📄 একটি আপত্তির জবাব
চুরির মত অপহরণও একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ। চুরির জন্য ইসলামে সুনির্দিষ্ট শাস্তির বর্ণনা রয়েছে। অথচ অপহরণের কোন সুনির্দিষ্ট শাস্তির উল্লেখ নেই। এটা অবশ্যই একটা দুর্বোধ্য বিষয়। এর উত্তর হল, চুরি ও অপহরণের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। অপহরণের ব্যাপারটি প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। তাই সাবধান হলে এ ধরনের অবস্থা থেকে নিজেকে রক্ষা করা অনেকটা সহজ হয় এবং তার প্রমাণ উপস্থিত করাও তেমন কঠিন ব্যাপার হয় না।
পক্ষান্তরে চুরির ঘটনা ঘটে গোপনে, লোক চক্ষুর আড়ালে। ফলে তা প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। অধিকন্তু, চোর থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব। সে ঘরে সিঁদ কাটে, তালা ভাঙ্গে, গ্রিল কাটে। এ রূপ অপরাধে কঠোরতর শাস্তি দেয়া না হলে সমাজে চুরির মাত্রা দিন দিন বেড়ে যাবে এবং এর ফলে লোকেরা কঠিন বিপদে পড়ে যেতে পারে। তাই গোপনে সংঘটিত অপরাধটি যদি অকাট্যভাবে প্রমাণ করা যায়, তা হলে তার শাস্তি কঠোরতর হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে তা অন্যরা দেখে শিক্ষা অর্জন করতে পারে, সতর্ক হবার প্রয়োজন অনুভব করে। অপরদিকে অপহরণ প্রায়শ জনগণের চোখের সামনে প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়। জনগণ সতর্ক হলে অপহরণকারীকে হাতে-নাতে ধরা সম্ভব এবং অপহৃত বস্তুটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া যায়। তদুপরি লুটকারীর বিরুদ্ধে সরকারের নিকট মামলাও দায়ের করা যায়; কিন্তু চোরের ব্যাপারটি সে ধরনের নয়।
টিকাঃ
১২. ইবনুল কাইয়িম, ই'লামুল মুআক্কি 'ঈন, খ.২, পৃ.৪৭; আবদুর রহীম, অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম, পৃ. ২৪৭