📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আক্রমণের শাস্তি এবং প্রতিহতকরণের বিধান

📄 আক্রমণের শাস্তি এবং প্রতিহতকরণের বিধান


যদি আক্রমণের শিকার ব্যক্তি নিজের জীবন কিংবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রক্ষা করতে গিয়ে আক্রমণকারীকে হত্যা করে, তা হলে অধিকাংশ ইমামের মতে আক্রমণকারী মানুষ হলে হত্যাকারীর ওপর কিসাস বর্তাবে না এবং তার রক্তমূল্য অথবা কাফফারা দিতে হবে না। কেননা আক্রমণকারী অন্যায়ভাবে অপরের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে নিজেই নিজের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের প্রয়োজনে অস্ত্র ধারণ করেছে মাত্র। তাই আক্রমণকারী তার হাতে নিহত হওয়ায় সে দোষী নয়।
আক্রমণকারী মানুষ ছাড়া অন্য কোন প্রাণি হলে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে না। তবে হানাফীগণের মতে প্রাণিটি অন্য ব্যক্তির মালিকানাধীন হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেননা সে নিজেকে রক্ষা করার জন্য অপরের সম্পদ নষ্ট করেছে। যেমন ক্ষুধায় কাতর কোন ব্যক্তি কারো খাবার নিয়ে খেয়ে ফেললে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়।
তাঁদের মতে, পাগল ও না বালিগরাও জীব জন্তুর মত। কোন আক্রান্ত ব্যক্তি যদি তাদের সশস্ত্র আক্রমণের সময় তাদের হত্যা করে অথবা তারা প্রতিহত হয়ে নিহত হয়, তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর তাদের রক্তমূল্য বাধ্যতামূলক হবে। তবে কিসাস ওয়াজিব হবে না।
তবে আক্রমণকারী যদি উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করতে সমর্থ হয় কিংবা তার কোন কিসাসযোগ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হানি করে, তা হলে তার ওপর কিসাসের বিধান প্রযোজ্য হবে।

টিকাঃ
৪৮. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ.৯২; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৬, পৃ.৫৪৫-৬; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১৫১
৪৯. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.২, পৃ.৬৭; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩২-৩; গানিম, মাজমা'.., পৃ.১৯৩; শায়খী যাদাহ, মাজমা'উল আনহুর, খ.২, পৃ.৬২৪; দাসূকী, আল-হাশিয়াতু 'আলাশ্ শারহিল কাবীর, খ.৪, পৃ.৩৫৮; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৩০৪
৫০. তবে শাফি'ঈ ইমামগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে দিয়াত (রক্তমূল্য) বাধ্যতামূলক হবে না। (ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০, পৃ.২৩২-৩; শায়খী যাদাহ, মাজমা'উল আনহুর, খ.২, পৃ.৬২৪)

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 আক্রমণকারীর হাত থেকে অপরকে রক্ষা করা

📄 আক্রমণকারীর হাত থেকে অপরকে রক্ষা করা


যদি কোন আক্রমণকারী অন্যায়ভাবে কারো প্রাণ নাশ করতে বা কারো দেহের কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বংস করে দিতে উদ্যত হয়, এমতাবস্থায় আক্রমণকারীকে প্রতিহত করে তাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা অন্যদের জন্য ওয়াজিব।
এটা হানাফী ও মালিকীগণের অভিমত। শাফি'ঈগণের মতে, অপরকে রক্ষা করার বিধান নিজেকে রক্ষা করার বিধানের মতোই। অর্থাৎ যে ক্ষেত্রে নিজেকে রক্ষা করা ওয়াজিব, সে ক্ষেত্রে অপরকেও রক্ষা করা ওয়াজিব আর যে ক্ষেত্রে নিজেকে রক্ষা করা ওয়াজিব নয়, সে ক্ষেত্রে অপরকেও রক্ষা করা ওয়াজিব নয়। কারণ নিজেকে রক্ষার চাইতে অপরকে রক্ষার গুরুত্ব বেশি হতে পারে না। অতএব, নিজেকে ধ্বংস করে নয়; বরং যে ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না, সে ক্ষেত্রে অপরকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসা ওয়াজিব। কাজেই নিজের প্রাণের বিনিময়ে অন্যকে রক্ষা করা জরুরী নয়।" হাম্বলীগণের মতে, শান্তি-শৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকাকালে আক্রমণকারীকে প্রতিহত করে অপরকে রক্ষা করা ওয়াজিব, যদি নিজের এবং আক্রান্ত ব্যক্তির নিরাপত্তার ব্যাপারে আশঙ্কা না থাকে।

টিকাঃ
৫১. আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়‍্যাহ, খ.২৮, পৃ. ১০৮
৫২. এ ছাড়া শাফি'ঈগণের আরো দুটি মত রয়েছে। ক. সর্বাবস্থায় অপরের জীবন বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করা ওয়াজিব। কেননা নিজের স্বার্থের চাইতে অপরের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়াই হল মুসলিম চরিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من أذل عنده مؤمن فلم ينصره و هو قادر على أن ينصره أذله الله على رؤوس الخلائق يوم القيامة - "যার সামনে কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে অপদস্থ করা হল আর সে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে সহযোগিতা করল না, আল্লাহ তা'আলা তাকে কিয়ামাতের দিন সকল সৃষ্টির সামনে অপমানিত করবেন।" (আহমদ, আল-মুসনাদ, হা.নং: ১৬০২৮; তাবারানী, আল-মু'জামুল কবীর, হা.নং: ৫৫৫৪) খ. অপরকে রক্ষার জন্য আক্রমণকারীকে প্রতিহত করা জায়িয নয়। কেননা অপরের সহযোগিতা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন ও ব্যবহার করা হলে দেশে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। উপরন্তু, অপরকে রক্ষা করা জনসাধারণের কাজ নয়; এটা সরকারের একটি গুরু দায়িত্ব। (হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ. ১৮২, ১৮৫; আশ-শারবীনী, মুগনিউল মুহতাজ, খ.৫)
৫৩. আল-বহুতী, কাশশাফ, খ.৬, পৃ.১৫৬; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ৩০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00