📄 সাক্ষ্য-প্রমাণ
চুরি ও ডাকাতির মত সাধারণত যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা অপহরণকারীর স্বীকারোক্তি দ্বারা অপহরণ প্রমাণিত হবে। তবে কারো কারো মতে শপথের সাহায্যে এবং বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারাও অপহরণ প্রমাণ করা যেতে পারে।
অপহরণ প্রমাণের জন্য দুজন ন্যায়-পরায়ণ মুসলিম পুরুষের সাক্ষ্যের প্রয়োজন। সাক্ষী যদি দুজনের কম হয় অথবা একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং অপরজন শ্রোতা সাক্ষী হয়, অথবা একজন পুরুষ সাক্ষী ও দুজন মহিলা সাক্ষী হয়, তাহলে সে ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে তা'যীরের আওতায় শাস্তি দেয়া হবে।
টিকাঃ
১৩. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ২১৪; ইবনু ফারহুন, তাবছিরাহ.., খ.২, পৃ.১৬৯ (বিস্তারিতের জন্য চুরি ও ডাকাতি অধ্যায় দ্রষ্টব্য)
📄 মৌখিক স্বীকৃতি
অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় আদালতে বিচারকের সামনে অপহরণের সুস্পষ্ট স্বীকারোক্তি করে তাহলে অপহরণ প্রমাণিত হবে।
📄 শপথ
যখন অপহরণকৃত সম্পদের মালিকের দাবীর পক্ষে কোন সাক্ষী থাকে না, আর অপহরণকারীও স্বীকার করে না, তখন অপহরণকারীকে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে শপথ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন সম্পদের মালিককে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে দাবীর পক্ষে শপথ করে বলে, তাহলে শাফি'ঈগণের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মালিকের এ শপথ দ্বারা অপহরণ প্রমাণিত হবে এবং এ জন্য অপহরণকারী শাস্তিযোগ্য হবে। তবে হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী ইমামগণের নিকট এ রূপ অবস্থায় অপহরণ প্রমাণিত হবে না এবং এ জন্য অপহরণকারীকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
📄 লক্ষণ-প্রমাণ
কারো কারো মতে বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারাও অপহরণ প্রমাণিত হবে, যদি তাতে সুস্পষ্টভাবে অপহরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ভিত্তিতে অপহরণকারীকে শাস্তি দেয়া যাবে এবং তাকে মালের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। কেননা সাক্ষ্য ও অপহরণকারীর স্বীকারোক্তির চাইতে অপহরণ সাব্যস্ত করার জন্য সুস্পষ্ট লক্ষণ অধিকতর শক্তিশালী প্রমাণ। কারণ, সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি যেহেতু এক প্রকার সংবাদ দান, তাই এগুলোর মধ্যে সত্য-মিথ্যার একটা অবকাশ সবসময় বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে অপহরণকৃত মাল অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে তাতে অপহরণের ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ থাকবার কথা নয়।