ক. স্ত্রী মনে করে কারো সাথে সহবাস করা
যেমন- কেউ যদি বাসর রাতে নিজের শয্যায় শায়িত কোন মেয়েকে দেখতে পেল এবং বাড়ির লোকজনও তাকে বলল যে, সে তার স্ত্রী। এমতাবস্থায় সে নিজের স্ত্রী মনে করে যদি তার সাথে সহবাস করে, তার ওপর হদ্দ জারি করা যাবে না। অনুরূপভাবে কেউ যদি রাত্রে অন্ধকারের মধ্যে নিজের বিছানায় শায়িত কোন ঘুমন্ত মেয়ে দেখতে পেয়ে তাকে স্ত্রী মনে করেই সহবাস করে, তাহলে তার ওপরও হদ্দ জারি করা যাবে না। তবে এরূপ অবস্থা ছাড়া অন্য অবস্থায় কেউ যদি কোন মহিলার সাথে ব্যভিচার করে দাবী করে যে, সে তাকে স্ত্রী মনে করেই সঙ্গম করেছে, তা হলে তার কথা ধর্তব্য হবে না。
খ. কোন মেয়েকে নিজের জন্য হালাল মনে করে সহবাস করা যেমন-কেউ যদি নিজের তিন তালাকপ্রাপ্তা কিংবা খুলা'আ তালাকাপ্রাপ্তা বা এক তালাকে বায়িন প্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে ইদ্দত চলাকালীন সময়ের মধ্যে সঙ্গম করে এবং বলে যে, এ অবস্থায় সঙ্গম করা হারাম- তা তার জানা ছিল না, তাহলে উক্ত সঙ্গম যিনা হিসেবে ধর্তব্য হবে না এবং তার ওপর হদ্দ জারি করা যাবেনা; তবে আদালত বিবেচনা করলে তাকে তা'যীরের আওতায় শাস্তি দিতে পারে।
উল্লেখ্য যে, এ অবস্থায় কেউ সঙ্গম করা নিষিদ্ধ জেনে সঙ্গম করলে তা যিনা হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং তার ওপর যিনার হদ্দ কার্যকর করতে হবে। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে আইনসিদ্ধভাবে তিন তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত শেষে আইনসিদ্ধ পন্থা ব্যতীত তাকে স্ত্রীত্বে ফিরিয়ে নিলে, অতঃপর তার সাথে সঙ্গম করলে উক্ত সঙ্গমক্রিয়া যিনা হিসেবে গণ্য হবে এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনের ওপরই যিনার হদ্দ কার্যকর হবে。
গ. কোন মুহরামা আত্মীয়ার সাথে রীতিমত 'আকদ সম্পন্ন করে সহবাস করা যে সব মহিলাকে বিয়ে করা হারাম, সে সব মহিলার সাথে যদি কেউ আকদ সুসম্পন্ন করে সহবাস করে, তাহলে তার ওপরও হদ্দ জারি করা যাবে না। তবে তাকে মাহর আদায় করতে হবে এবং তাকে কঠোরতর তা'যীরী শাস্তি দেয়া হবে, যদি সে হারাম জেনেই এ কাজ করে থাকে। যদি সে না জেনেই এ কাজ করে, তাহলে না তার ওপর হদ্দ জারি করা যাবে, না তা'যীর। এটা ইমাম আবু হানীফা (রহ) অভিমত। তবে সাহেবাইনের মতে, যদি সে হারাম জানার পরে এ কাজ করে থাকে, তাহলে তার ওপর হদ্দ জারি করা হবে। যদি না জেনেই করে থাকে, তবেই তার ওপর হদ্দ জারি করা হবে না।
ঘ. অবৈধভাবে কিংবা বিতর্কিত বিয়ে করে সহবাস করা
যে বিয়ে সুসম্পন্ন হয়নি (যেমন- সাক্ষ্য ছাড়া বিয়ে করা) কিংবা যে বিয়ের ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে (যেমন- অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করা) কেউ যদি এ ধরনের বিয়ে করে সহবাস করে, তাহলেও তার ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না। এ বিষয়ে ইমামগণের কারো দ্বিমত নেই।
ঙ. নিজের স্ত্রীর সাথে অবৈধ অবস্থায় সহবাস করা
যে সব অবস্থায় নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম (যেমন- হায়য কিংবা রোযা বা ইহরামরত অবস্থা), কেউ যদি এ সব অবস্থায় তার সাথে সহবাস করে তার ওপরও হদ্দ জারি করা যাবে না。

টিকাঃ
ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.১২; শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.১, পৃ, ৫৯২-৫৯৩
৮৯. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ৮৭; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩৭
৯০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ৮৮; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৭৬-৭; ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ২৫০-২; ইবনু আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ.২৪-৫। অন্যান্য ইমামগণের মতে- সর্বাবস্থায় এ ধরনের ব্যক্তির ওপর হদ্দ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হবে। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ৫৪-৫)
৯১. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ৮৫-৬; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩৫-৬; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৭৯-১৮০; ইবনু আবিদীন, রাদ্দুল মুদ্ধতার, খ.৪, পৃ.২৪-৫
৯২. আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ.৩৫; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৭৯-১৮০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ৫৫
৯৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00