📄 আক্রমণকারীর হাত থেকে অপরকে রক্ষা করা
যদি কোন আক্রমণকারী অন্যায়ভাবে কারো প্রাণ নাশ করতে বা কারো দেহের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বংস করে দিতে উদ্যত হয়, এমতাবস্থায় আক্রমণকারীকে প্রতিহত করে তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা অন্যদের জন্য ওয়াজিব।
এটা হানাফী ও মালিকীগণের অভিমত। শাফি'ঈগণের মতে, অপরকে রক্ষা করার বিধান নিজেকে রক্ষা করার বিধানের মতোই। অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে নিজেকে রক্ষা করা ওয়াজিব, সে ক্ষেত্রে অপরকেও রক্ষা করা ওয়াজিব আর যে ক্ষেত্রে নিজেকে রক্ষা করা ওয়াজিব নয়, সে ক্ষেত্রে অপরকেও রক্ষা করা ওয়াজিব নয়। কারণ নিজেকে রক্ষার চাইতে অপরকে রক্ষার গুরুত্ব বেশি হতে পারে না। অতএব, নিজেকে ধ্বংস করে নয়; বরং যে ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, সে ক্ষেত্রে অপরকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসা ওয়াজিব। কাজেই নিজের প্রাণের বিনিময়ে অন্যকে রক্ষা করা জরুরী নয়।" হাম্বলীগণের মতে, শান্তি-শৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকাকালে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করে অপরকে রক্ষা করা ওয়াজিব, যদি নিজের এবং আক্রান্ত ব্যক্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কা না থাকে।
টিকাঃ
৫১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যাহ, খ.২৮, পৃ. ১০৮
৫২. এ ছাড়া শাফি'ঈগণের আরো দুটি মত রয়েছে। ক. সর্বাবস্থায় অপরের জীবন বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করা ওয়াজিব। কেননা নিজের স্বার্থের চাইতে অপরের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াই হল মুসলিম চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من أذل عنده مؤمن فلم ينصره و هو قادر على أن ينصره أذله الله على رؤوس الخلائق يوم القيامة - "যার সামনে কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে অপদস্থ করা হল আর সে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে সহযোগিতা করল না, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামাতের দিন সকল সৃষ্টির সামনে অপমানিত করবেন।" (আহমদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১৬০২৮; তাবারানী, আল-মু'জামুল কবীর, হা.নং: ৫৫৫৪) খ. অপরকে রক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা জায়িয নয়। কেননা অপরের সহযোগিতা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন ও ব্যবহার করা হলে দেশে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। উপরন্তু, অপরকে রক্ষা করা জনসাধারণের কাজ নয়; এটা সরকারের একটি গুরু দায়িত্ব। (হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ. ১৮২, ১৮৫; আশ-শারবীনী, মুগনিউল মুহতাজ, খ.৫)
৫৩. আল-বহুতী, কাশশাফ, খ.৬, পৃ.১৫৬; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৩০৬