📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হাত-পা কেটে ফেলা

📄 হাত-পা কেটে ফেলা


যে পরিমাণ সম্পদ চুরি করলে হাত কাটা যায় (অর্থাৎ দশ দিরহাম), সে পরিমাণ সম্পদ কেউ ডাকাতি করে নিলে তার শাস্তি হল ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা। চোরের হাত-পা কাটার নিয়ম ডাকাতের ক্ষেত্রেও অনুসৃত হবে। অর্থাৎ ডান হাত কব্জি থেকে আর বাম পা গোড়ালী থেকে কাটতে হবে।

টিকাঃ
৪৩. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৩২; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.২, পৃ. ৫৮১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৮-৯
৪৪. হযরত 'উমার (রা) এই রূপ করতেন বলে বর্ণিত রয়েছে। তবে কারো কারো মতে, গোড়ালি বরাবর ছেড়ে রেখে পায়ের পাতার অর্ধেকাংশ থেকে কেটে ফেলতে হবে, যাতে সে গোড়ালি ওপর ভর করে চলাফেরা করতে পারে। হযরত 'আলী (রা) এই রূপ করতেন বলে বর্ণিত আছে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 নির্বাসিত করা

📄 নির্বাসিত করা


হানাফী ও মালিকী ইমামগণের মতে, এ আয়াতে نفي (নির্বাসন) দ্বারা বন্দী করে রাখাকে বোঝানো হয়েছে। কেননা কাউকে তো আর সমগ্র পৃথিবী থেকে বের করে দেয়া যাবে না। তদুপরি অন্য কোন দেশে নির্বাসনে পাঠানো হলে তা হবে সে দেশের অধিবাসীদেরকে অযাচিত কষ্টদান করার নামান্তর। অতএব, এখানে নির্বাসন দ্বারা কারাগারে বন্দী করে রাখাকেই সুনির্দিষ্ট করে বোঝানো হয়েছে। কেননা কারারুদ্ধ ব্যক্তি বলতে গেলে প্রকারান্তে নির্বাসিত ব্যক্তি। সে পারে না দুনিয়ার কোন সুখ সম্ভোগ করতে, পারে না আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে। ইমাম শাফি'ঈ বলেন, যদি কোন ডাকাত হত্যাকাণ্ডও ঘটাল না এবং ধন-মালও অপহরণ করল না, তাহলে তাকে তা'যীরের আওতায় কারাগারে আটকও রাখা যাবে এবং নির্বাসন দণ্ডও দেয়া যাবে।

টিকাঃ
৪৫. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭,পৃ. ৯৫; আল-জসসাস, আহকামুল কুর'আন, খ.২, পৃ. ৫৭৮; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৯; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৬৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের শাস্তি

📄 ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের শাস্তি


ডাকাতি ও সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদের শাস্তিও ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের শাস্তির অনুরূপ হবে। অর্থাৎ ডাকাত ও সন্ত্রাসীরা যদি তাদের অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হয়, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীরাও সে একই ধরনের শাস্তি ভোগ করবে। যদিও তারা সরাসরি ডাকাতি ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়নি। কেননা ডাকাতি ও সন্ত্রাসের ঘটনাগুলো প্রায়শ দলবদ্ধ প্রচেষ্টায় সংঘটিত হয়ে থাকে। কেউ সরাসরি অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়, আবার কেউ তাদেরকে রক্ষা করার কাজে রত হয়। ডাকাত ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক ও সহযোগীদেরকে যদি তাদের মত একই রূপ হদ্দের শাস্তি দেয়া না হয়, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার পথ দিন দিন বেড়েই চলবে। এটাই হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী ইমামগণ সহ অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে শাফি'ঈগণের মতে, যারা ডাকাত কিংবা সন্ত্রাসীদের সাহায্য-সহযোগিতা করে কিংবা তাদের সাথে অবস্থান করে তাদের দল ভারী করে কিংবা তাদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে তাদের ওপর হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না; তবে তা'যীরের আওতায় তাদেরকে কারাগারে বন্দী করে রাখা যেতে পারে বা তাদেরকে নির্বাসন দণ্ডও দেয়া যেতে পারে।

টিকাঃ
৪৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৩২; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯,পৃ.১৩১; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ.১৬৪

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ডাকাতের তাওবা

📄 ডাকাতের তাওবা


ডাকাতির শাস্তি যেহেতু হদ্দের পর্যায়ভুক্ত এবং এর সাথে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত, তাই ডাকাতকে আক্রান্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের অথবা সরকারের ক্ষমা করে দেয়ার ইখতিয়ার নেই। তবে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ার আগেই যদি সে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বিশুদ্ধ তাওবা করে ভাল হয়ে যায় এবং এর প্রমাণও মিলে, তবেই এ তাওবা তাকে নির্ধারিত শাস্তি থেকে রেহাই দেবে। তবে মানুষের অধিকারের সাথে যা কিছু জড়িত তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দাবীর ওপর নির্ভরশীল হবে। আল্লাহ তা'আলা এ প্রসঙ্গে বলেন, إلا الذين تابوا من قبل أن تقدروا عليهم فاعلموا أن الله غفور رحيم . “কিন্তু যারা তোমাদের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই তাওবাহ করবে, জেনে রেখো, আল্লাহ তা'আলা মহাক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” এ আয়াতে যে ক্ষমার কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে, ঐ অপরাধের দরুন আল্লাহর অবাধ্যতা যতটা করেছে, তার জন্য। এ কারণে ডাকাতির হদ্দ হিসেবে হয়ত তার হাত-পা কাটা যাবে না বা হত্যার হাত থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু জনগণের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট যেমন প্রাণ নাশ, যখম ও ধন-মাল লুট ইত্যাদি- তা কখনো ক্ষমা পাবে না। আল্লাহ মা'ফ করবেন না। সে ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট লোকদের সাথে জড়িত। তারা ইচ্ছে করলে দাবী পেশ করবে, ইচ্ছে করলে দাবী প্রত্যাহারও করতে পারে। ওরা কাউকে হত্যা করে থাকলে উত্তরাধিকারীদের সম্মতির ভিত্তিতে তাদেরকে হত্যা করার দণ্ড রহিত হবে বটে; কিন্তু তারা চাইলে দিয়াত (রক্তমূল্য) দিতে হবে আর তারা তাও ক্ষমা করে দিতে পারে। অনুরূপভাবে কারো নিকট থেকে ধন-মাল ছিনিয়ে নিলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।
অনুরূপভাবে ডাকাতি করাকালে কোন নারীকে ধর্ষণ করলে কিংবা মদ পান করলে বা চুরি করলে অথবা কাউকে যিনার অপবাদ দিলে এবং ধরাপড়ার আগে তাওবা করলেও তার হদ্দ রহিত হবে না। এটাই মালিকী ও অধিকাংশ শাফি'ঈ ও হানাফী ইমামের অভিমত। তবে হাম্বলীগণের মতে, ধরাপড়ার আগে তাওবা করলে এগুলোর হদ্দ রহিত হয়ে যাবে; কিন্তু অপবাদের হদ্দ রহিত হবে না।

টিকাঃ
৪৭. আল-কুর'আন, ৫ঃ৩৩-৩৪
৪৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৯৮-৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ.১২৯- ১৩০; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৭, পৃ.৫৯; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ.২৯৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00