📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 পুরুষ হতে হবে

📄 পুরুষ হতে হবে


হানাফীগণের মতে, হদ্দ কার্যকর করতে হলে ডাকাতকে পুরুষ হতে হবে। কোন নারী ডাকাতের ওপর ডাকাতির হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না। কারণ, নারীরা যেহেতু স্বভাবগতভাবে কোমল ও নরম এবং দৈহিকভাবে দুর্বল হবার কারণে কারো ওপর দাপটের সাথে চড়াও হতে পারে না, তাই 'ডাকাতি' শব্দটি তাদের জন্য পুরো প্রযোজ্য নয়। অনুরূপভাবে কোন পুরুষ যদি তাদের সাথে মিলে ডাকাতিতে অংশ গ্রহণ করে, তার ওপরও হদ্দ কার্যকর যাবে না, চাই সে নিজে অপরাধে লিপ্ত হোক কিংবা না হোক। তবে হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, যদি কোন মহিলা সরাসরি কারো ওপর চড়াও হয়ে তার সম্পদ ছিনিয়ে নেয়, তাহলে তার সহযোগী পুরুষদের ওপর হদ্দ কার্যকর করা যাবে। তাঁর কথা হল, মহিলাদের ওপর ডাকাতির হদ্দ কার্যকর করা বিধেয় না হবার কারণ তাদের নিজস্ব কোন অযোগ্যতার কারণে নয়; বরং সচরাচর তাদের থেকে এ ধরনের ঘটনা ঘটে না, তাই বলে তাদেরকে এ হদ্দ থেকে রেহাই দেয়া হয়। কিন্তু তার সহযোগী পুরুষের বেলায় তো আর এ অজুহাত নেই। তার ওপর হদ্দ কার্যকর করতে কোন বাধা নেই।
অন্যান্য তিন মাযহাবের ইমামগণের মতে, পুরুষের মতো নারীদেরও ওপরও ডাকাতির হদ্দ কার্যকর করা যাবে। তাঁদের মতে, কয়েকজন নারী যদি মিলিত হয়ে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অপরের ওপর চড়াও হয়, তাহলে তাদের অপরাধ ডাকাতির হদ্দের আওতায় ধর্তব্য হবে।

টিকাঃ
১২. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৯৭-৮; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ৯০-১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৯, পৃ. ১৩১
১৩. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৫৫৫; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৪, পৃ. ৩১২; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৯, পৃ. ১৩১; আল-বহুতী, কাশাফ, খ.৬, পৃ. ১৫২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 ডাকাতদেরকে সশস্ত্র হতে হবে

📄 ডাকাতদেরকে সশস্ত্র হতে হবে


হানাফী ও হাম্বলী ইমামগণের মতে, হদ্দ কার্যকর করার জন্য ডাকাতদের সাথে যে কোনরূপ অস্ত্র থাকতে হবে। তা ধারালো কোন অস্ত্রও হতে পারে কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রও হতে পারে। লাঠি-সোটা ও পাথর ইত্যাদিও অস্ত্রের মধ্যে গণ্য হবে।
মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণ কোনরূপ অস্ত্রের শর্ত আরোপ করেন নি। তাঁদের মতে, ডাকাতির জন্য ডাকাতদের নিজস্ব শক্তি ও অঙ্গ ব্যবহার করতে (যেমন- কিল, ঘুষি ও লাথি প্রভৃতি) সামর্থবান হওয়াই যথেষ্ট। উপরন্তু, ইমাম মালিক (রহ)-এর মতে, প্রতারণা করতে সক্ষম হওয়া, ঘায়েল করা, মাদক দ্রব্য সেবন করানো- যথেষ্ট হবে। শক্তি ব্যবহার না করেও চাতুর্যের সাথে যদি এগুলো করতে পারে সেও ডাকাত রূপে গণ্য হবে।
ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ) রাত ও দিনের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। দিনের বেলা হলে তিনি ডাকাতির জন্য অস্ত্রের শর্তারোপ করেছেন আর রাতের জন্য অস্ত্রের শর্তারোপ করেন নি। তাঁর মতে- শুধু লাঠি ও পাথর দ্বারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করাই যথেষ্ট হবে। হানাফীগণের মধ্যে পরবর্তীকালের বিশেষজ্ঞগণের নিকট এ মতটি অধিকতর অগ্রগণ্য।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে ঘরে-বাইরে নিরীহ ব্যক্তিদের ওপর আক্রমণের জন্য ডাকাতির বহু প্রকারের আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। দিন ও রাতে সমানভাবে বিনা অস্ত্রে তা ব্যবহৃত হচ্ছে। ডাকাতদের নিত্যনতুন কৌশলের হাতে যিম্মী লোকদের পক্ষে কারো সাহায্য চাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তাই বর্তমান অবস্থায় ডাকাতদের নির্মূল করার প্রয়োজনে হানাফী ও হাম্বলীগণের মতের চাইতে মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতই অধিকতর বাস্তবধর্মীও যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়।

টিকাঃ
১৪. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ১১৪; আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ. ৯২; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, খ. ৭৪; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৭, পৃ. ৫৫৭; আশ-শারবীনী, মুগনিউল মুহতাজ, খ.৪, পৃ. ১৮০
১৫. আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ. ৯২;
১৬. যেমন নেশাজাত কিংবা অজ্ঞানকারী কোন বস্তু সেবন করানো কিংবা ঘ্রাণ ছড়ানো, গামছা জড়িয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করা প্রভৃতি।
১৭. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৪; আল-কাসানী, বদাই, খ. ৭, পৃ. ৯১

ফন্ট সাইজ
15px
17px