📄 স্থানান্তরযোগ্য সম্পদ
অপহরণকৃত সম্পদ স্থানান্তরযোগ্য হলে তাতে অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে এ জন্য কতিপয় শর্ত রয়েছে। এগুলো পাওয়া গেলেই অপহরণের শাস্তি কার্যকর করা যাবে। শর্তগুলো হল:
📄 স্থাবর সম্পদ
অধিকাংশ ইমামের মতে স্থাবর সম্পদ (যেমন জমি-জমা ও বাড়ি-ঘর) জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হলে তাতেও অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে এবং এর কোন রূপ ক্ষতি সাধিত হলে, এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপহরণকারীকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাঁদের মতে, অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবার জন্য অপহরণকৃত বস্তুর ওপর অপহরণকারী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হওয়ায় যথেষ্ট। যেমন ঘর-বাড়ি তৈরি করে কিংবা আসবাবপত্র জমা রেখে স্থাবর সম্পদের ওপর অপহরণকারী নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এর ফলে স্থাবর সম্পদ থেকে মালিকের কর্তৃত্ব হাতছাড়া হয়ে যায়। তাঁদের দলীল হল: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, من ظلم قيد شبر من الأرض طوقه من سبع أرضين - “যে ব্যক্তি এক বিগত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে করায়ত্ত করবে, কিয়ামাতের দিন শাস্তিস্বরূপ তার গলায় সাত তবক জমি বেড়ি হিসেবে পরিয়ে দেয়া হবে।” এ হাদীস থেকে জানা যায়, স্থাবর সম্পদের বেলায়ও অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনু হাজর বলেছেন, “এ হাদীসে জমি-জমা অপহরণ উপযোগী হবার প্রমাণ রয়েছে।”
পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা (রহ) ও ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের মতে, অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবার জন্য সম্পদ স্থানান্তরযোগ্য হতে হবে। কারণ, তাঁদের মতে, অপহরণ সাব্যস্ত হবার জন্য সম্পদের ওপর মালিকের কর্তৃত্ব শূণ্য হয়ে যেতে হবে। সম্পদ স্থানান্তরযোগ্য হলেই কেবল সম্পদের ওপর মালিকের কর্তৃত্ব শূণ্য হতে পারে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তি যেহেতু স্থানান্তরযোগ্য নয়, তাই তাতে অপহরণের বিধানও প্রযোজ্য হবে না।
অতএব ইমাম আবূ হানীফা (রহ) ও ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের দৃষ্টিতে যে কেউ কারো স্থাবর সম্পদ ছিনিয়ে নেবার পর যদি ছিনতাইকারীর হাতেই কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগেই (যেমন- বন্যা, বজ্রপাত ও অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতি) তা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে অপহরণকারীকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। কারণ, তাঁদের মতে যেহেতু স্থাবর সম্পদে অপহরণের পরও মালিকের কর্তৃত্ব হাতছাড়া হয় না, তাই এ ক্ষেত্রে অপহরণের বিধান কার্যকর হবে না। তবে অপহরণকারীর কারণেই যদি তা ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, (যেমন সে নিজেই ঘর ভেঙ্গে ফেলল) তাহলে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর এ ক্ষতিপূরণ অপহরণের কারণে নয়; বরং অপরের মাল ধ্বংস বা ক্ষতি করার কারণেই ওয়াজিব হবে।
টিকাঃ
১৪. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল মাযালিম), হা.নং: ২৩২১
১৫. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৫, পৃ. ২২৫; আল-বাবরতী, আল-ইনায়াহ, খ.৯, পৃ.৩২৪; আল- মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.৬,পৃ. ১২৩; আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.২, পৃ.৩৪০; দাসূকী, আল-হাশিয়াতু 'আলাশ শারহিল কাবীর, খ.৩,পৃ.৪৪৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৫, পৃ.১৪০-১
📄 সম্পদের ভোগাধিকার অপহরণ
উপর্যুক্ত মতবিরোধের প্রেক্ষিতে বলা যায়, অধিকাংশ ইমামের দৃষ্টিতে ঘরে বসবাসের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার জন্যও অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে। কেননা তাঁদের দৃষ্টিতে যেহেতু স্থাবর সম্পদের বেলায়ও অপহরণ হতে পারে, তাই তার ভোগাধিকারও অপহরণ হতে পারে। অতএব কোন ব্যক্তি যদি অপরকে তার ঘরে বসবাস করতে বাধা দেয়, সে ঘরের বাসাধিকার অপহরণকারী রূপে পরিগণিত হবে। এ জন্য ঘরটি যতদিন অপহরণকারীর দখলে থাকবে, ততদিনের জন্য তাকে ঐ ঘরের ভাড়ার সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চাই সে ঘরে নিজে বসবাস করুক কিংবা অন্যকে বসবাস করতে দিক বা খালি পড়ে থাকুক। অনুরূপভাবে যে কোন সম্পদের ভোগাধিকার থেকে কেউ কাউকে বঞ্চিত করলে সে জন্যও এ অপহরণের বিধান কার্যকর হবে।
পক্ষান্তরে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) প্রমুখের দৃষ্টিতে ঘরের বসবাসের অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার জন্য অপহরণের বিধান কার্যকর হবে না। কারণ, বসবাসের অধিকার এটা সম্পদ নয়; বরং সম্পদের উপকারভোগ। অনুরূপভাবে যে কোন সম্পদের ভোগাধিকার কেউ ছিনিয়ে নিলে তার জন্য অপহরণের বিধান প্রযোজ্য হবে না। তাঁদের দৃষ্টিতে, অপহরণের বিধান কেবল সম্পদ ছিনতাইয়ের জন্য কার্যকর হবে। অতএব, কেউ কারো ঘর জোর করে ছিনিয়ে নিলে বা কাউকে তার সম্পদের ভোগাধিকার থেকে বঞ্চিত করলে তাকে ঐ ঘর বা সম্পদ দ্বারা যে লাভ বা উপকারিতা অর্জন করা যেত তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। তবে পরবর্তীকালের হানাফী ইমামগণ নিম্নোক্ত তিনটি ক্ষেত্রে সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দান ওয়াজিব হবার কথা বলেছেন।
📄 তিনটি ব্যতিক্রমধর্মী ক্ষেত্র
এ তিনটি ক্ষেত্র হল: