📄 ইসলামী রাষ্ট্রে হতে হবে
ডাকাতি ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত হলেই হদ্দ কার্যকর করা হবে। অমুসলিম কিংবা অ-ইসলামী রাষ্ট্রে সংঘটিত কোন ডাকাতির জন্য কোন ডাকাতের ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে না।
টিকাঃ
২৪. আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ. ৯২
📄 শহরের বাইরে হতে হবে
হানাফী ও অধিকাংশ হাম্বলী ইমামের মতে শহর-নগর-গ্রাম-জনপদের বাইরে দূরে পথে-ঘাটে, নির্জন মাঠে-ময়দানে, নদীতে-মরুভূমিতে ডাকাতি হলেই তার জন্য হদ্দ কার্যকর করা হবে। কোন শহর বা জনপদে ডাকাতি হলে সে জন্য ডাকাতির হদ্দ প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। তাঁদের বক্তব্য হল: যারা শহর বা জনপদে বাস করে, তারা আক্রমণের সময় চিৎকার করতে পারে এবং চিৎকার শুনে খুব কাছাকাছি থেকে লোকজন এসে জড়ো হতে পারে কিংবা নিরাপত্তা কর্মীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারে। তখন স্বাভাবিকভাবে হামলাকারীদের দাপট খতম হয়ে যায়। তাই এ ধরনের কর্মকে ডাকাতি নয়; ছিনতাই বলা হয়। এ জন্য হদ্দ নয়; তা'যীরের আওতায় আদালতের সুবিবেচনা অনুযায়ী যে কোন শাস্তি নির্ধারিত হবে।
শাফি'ঈ ও মালিকী ইমামগণের মতে শহর-জনপদ এবং দূরের পথ-ঘাট ও নির্জন মাঠে-ময়দানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। তবে তাঁরা আক্রান্তদের ফরিয়াদের সাড়া দেয়ার মত কারো না থাকার শর্ত আরোপ করেছেন। অতএব তাঁদের মতে, যারা কোন শহর বা জনপদের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে বাড়ির সদস্যদেরকে যিম্মী করে রাখে, তারাও ডাকাতরূপে গণ্য হবে। তাঁদের বক্তব্য হলঃ প্রথমত কুর'আনের আয়াতে يحاربون শব্দটি ব্যাপক। এটি সকল প্রকারের মুহারিব- সশস্ত্র আক্রমণকারীকে শামিল করে। দ্বিতীয়ত শহর বা জনপদের মধ্যে এ ধরনের আক্রমণ অধিক ভয়ের কারণ ও বেশি ক্ষতিকর হয়ে দেখা দিতে পারে। কেননা জনপদ হচ্ছে শান্তি-নিরাপত্তা ও নিশ্চিন্ততার ক্ষেত্র। এখানে লোকদের সাহায্য-সহযোগিতা চাওয়ার ও পাওয়ার পরিবেশ বিদ্যমান। এ ধরনের স্থলে সশস্ত্র আক্রমণ স্বাভাবিকভাবে ব্যাপক প্রস্তুতিসহ তীব্র ও প্রচণ্ডরূপে হয়ে থাকে। উপরন্তু, তারা লোকদের ঘরে বা দোকানে আক্রমণ চালিয়ে যথাসর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু দূরের পথে-ঘাটে, নির্জন মাঠে-ময়দানে আক্রমণ খুব প্রচণ্ড হয় না, আর সর্বস্ব হারাবারও ভয় থাকে না। কেননা সেখানে লোকেরা পথযাত্রী। আর পথযাত্রী অবস্থায় তার সাথে খুব সামান্য সম্পদ থাকাই স্বাভাবিক।
পরবর্তীকালের অধিকাংশ হানাফী ইমাম প্রয়োজনের তাকিদ এবং মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ বিবেচনা করে মত দিয়েছেন যে, হদ্দ কার্যকর করার জন্য ডাকাতি শহরের বাইরে সংঘটিত হওয়া শর্ত নয়। তেমনি ডাকাতদের সাথে অস্ত্র থাকা এবং সম্পদ লুণ্ঠনের উদ্দেশ্য থাকাও শর্ত নয়। ইবনু নুজায়ম বলেন, এর ওপরই হানাফীগণের ফাতওয়া। তাঁরা বলেছেন, ইমাম আবূ হানীফা (রহ) তাঁর সময়ের লোকদের অভ্যাস-আচরণের ওপর ভিত্তি করেই এ সম্পর্কে মতামত প্রদান করেছিলেন। কেননা তখন লোকেরা প্রায়শ জনপদের বাইরেই সশস্ত্র ডাকাতির সম্মুখীন হত। এ কারণে লোকেরা শহর ও গ্রামের মধ্যে যাতায়াত করার সময় তাদের সাথে অস্ত্র রাখত। আর বর্তমানে শহর-নগর-গ্রাম- জনপদেও সশস্ত্র, এমনকি বিনা অস্ত্রেও নানা নিত্য নতুন কৌশলে ডাকাতির ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। তাই পথে-ঘাটে ও নির্জন মাঠে-ময়দানে ডাকাতি হলে যেমন হদ্দ কার্যকর করতে হবে, তেমনি বর্তমানে শহর-নগর-জনপদের মধ্যে সংঘটিত যে কোন ডাকাতিও হদ্দের পর্যায়ভুক্ত অপরাধ রূপে বিবেচিত হবে।
টিকাঃ
২৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ২০১-২; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৪
২৬. হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ এবং হাম্বলীগণের মধ্যেও অনেকেই এ মত পোষণ করেন। (আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ২০১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৪)
২৭. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ. ৪, পৃ. ৫৩৪, ৫৫৫; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৪; আল- বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ. ১৬৯; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৪-৫
২৮. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ১১৭; ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, খ.৫, পৃ. ৪৩১-২