📄 মুসলিম হওয়া
যিনার অপরাধে লিপ্ত নর-নারীকে মুসলিম হতে হবে। যদি কাফির পুরুষ কাফির নারীর সাথে যিনা করে, তাহলে তাদের ওপর শরী'আতের হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তবে রাষ্ট্রীয় শাস্তি কিংবা তাদের ধর্মীয় শাস্তি কার্যকর করা হবে। যদি কোন কাফির কোন মুসলিম নারীর সাথে তার সম্মতিক্রমে যিনা করে, তাহলে মালিকীগণের মতে, তার ওপর হদ্দের শাস্তি বর্তাবে না; তবে মুসলিম মহিলার ওপর হদ্দের শাস্তি কার্যকর করা হবে। যদি সে মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক যিনা করে তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। শাফি'ঈ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, মুসলিম হোক কিংবা যিম্মী (ইসলামী রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক) সকলের ওপর হদ্দের বিধান কার্যকরা করা হবে。
টিকাঃ
৫২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৫৫-৬; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৪৮৪, ৫০৮; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৫০; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ. ১০৬
📄 প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন (মুকাল্লাফ) হওয়া
যিনার অপরাধে লিপ্ত নর বা নারীকে মুকাল্লাফ (শরী'আতের নির্দেশাবলী পালনে আদিষ্ট) অর্থাৎ প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে। সুতরাং অপ্রাপ্ত বয়স্ক নর বা নারী কিংবা পাগলরা যদি যিনা করে, তাদের ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না; তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং তা'যীরের আওতায় আদালত তাদেরকে শাস্তি দিতে পারবে।
- নাবালিগাদের সাথে যিনার বিধান
যদি কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন পুরুষ সঙ্গমের উপযোগী কোন ছোট মেয়ের সাথে সঙ্গম করে তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। যদি মেয়ে এতই ছোট হয় হয় যে, সে স্বাভাবিকভাবে সঙ্গমের উপযোগী নয়, তাহলে যিনাকারীর ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তেমনিভাবে মেয়েটির ওপরও হদ্দ কার্যকর করা যাবে না。
- পাগল মেয়ের সাথে যিনার বিধান
যদি কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন পুরুষ কোন পাগল মেয়ের সাথে সঙ্গম করে, তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে। তবে মেয়েটির ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির যিনার বিধান
নেশাগ্রস্ত ও মাতাল অবস্থায় কোন ব্যক্তি কোন নারীর সাথে সঙ্গম করলে তা যিনার আওতায় পড়বে এবং অপরাধীর ওপর যিনার হদ্দ কার্যকর করতে হবে。
- ঘুমন্ত মহিলার সাথে যিনার বিধান ঘুমন্ত মহিলার সাথে কেউ যিনা করলে তাতে তার ওপর হদ্দ কার্যকর হবে না। হযরত সা'ঈদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ স্বামীহীনা জনৈকা গর্ভবতী মহিলাকে হযরত 'উমার (রা)-এর দরবারে হাযির করা হল। মহিলাটি হযরত 'উমার (রা)কে বলল, তার খুব গভীর ঘুম হত। একদিন এ অবস্থায় একজন লোক রাতে তার ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার সাথে সঙ্গম শুরু করে। সে জেগে দেখতে পায় যে, লোকটি কাজ সেরে চলে গেছে। হযরত 'উমার (রা) মহিলাটির কথা গ্রহণ করে তাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন。
- ভুলবশত সঙ্গমের শাস্তি ভুলবশত কোন পুরুষ যদি কোন মহিলার সাথে যিনা করে, তাহলেও তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা হবে না। যেমন দুই ভাই দু সহোদরাকে বিয়ে করল। রাত্রিবেলা ভুলবশত বাসর ঘরে একের স্ত্রীকে অপরের সাথে দেয়া হল এবং সকাল বেলা এই ভুল ধরা পড়ল। এ ক্ষেত্রে সঙ্গমক্রিয়াকে যিনা রূপে গণ্য করা হবে না এবং সঙ্গমকারী দুজনেই কোনরূপ শাস্তির সম্মুখীন হবে না। অনুরূপভাবে কেউ যদি অন্ধকারের মধ্যে নিজের শয্যায় ঘুমন্ত কোন বেগানা মেয়েকে নিজের স্ত্রী মনে করে সহবাস করে এবং পরে দেখতে পায় যে, যার সাথে সে সহবাস করেছে সে তার স্ত্রী নয়, তাহলে তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। কেননা তার মধ্যে হারাম কাজে লিপ্ত হবার বাসনা ছিল না。
টিকাঃ
৫৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ৩৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৪, পৃ. ৫৪; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ১৭২, ১৮৭
৫৪. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, رفع القلم عن ثلث : عن الصبي حتى يبلغ ، وعن النائم حتى يستيقظ ، و عن المجنون حتى يفيق . বালক থেকে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত, ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত এবং পাগল থেকে হুঁশ ফিরে পাওয়া পর্যন্ত কলম উঠিয়ে রাখা হয়।" অর্থাৎ তাদের দোষত্রুটিগুলো আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। (আবূ দাউদ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৩৯৯, ৪৪0১, ৪৪0২)
৫৫. আল-কাসানী, বদাই, খ.৭, পৃ. ৩৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৪, পৃ. ৫৪; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ১৭২, ১৮৭
৫৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৫৪
৫৭. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৯৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৪, পৃ. ২৮৯
৫৮. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৮৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৬২
৫৯. ইবনু হাজর আল আসকালানী, ফাতহুল বারী, খ.১২, পৃ.১৫৪
৬০. আল-মাওস্'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২৪, পৃ. ২১
📄 পুরুষাঙ্গ নারীর জননেন্দ্রিয়ে প্রবিষ্ট করা
পুরষাঙ্গ পুরোই কিংবা পুরুষাঙ্গের কর্তিত সম্পূর্ণ অগ্রভাগ যদি নারীর যোনীতে প্রবেশ করে, তবেই হদ্দের বিধান কার্যকর করা হবে। চাই বীর্যপাত হোক বা না হোক, পুরুষাঙ্গ সম্প্রসারিত হোক বা না হোক- সর্বাবস্থায় হদ্দ কার্যকর করা হবে। যদি পুরুষাঙ্গ মোটেই প্রবেশ করানো না হয় কিংবা মাথার সামান্য অংশই প্রবেশ করানো হয়, তাতে হদ্দ সাব্যস্ত হবে না। কেননা এ ধরনের অবস্থাকে যৌন সঙ্গম বলা হয় না。
টিকাঃ
৬১. ইবনুল হুমام, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ.২৪৮; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১২৫-৬
📄 যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবগত থাকা
হদ্দ কার্যকর করার জন্য যিনাকারীর যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। হযরত 'উমার, উসমান ও 'আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন, لا حد إلا من علمه - "হদ্দ কেবল সে ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য হবে, যে তা জানে।" যদি সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী কিংবা মুসলিম সমাজ থেকে অনেক দূরে অবস্থানকারী অথবা যিনার বৈধতায় বিশ্বাসী জনসমাজের সাথে বসবাসকারী কোন ব্যভিচারী যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করে এবং এর সুস্পষ্ট প্রমাণও মিলে, তাহলে সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি হওয়ায় তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। হযরত সা'ঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়ামানের জনৈক ব্যক্তি যিনা করেছিল। এ খবর হযরত 'উমার (রা)-এর কাছে পৌঁছার পর তিনি চিঠি লিখে জানালেন যে إن كان يعلم أن الله حرم الزنى فاجلدوه ، و إن كان لا يعلم فعلموه فإن عاد فاجلدوه - "যদি সে জানে যে, আল্লাহ তা'আলা যিনা হারাম করেছেন, তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করো। যদি সে না জানে, তাহলে তাকে বিধানটি জানিয়ে দাও। এর পর যদি সে ফের যিনা করে, তাহলে তাকে বেত্রাঘাত করো।" অন্য একটি ঘটনায় যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করায় যিনা করার পর সিরিয়ার জনৈক ব্যক্তিকেও হযরত 'উমার (রা) ছেড়ে দিয়েছিলেন। এসব বর্ণনা থেকে জানা যায়, হদ্দ কার্যকর করার জন্য যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে যিনাকারীর জ্ঞান থাকতে হবে। তবে মুসলিম সমাজে বসাবাসী কোন মুসলিম যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবী করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা মুসলিম সমাজে বসবাস করে যিনার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অনবহিত থাকবে - তা অসম্ভব ব্যাপার।
টিকাঃ
৬২. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৬
৬৩. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ১৭৯; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৩, পৃ.২২৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.৫৬
৬৪. আল-মাওসৃ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২৪, পৃ.২৪