📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 নারীর জননেন্দ্রিয়ে সঙ্গম করা

📄 নারীর জননেন্দ্রিয়ে সঙ্গম করা


যদি নিজের স্ত্রী নয় এমন কোন নারীর সম্মুখভাগের জননেন্দ্রিয় দিয়ে সঙ্গম করা হয়, তা হলেই হদ্দ কার্যকর হবে। যদি পশ্চাদ্বার দিয়ে সঙ্গম করা হয়, তাহলেও অধিকাংশ ইমামের মতে যিনার হদ্দ কার্যকর করা হবে। কেননা পশ্চাদ্বারও সম্মুখভাগের মতোই যৌনলিপ্সা পূরণের একটি গুপ্তাঙ্গ। তবে ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে, এমতাবস্থায় হদ্দ কার্যকর করা হবে না; বরং তা'যীর করা হবে। শাফি'ঈগণের মতে, এমতাবস্থায় কেবল পুরুষের ওপরই হদ্দ কার্যকর করা হবে। নারীকে- বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত- বেত্রাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দণ্ড দেয়া হবে।
যদি কোন স্বামী নিজের স্ত্রীর গুহ্যদ্বার দিয়ে সঙ্গম করে, তাহলে তাদের ওপর হদ্দ জারি করা যাবে না। তবে স্বামীকে এ অযাচিত কাজে লিপ্ত হবার দরুন তা'যীর করা যাবে। শাফি'ঈগণের মতে, যদি সে বারংবার করে, তবেই তাকে তা'যীর করা যাবে。

টিকাঃ
৬৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৭৭-৭৮; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১২৫-৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বেচ্ছায় সঙ্গম করা

📄 স্বেচ্ছায় সঙ্গম করা


যদি নারী-পুরুষ দুজনেই সম্মত হয়ে সঙ্গম করে তাহলেই হদ্দ কার্যকর হবে। যিনা অবস্থায় নারী যদি অনড় ও শান্ত থাকে, তাহলে বোঝা যাবে যে, সে এ কাজে সম্মত রয়েছে। যদি কোন মেয়েকে বলাৎকার করা হয় কিংবা জোরপূর্বক ছিনতাই করে ধর্ষণ করা হয়, তাহলে ইমামগণের সর্বসম্মত মতানুযায়ী তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- "رفع عن أمتي الخطأ و النسيان و ما استكرهوا عليه উম্মাত থেকে ভুল-ত্রুটি ও জোরপূর্বক যে সব কাজ করা হয় তার পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।" হযরত ওয়া'ইল (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে অন্ধকারে নামাযে যাওয়ার জন্য বের হয়। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তাকে ধরে জোরপূর্বক তাঁর সতীত্ব হরণ করে। মহিলার চিৎকারে চারদিক থেকে লোকজন জড়ো হল এবং ধর্ষণকারীকে ধরে ফেলল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধর্ষণকারীকে রজমের শাস্তি দিলেন এবং মহিলাটিকে বললেন, তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন。
অনুরূপভাবে কোন পুরুষকেও জোরজবরদস্তি করে যিনা করতে বাধ্য করা হলে তার ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না, সে বেকসুর খালাস পাবে। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হাম্বলী ও অধিকাংশ মালিকীর মতে, তার ওপরও হদ্দ কায়েম করতে হবে। তাদের কথা হল, যদিও তাকে যিনা করতে বাধ্য করা হচ্ছে; কিন্তু রতিক্রিয়াটি যেহেতু সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা ছাড়া সুসম্পন্ন হতে পারে না, তাই শান্ত ভাবে যিনা করার অর্থ এ দাঁড়ায় যে, সে ইচ্ছাকৃতভাবেই যিনা করেছে। ইমাম শাফি'ঈ এবং হানাফীগণের মধ্যে সাহেবাইনের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা তার প্রতিনিধি কোন পুরুষকে জোরপূর্বক যিনা করতে বাধ্য করলে যিনাকারীর শাস্তি হবে না। তবে বলপ্রয়োগকারী রাষ্ট্র প্রধান বা তার প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কেউ হলে সে আদালতের সুবিবেচনা অনুযায়ী তা'যীর (সাধারণ দণ্ড) ভোগ করবে। কোন কারণে শাস্তি মওকুফ হলে ধর্ষণকারী কর্তৃক ধর্ষিতাকে যথোপযুক্ত মাহর পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে。

টিকাঃ
৬৬. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুর'আনিল আযীম, খ.২, পৃ. ১৪৫; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.১, পৃ.৬
৬৭. আত্ তিরমিযী, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ১৪৫৪
৬৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ৫৯, খ.২৪, পৃ. ৮৯-৯০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ১৮০-১; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ. ১৫৮, খ.৯, পৃ. ৫৭

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ইসলামী রাষ্ট্রে যিনা সম্পন্ন হওয়া

📄 ইসলামী রাষ্ট্রে যিনা সম্পন্ন হওয়া


হানাফীগণের মতে, হদ্দ কায়েমের জন্য যিনা ইসলামী রাষ্ট্রেই সম্পন্ন হতে হবে। কোন মুসলিম যদি দারুল হারবে (অমুসলিম শত্রু রাষ্ট্র) যিনা করে দেশে ফিরে আসে এবং বিচারকের কাছে নিজের যিনার কথা স্বীকার করে, তাহলে তার ওপর হদ্দ কায়েম করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من زنى أو سرق في دار الحرب و أصاب بها حدا ثم هرب فخرج - إلينا فإنه لا يقام عليه الحد. "যে ব্যক্তি দারুল হারবে চুরি কিংবা যিনা করে হদ্দের শাস্তি ভোগের উপযোগী হল। এরপর সে পালিয়ে আমাদের কাছে চলে আসল, তাহলে তার ওপর হদ্দ কায়েম করা যাবে না।"
তদুপরি হানাফীগণের মতে, কোন অভিযানের সময় শত্রুদেশে অবস্থান কালেও কারো ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না। হযরত আবুদ্দারদা (রা) সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি শত্রুদেশে কোন হদ্দের অপরাধীর ওপর হদ্দ কায়িম করতে নিষেধ করতেন। শাফি'ঈগণের মতে, দারুল হারবে হদ্দ কায়েম করতে কোন অসুবিধা নেই, যদি অপরাধী মুরতাদ হয়ে শত্রুদের সাথে মিলিত হবার কোন আশঙ্কা না থাকে। হাম্বলীগণের মতে, কোন মুসলিম যদি শত্রুদেশে কোন হদ্দের অপরাধ করে, তাহলে শত্রুদেশে তার ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না; বরং দেশে ফিরে আসার পরেই তার ওপর হদ্দ কায়িম করা হবে。

টিকাঃ
৬৯. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ২৬৬
৭০. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৮২; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৩৪; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.১৮; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫,পৃ. ২৬৬-৭
৭১. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ২৬৭
৭২. ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ২৬৬-৭; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ১৬৯

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ব্যভিচারে লিপ্ত নারী-পুরুষ বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া

📄 ব্যভিচারে লিপ্ত নারী-পুরুষ বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া


হানাফীগণের মতে হদ্দ কায়েমের জন্য যিনাকারীকে বাকশক্তিসম্পন্ন হতে হবে। অতএব, তাদের দৃষ্টিতে সন্দেহের অবকাশ থেকে যাওয়ায় কোন বোবার ওপর কোনক্রমেই হদ্দের শাস্তি কার্যকর করা যাবে না। এমন কি সে যদি চার চার বার লিখে কিংবা ইশারা করে বোঝায় যে, সে যিনা করেছে এবং সাক্ষীরাও যদি তার যিনার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলেও তার ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না। তবে অপরাপর ইমামগণের মতে, যিনার হদ্দের শাস্তি প্রয়োগের জন্য ব্যভিচারীর বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া শর্ত নয়। তাই তাঁদের দৃষ্টিতে, বোবা যদি যিনা করে এবং সে যদি লিখে কিংবা ইশারা করে বোঝায় যে, সে যিনা করেছে অথবা সাক্ষীরা যদি তার যিনার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে তার ওপর হদ্দ কায়েম করা ওয়াজিব হবে。

টিকাঃ
৭৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৫, পৃ. ৫৫, খ.৯, পৃ. ৯৮, ১২৯; শায়খী যাদাহ, মাজমা'.., খ.২, পৃ. ৭৩২-৩; আল-বহুতী, কাশশাফ, খ.৬, পৃ.৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00