📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 পুরুষাঙ্গ নারীর জননেন্দ্রিয়ে প্রবিষ্ট করা

📄 পুরুষাঙ্গ নারীর জননেন্দ্রিয়ে প্রবিষ্ট করা


পুরষাঙ্গ পুরোই কিংবা পুরুষাঙ্গের কর্তিত সম্পূর্ণ অগ্রভাগ যদি নারীর যোনীতে প্রবেশ করে, তবেই হদ্দের বিধান কার্যকর করা হবে। চাই বীর্যপাত হোক বা না হোক, পুরুষাঙ্গ সম্প্রসারিত হোক বা না হোক- সর্বাবস্থায় হদ্দ কার্যকর করা হবে। যদি পুরুষাঙ্গ মোটেই প্রবেশ করানো না হয় কিংবা মাথার সামান্য অংশই প্রবেশ করানো হয়, তাতে হদ্দ সাব্যস্ত হবে না। কেননা এ ধরনের অবস্থাকে যৌন সঙ্গম বলা হয় না。

টিকাঃ
৬১. ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ.২৪৮; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১২৫-৬

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবগত থাকা

📄 যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবগত থাকা


হদ্দ কার্যকর করার জন্য যিনাকারীর যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। হযরত 'উমার, উসমান ও 'আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন, لا حد إلا من علمه - "হদ্দ কেবল সে ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য হবে, যে তা জানে।" যদি সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী কিংবা মুসলিম সমাজ থেকে অনেক দূরে অবস্থানকারী অথবা যিনার বৈধতায় বিশ্বাসী জনসমাজের সাথে বসবাসকারী কোন ব্যভিচারী যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করে এবং এর সুস্পষ্ট প্রমাণও মিলে, তাহলে সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি হওয়ায় তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। হযরত সা'ঈদ ইবনু মুসাইয়‍্যাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামানের জনৈক ব্যক্তি যিনা করেছিল। এ খবর হযরত 'উমার (রা)-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি চিঠি লিখে জানালেন যে إن كان يعلم أن الله حرم الزنى فاجلدوه ، و إن كان لا يعلم فعلموه فإن عاد فاجلدوه - "যদি সে জানে যে, আল্লাহ তা'আলা যিনা হারাম করেছেন, তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করো। যদি সে না জানে, তাহলে তাকে বিধানটি জানিয়ে দাও। এর পর যদি সে ফের যিনা করে, তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করো।" অন্য একটি ঘটনায় যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করায় যিনা করার পর সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তিকেও হযরত 'উমার (রা) ছেড়ে দিয়েছিলেন। এসব বর্ণনা থেকে জানা যায়, হদ্দ কার্যকর করার জন্য যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যিনাকারীর জ্ঞান থাকতে হবে। তবে মুসলিম সমাজে বসাবাসী কোন মুসলিম যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা মুসলিম সমাজে বসবাস করে যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনবহিত থাকবে - তা অসম্ভব ব্যাপার।

টিকাঃ
৬২. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৬
৬৩. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৭৯; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৩, পৃ.২২৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৬
৬৪. আল-মাওসৃ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.২৪, পৃ.২৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 নারীর জননেন্দ্রিয়ে সঙ্গম করা

📄 নারীর জননেন্দ্রিয়ে সঙ্গম করা


যদি নিজের স্ত্রী নয় এমন কোন নারীর সম্মুখভাগের জননেন্দ্রিয় দিয়ে সঙ্গম করা হয়, তা হলেই হদ্দ কার্যকর হবে। যদি পশ্চাদ্বার দিয়ে সঙ্গম করা হয়, তাহলেও অধিকাংশ ইমামের মতে যিনার হদ্দ কার্যকর করা হবে। কেননা পশ্চাদ্বারও সম্মুখভাগের মতোই যৌনলিপ্সা পূরণের একটি গুপ্তাঙ্গ। তবে ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে, এমতাবস্থায় হদ্দ কার্যকর করা হবে না; বরং তা'যীর করা হবে। শাফি'ঈগণের মতে, এমতাবস্থায় কেবল পুরুষের ওপরই হদ্দ কার্যকর করা হবে। নারীকে- বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত- বেত্রাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দণ্ড দেয়া হবে।
যদি কোন স্বামী নিজের স্ত্রীর গুহ্যদ্বার দিয়ে সঙ্গম করে, তাহলে তাদের ওপর হদ্দ জারি করা যাবে না। তবে স্বামীকে এ অযাচিত কাজে লিপ্ত হবার দরুন তা'যীর করা যাবে। শাফি'ঈগণের মতে, যদি সে বারংবার করে, তবেই তাকে তা'যীর করা যাবে。

টিকাঃ
৬৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৭৭-৭৮; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১২৫-৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বেচ্ছায় সঙ্গম করা

📄 স্বেচ্ছায় সঙ্গম করা


যদি নারী-পুরুষ দুজনেই সম্মত হয়ে সঙ্গম করে তাহলেই হদ্দ কার্যকর হবে। যিনা অবস্থায় নারী যদি অনড় ও শান্ত থাকে, তাহলে বোঝা যাবে যে, সে এ কাজে সম্মত রয়েছে। যদি কোন মেয়েকে বলাৎকার করা হয় কিংবা জোরপূর্বক ছিনতাই করে ধর্ষণ করা হয়, তাহলে ইমামগণের সর্বসম্মত মতানুযায়ী তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- "رفع عن أمتي الخطأ و النسيان و ما استكرهوا عليه উম্মাত থেকে ভুল-ত্রুটি ও জোরপূর্বক যে সব কাজ করা হয় তার পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।" হযরত ওয়া'ইল (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে অন্ধকারে নামাযে যাওয়ার জন্য বের হয়। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তাকে ধরে জোরপূর্বক তাঁর সতীত্ব হরণ করে। মহিলার চিৎকারে চারদিক থেকে লোকজন জড়ো হল এবং ধর্ষণকারীকে ধরে ফেলল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধর্ষণকারীকে রজমের শাস্তি দিলেন এবং মহিলাটিকে বললেন, তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন。
অনুরূপভাবে কোন পুরুষকেও জোরজবরদস্তি করে যিনা করতে বাধ্য করা হলে তার ওপর হদ্দ কায়িম করা যাবে না, সে বেকসুর খালাস পাবে। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হাম্বলী ও অধিকাংশ মালিকীর মতে, তার ওপরও হদ্দ কায়েম করতে হবে। তাদের কথা হল, যদিও তাকে যিনা করতে বাধ্য করা হচ্ছে; কিন্তু রতিক্রিয়াটি যেহেতু সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা ছাড়া সুসম্পন্ন হতে পারে না, তাই শান্ত ভাবে যিনা করার অর্থ এ দাঁড়ায় যে, সে ইচ্ছাকৃতভাবেই যিনা করেছে। ইমাম শাফি'ঈ এবং হানাফীগণের মধ্যে সাহেবাইনের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার বা তার প্রতিনিধি কোন পুরুষকে জোরপূর্বক যিনা করতে বাধ্য করলে যিনাকারীর শাস্তি হবে না। তবে বলপ্রয়োগকারী রাষ্ট্র প্রধান বা তার প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য কেউ হলে সে আদালতের সুবিবেচনা অনুযায়ী তা'যীর (সাধারণ দণ্ড) ভোগ করবে। কোন কারণে শাস্তি মওকুফ হলে ধর্ষণকারী কর্তৃক ধর্ষিতাকে যথোপযুক্ত মাহর পরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে。

টিকাঃ
৬৬. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুর'আনিল আযীম, খ.২, পৃ. ১৪৫; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.১, পৃ.৬
৬৭. আত্ তিরমিযী, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ১৪৫৪
৬৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ৫৯, খ.২৪, পৃ. ৮৯-৯০; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ১৮০-১; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ. ১৫৮, খ.৯, পৃ. ৫৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00