📄 সম্পদের ভোগাধিকার অপহরণ
উপর্যুক্ত মতবিরোধের প্রেক্ষিতে বলা যায়, অধিকাংশ ইমামের দৃষ্টিতে ঘরে বসবাসের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার জন্যও অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে। কেননা তাঁদের দৃষ্টিতে যেহেতু স্থাবর সম্পদের বেলায়ও অপহরণ হতে পারে, তাই তার ভোগাধিকারও অপহরণ হতে পারে। অতএব কোন ব্যক্তি যদি অপরকে তার ঘরে বসবাস করতে বাধা দেয়, সে ঘরের বাসাধিকার অপহরণকারী রূপে পরিগণিত হবে। এ জন্য ঘরটি যতদিন অপহরণকারীর দখলে থাকবে, ততদিনের জন্য তাকে ঐ ঘরের ভাড়ার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চাই সে ঘরে নিজে বসবাস করুক কিংবা অন্যকে বসবাস করতে দিক বা খালি পড়ে থাকুক। অনুরূপভাবে যে কোন সম্পদের ভোগাধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করলে সে জন্যও এ অপহরণের বিধান কার্যকর হবে।
পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের দৃষ্টিতে ঘরের বসবাসের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার জন্য অপহরণের বিধান কার্যকর হবে না। কারণ, বসবাসের অধিকার এটা সম্পদ নয়; বরং সম্পদের উপকারভোগ। অনুরূপভাবে যে কোন সম্পদের ভোগাধিকার কেউ ছিনিয়ে নিলে তার জন্য অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের দৃষ্টিতে, অপহরণের বিধান কেবল সম্পদ ছিনতাইয়ের জন্য কার্যকর হবে। অতএব, কেউ কারো ঘর জোর করে ছিনিয়ে নিলে বা কাউকে তার সম্পদের ভোগাধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তাকে ঐ ঘর বা সম্পদ দ্বারা যে লাভ বা উপকারিতা অর্জন করা যেত তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। তবে পরবর্তীকালের হানাফী ইমামগণ নিম্নোক্ত তিনটি ক্ষেত্রে সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দান ওয়াজিব হবার কথা বলেছেন।
📄 তিনটি ব্যতিক্রমধর্মী ক্ষেত্র
এ তিনটি ক্ষেত্র হল:
📄 মানব অপহরণ
যদি কেউ অপর কোন মানুষকে - ছোট হোক বা বড় - অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে কোন কাজে খাটায়, তা হলে তাকে তার কাজের যথাযথ পারিশ্রমিক আদায় করে দিতে হবে। আর যদি কোন কাজে না খাটিয়ে কেবল আটকে রাখা হয়, তাহলেও যেহেতু অপহরণকারী তার উপার্জনের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে, তাই তাকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
যদি অপহৃত ব্যক্তি অপহরণকারী কাছে থাকা কালে কোন কারণে নিহত হয় কিংবা হিংস্র কোন প্রাণীর আঘাতে বা সাপের দংশনে মারা যায় অথবা দেয়াল বা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা যায়, তাহলে অপহরণকারীকে তার রক্তপণ আদায় করতে হবে। যদি হঠাৎ কিংবা জ্বরে মারা যায়, তাহলে তার রক্তপণ আদায় করতে হবে না।
যদি কেউ কোন মহিলাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে, তাহলে অপহরণকারী ওপর যিনার হদ্দ কার্যকর করতে হবে। অধিকন্তু তাকে মহিলাটির যথাযোগ্য মাহর সমপরিমাণ জরিমানা আদায় করতে হবে।
টিকাঃ
১৭. তবে শাফি'ঈগণের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। (ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ.১৭৫; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.১৩, পৃ. ৩৭)
১৮. এটা হানাফী ইমামগণের অভিমত। শাফি'ঈগণের মতে, এ ধরনের কোন অবস্থায় রক্তপণ আদায় করতে হবে না। (যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৬, পৃ.১৬৬; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.১০,পৃ. ৩৭০; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ.১৭৫)
১৯. আল-মাওস্ 'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.৩১, পৃ.১৪৮