📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ডাকাতির মূল উপাদান

📄 ডাকাতির মূল উপাদান


ডাকাতির মূল উপাদান হল: প্রকাশ্যে অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন করে কারো ওপর চড়াও হয়ে তার সম্পদ হরণ করা। এ অস্ত্র ও শক্তি প্রদর্শনকারী চাই এক ব্যক্তি হোক কিংবা একদল। অতএব, প্রকাশ্য অস্ত্র বা শক্তি প্রদর্শন করে সম্পদ লুণ্ঠন করা না হলে তা ডাকাতি হবে না; চুরি হবে। আর যদি সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়, তাহলে তাদেরকে ছিনতাইকারী বলা হবে। তাদের অপরাধ ডাকাতির আওতায় আসবে না।

টিকাঃ
৯. আল-কাসানী, বাদাই, খ.৭, পৃ. ৯০-১; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ. ৯, পৃ. ১২৪; আল-বহুতী, কাশাফ, খ.৬, পৃ. ১৫০

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ডাকাতির শর্তাবলী

📄 ডাকাতির শর্তাবলী


ডাকাতির হদ্দ প্রয়োগ করার জন্য বেশ কিছু শর্ত রয়েছে। তন্মধ্যে কিছু ডাকাতের সাথে, আর কিছু যাদের ওপর হানা দেয়া হয় তাদের সাথে, আর কিছু উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া ডাকাতিকৃত সম্পদ এবং যে স্থানে ডাকাতি করা হয় তার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় শর্তও রয়েছে।

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 লুণ্ঠকৃত সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী

📄 লুণ্ঠকৃত সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী


ইতঃপূর্বে চুরির হদ্দ কার্যকর করার জন্য চুরিকৃত সম্পদের জন্য যে সব শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সে সব শর্ত ডাকাতির মালের জন্যও প্রযোজ্য হবে। এ শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান প্রধান শর্ত হল:
১. আর্থিক মূল্যসম্পন্ন হওয়া
২. কারো মালিকানা বা বৈধ দখলভুক্ত হওয়া
৩. সংরক্ষিত থাকা
৪. নিসাব পরিমাণ হওয়া অর্থাৎ দশ দিরহামের সমপরিমাণ কিংবা ততোধিক হওয়া। যদি ডাকাতরা ভাগে প্রত্যেকেই ন্যূনতম দশ দিরহামের সমপরিমাণ সম্পদ না পায়, তা হলে সম্পদ লুঠের জন্য তাদের কারো ওপর ডাকাতির হদ্দ প্রয়োগ করা যাবে না।

টিকাঃ
২১. আল-কাসানী, বদা'ই, খ. ৭, পৃ-৯২ (বিস্তারিত জানার জন্য চুরির অধ্যায় দ্রষ্টব্য)
২২. ইমাম হাসান ইবন যিয়াদ আল-হানাফী (রহ)-এর মতে ডাকাতির নিসাব চুরির দ্বিগুণ অর্থাৎ বিশ দিরহাম। তাঁর বক্তব্য হল: চুরিতে যেহেতু একটা হাত বা পা কর্তন করা হয় আর ডাকাতিতে দুটি অঙ্গই কর্তন করা হয়, তাই এর জন্য বিশ দিরহামের নিসাব নির্ধারণ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। (আল-কাসানী, বদাই, খ. ৭, পৃ. ৯২)
২৩. যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ. ২৩৬; আল-হাদ্দাদী, আল-জাওহারাহ, খ.২,পৃ. ১৭২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 ডাকাতির শাস্তি

📄 ডাকাতির শাস্তি


ইসলামী শরী'আতে সশস্ত্র ডাকাত ও লুটেরাদের সুনির্দিষ্টভাবে চার ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হল: হত্যা করা, শূলবিদ্ধকরণ, হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলা ও দেশ থেকে চির নির্বাসন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إنما جزاء الذين يحاربون الله و رسوله و يسعون في الأرض فسادا أن يقتلوا أو يصلبوا أو تقطع أيديهم وأرجلهم من خلاف أو ينفوا من الأرض ذلك لهم خزي في الدنيا و لهم في الآخرة عذاب عظيم.
লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আক্রমণ চালায় এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করে তাদের শাস্তি হচ্ছে- তাদের হত্যা করা হবে বা শূলে চড়ানো হবে কিংবা তাদের হাত ও পা বিপরীত পরম্পরায় কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের নির্বাসিত করা হবে। এই অপমান তো তাদের জন্য দুনিয়ায় আর পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।
উপর্যুক্ত আয়াতটিতে আল্লাহ ও রাসূল তথা তাঁদের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত সমাজ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামী এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের চার ধরনের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ইমামগণের মধ্যে তাদেরকে এ শাস্তিগুলো দেয়ার ব্যাপারে কোন দ্বিমত নেই। তবে এ চারটি শাস্তি অপরাধের প্রকৃতি ও মাত্রা অনুপাতে প্রয়োগ করা হবে, না কি বিচারকের সুবিবেচনা অনুযায়ী এ শাস্তি গুলোর মধ্য থেকে যে কোন একটি শাস্তি দেয়ার ইখতিয়ার রয়েছে- তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। শাফি'ঈ ও হাম্বলী ইমামগণের মতে, অপরাধের প্রকৃতি ও মাত্রা অনুপাতে এ শাস্তিসমূহের কোন একটি প্রয়োগ করতে হবে। যেমন যে হত্যাকাণ্ডও ঘটাল, ধন-সম্পদও অপহরণ করল তাকে শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে। আর যে হত্যা করল; ধন-মাল অপহরণ করল না, তাকে শুধু হত্যা করা হবে। আর যে ধন-মাল অপহরণ করল, হত্যাকাণ্ড ঘটাল না, তার ডান হাত ও বাম পা কেটে ফেলা হবে। আর যে লোক ত্রাস সৃষ্টি করল; হত্যা বা ধন-মাল অপহরণ কিছুই করল না, তাকে নির্বাসিত করা হবে।
পক্ষান্তরে হানাফী ও মালিকী ইমামগণের মতে, বিচারক এ চারটি শাস্তির যে কোন একটি এ পর্যায়ের যে কোন অপরাধে প্রয়োগ করতে পারেন। কৃত অপরাধের দৃষ্টিতে বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী তা নির্ধারণ করবেন। ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে- হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কিংবা কারো কোন ধন-মাল ছিনিয়ে নেয়ার আগে কোন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হলে তাকে তা'যীরের আওতায় যে কোন উপযুক্ত শাস্তি দেবার পর তাকে কারাবন্দী করে রাখা হবে, যে যাবত না সে বিশুদ্ধ তাওবাহ করবে এবং তার প্রমাণ মিলবে। তাঁর মতে, আয়াতের মধ্যে نفي দ্বারা তা-ই বোঝানো হয়েছে। যদি নিসাব পরিমাণ কারো ধন-মাল অপহরণ করে, তবেই তার হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে নেয়া হবে। যদি কেউ নিরাপরাধ কোন ব্যক্তিকে হত্যা করল; কিন্তু কোন ধন-মাল অপহরণ করল না, তা হলে তাকে হত্যা করা হবে। যদি কেউ হত্যাকাণ্ডও ঘটাল এবং ধন-মালও অপহরণ করল, তা হলে তার ব্যাপারে বিচারকের ইখতিয়ার থাকবে যে, তিনি নিম্নের তিনটি শাস্তির যে কোন একটি প্রয়োগ করতে পারবেন। ক. প্রথমে বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কেটে ফেলবে, তারপর হত্যা করবে। খ. শুধু হত্যাই করবে। গ. শূলে চড়িয়ে মেরে ফেলবে। তাঁর মতানুযায়ী এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল হাত-পা কেটে দেয়াই যথেষ্ট হবে না; বরং এর সাথে হত্যা কিংবা শূলবিদ্ধকরণকে যোগ করতে হবে।
ইমাম মালিক (রহ)-এর মতে, যদি কেউ হত্যাকাণ্ড ঘটায়, তা হলে তো তাকে অবশ্যই হত্যা করতে হবে। তাঁর দৃষ্টিতে, এ পর্যায়ের অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর হাত-পা কর্তন এবং নির্বাসন দণ্ড দেয়ার ইখতিয়ার বিচারকের থাকবে না; তবে তাকে শূলে চড়ানো ও হত্যা করার মধ্যে যে কোন একটি কার্যকর করার ইখতিয়ার তাঁর থাকবে। যদি কেউ ধন-মাল অপহরণ করে; কিন্তু হত্যাকাণ্ড ঘটায় নি, তাহলে তাকে নির্বাসিত করার ইখতিয়ার বিচারকের নেই; হত্যা করা কিংবা শূলে চড়ানো বা হাত-পা কর্তন- এ তিনটি দণ্ডের মধ্যে যে কোন একটি শাস্তি দেয়ার ইখতিয়ার তাঁর রয়েছে। আর যে লোক কেবল ত্রাস সৃষ্টি করল; হত্যা বা ধন-মাল অপহরণ কিছুই করল না, বিচারক তাঁর সুবিবেচনা অনুযায়ী তাকে হত্যা করতেও পারবে কিংবা শূলেও চড়াতে পারবে বা হাত-পাও কেটে দিতে পারবে বা নির্বাসন দণ্ডও দিতে পারবে।
বিচারকের ইখতিয়ার থাকার তাৎপর্য হচ্ছে, এই পর্যায়ে বিচারককে দেখতে হবে যে, সশস্ত্র বিপর্যয়সৃষ্টিকারী যদি গভীর বিবেক-বুদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা যোগ্যতা সম্পন্ন হয়, তাহলে তাকে হত্যা কিংবা শূলবিদ্ধ করাই হবে যুক্তিযুক্ত। কেননা তার হাত-পা কাটা হলেও তার ক্ষতি থেকে জনগণকে আশঙ্কা মুক্ত করা যাবে না। আর যদি সে গভীর বুদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা যোগ্যতা সম্পন্ন না হয়, তবে স্বাস্থ্যবান ও দৈহিক শক্তিসম্পন্ন, তাহলে তার হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলতে হবে। আর এ দুটি বিশেষত্বের কোন একটিও তার না থাকলে তার জন্য হালকা শাস্তি নির্ধারণ করলেই চলবে।
উল্লেখ্য যে, ডাকাতির শাস্তির ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে তার কারণ হল এতদসংশ্লিষ্ট আল কুর'আনের আয়াতটির বর্ণনাপদ্ধতি। অধিকাংশ ইমামের মতে, এখানে (অথবা) শব্দটি ইখতিয়ার বোঝানোর জন্য নয়; বরং অপরাধ অনুপাতে শাস্তির বিভিন্নতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কেননা অপরাধের প্রকৃতি ও মাত্রা অনুপাতে শাস্তির মাত্রা কম-বেশি হবে- এটাই স্বাভাবিক। কুর'আন ও সুন্নাহ দ্বারাও এ কথা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, جزاء سيئة سيئة مثلها - "মন্দ কাজের প্রতিফল তদসদৃশই হবে।” অতএব, ছোট অপরাধের জন্য বড় শাস্তি দেয়া, অনুরূপ বড় অপরাধের জন্য ছোট শাস্তি দেয়া শরী'আহ আইনের পরিপন্থী। তদুপরি এ বিষয়ে সকলেই এক মত যে, ডাকাতরা যদি হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং ধন-মালও হরণ করে, তাহলে তাদের শাস্তি কোনভাবেই কেবল নির্বাসন দণ্ড নয়। এ থেকে জানা যায়, আয়াতে ইখতিয়ার বোঝানো উদ্দেশ্য নয়। অতএব, ডাকাতির প্রকৃতি যেহেতু ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে তাই শাস্তির মাত্রাও ভিন্ন হবে- এটিই যুক্তিযুক্ত।
হানাফী ও মালিকীগণের মতে, এখানে (অথবা) শব্দটি ইখতিয়ার বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; অপরাধ অনুপাতে শাস্তির বিভিন্নতা বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয় নি। কেননা আরবীতে أو (অথবা) শব্দটির ব্যবহার এ অর্থেই বহুল প্রচলিত। হযরত সা'ঈদ ইবনু মুসাইয়াব, মুজাহিদ, হাসান বসরী ও 'আতা ইবনু রিবাহ (রহ) প্রমুখ তাবি'ঈগণ এ মত পোষণ করেন।
উল্লেখ্য যে, ডাকাতির উপর্যুক্ত শাস্তি পুরুষদের জন্য প্রযোজ্য। মহিলা ডাকাতকে শূলে বিদ্ধ করা কিংবা নির্বাসন দণ্ডে দণ্ডিত করা বিধেয় নয়। তাদের ডাকাতির শাস্তি হল, বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে দেয়া অথবা হত্যা করা।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে জানা যায় যে, ডাকাতি করতে গিয়ে কাউকে শুধু হত্যা করলে তার শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড। এতে সকলে একমত। তবে এ মৃত্যুদণ্ডে কি হদ্দের দিকটি প্রাধান্য পাবে না কি কিসাসের দিকটি প্রাধান্য পাবে তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা যায়। হানাফী ও মালিকীগণের মতে, হদ্দের দিকটি প্রাধান্য পাবে। এ কারণে তাঁদের দৃষ্টিতে অসর্তকতামূলক হত্যার জন্যও ডাকাতকে হত্যা করতে হবে। তদুপরি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা শাস্তি ক্ষমা করে দিলেও তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ হবে না। তা ছাড়া হত্যাকারীর নিহত ব্যক্তির সমান অবস্থান ও মর্যাদা বিষয়টিও ধর্তব্য হবে না। এ কারণে গোলামের পরিবর্তে স্বাধীন ব্যক্তিকে এবং যিম্মীর পরিবর্তে মুসলিমকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যাবে। অপরদিকে শাফি'ঈ মাযহাবের বিশুদ্ধতম মত হল, যেহেতু হত্যা ব্যক্তিবিশেষের অধিকারের সাথে জড়িত অপরাধ, তাই এ ক্ষেত্রে কিসাসের দিকটি প্রাধান্য পাবে। এ কারণে ডাকাতকে কিসাসের ভিত্তিতেই হত্যা করতে হবে। যদি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীরা তাকে ক্ষমা করে দেয়, তবেই হদ্দের ভিত্তিতে তাকে হত্যা করা যাবে। অধিকন্তু, এ কারণে তাঁদের দৃষ্টিতে হত্যাকারীর নিহত ব্যক্তির সমান অবস্থান ও মর্যাদা বিষয়টিও ধর্তব্য হবে। তাই যিম্মীর প্রতিশোধ হিসেবে কোন মুসলিমকে এবং গোলামের প্রতিশোধ হিসেবে কোন আযাদ ব্যক্তিকে হত্যা করা যাবে না। যিম্মীর হত্যার জন্য তাকে রক্তমূল্য দিতে হবে এবং গোলাম হত্যার জন্য তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। ইমাম আহমাদ (রহ) থেকে এ ধরনের একটি মত বর্ণিত রয়েছে।
ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নেবার কিংবা আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করার শাস্তি হিসেবে ডাকাতদেরকে নির্ধারিত শাস্তি দেবার পর লুটকৃত সম্পদ কি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং আঘাতের বদলা গ্রহণ করা যাবে কি না - এ বিষয়ে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। হানাফীগণের মতে, যদি লুটকৃত মাল মজুদ থাকে, তবেই তা মালিককে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি তা ধ্বংস হয়ে যায় বা তা খরচ হয়ে যায়, তা হলে এ জন্য তাদের জরিমানা দিতে হবে না। তাঁদের মতে, হদ্দ ও জরিমানা এক সাথে কার্যকর করা বিধেয় নয়। অনুরূপভাবে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত কোন আঘাতের জন্যও কোন বদলা গ্রহণ করা যাবে না।
অন্যান্য ইমামের দৃষ্টিতে লুটকৃত মাল মজুদ থাকলে তো ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় জরিমানা দিতে হবে। শাফি'ঈ ও হাম্বলীগণের মতে, কেবল অপহরণকারী ডাকাতের ওপরই এ জরিমানার শাস্তি বর্তাবে; তার সহযোগীদেরকে জরিমানা দিতে হবে না, যদি না তারা সরাসরি অপহরণে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু মালিকীগণের মতে, ডাকাত দলের প্রত্যেকেই লুটকৃত সম্পদের জন্য দায়ী থাকবে, যদিও সে সরাসরি অপহরণে অংশ গ্রহণ না করে। ডাকাতরা যেহেতু পরস্পরের সহযোগী, তাই যদি ডাকাতদলের কেউ ধরা পড়ে, তার ওপরই লুটকৃত যাবতীয় সম্পদের ফিরিয়ে দেয়ার কিংবা জরিমানা দানের দায়িত্ব বর্তাবে। যদি তাকে তার ভাগের অতিরিক্ত কিছু পরিশোধ করতে হয়, সে তার সহযোগীদের থেকে আদায় করে নেবে। অনুরূপভাবে বদলা গ্রহণ করা যায়- এ ধরনের আঘাত যদি সেরে ওঠে, তা হলে তার বদলা নেবার ব্যাপারটি বাধ্যতামূলক নয়; বরং আক্রান্ত ব্যক্তির ইখতিয়ার থাকবে, সে ইচ্ছে করলে বদলাও নিতে পারবে, ইচ্ছে করলে অর্থের বিনিময়ে কিংবা বিনা বিনিময়ে ক্ষমাও করে দিতে পারে। তবে আঘাত সেরে না ওঠলে; বরং তা বেড়ে গিয়ে মারা গেলে ডাকাতকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

টিকাঃ
৩০.. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ. ৯, পৃ-২০৪; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ-১৩৪; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ. ৪, পৃ. ৫৫৬; আল-খারাশী, শারহু মুখতাসারিল খলীল, খ.৮, পৃ.১০৭
৩১. আল-কুর'আন, ৫:৩৩
৩২. ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ) প্রমুখের মতে, এমতাবস্থায় শূলে চড়িয়ে হত্যা করা হবে; হাত-পা কাটা হবে না।
৩৩. তবে সরকার যদি মনে করে যে, তাকে হত্যা করার চাইতে তাকে বাঁচিয়ে রাখাই অধিকতর কল্যাণকর হবে, তবেই তাকে হত্যা থেকে রেহাই দেয়া যাবে।
৩৪. যেমন কেউ শুধু ধন-মাল ছিনিয়ে নিল, আবার কেউ ধন-মালও ছিনিয়ে নিল, হত্যাকাণ্ডও ঘটাল, আবার কেউ শুধু হত্যাকাণ্ড ঘটাল, আবার কেউ শুধু ত্রাস সৃষ্টি করল।
৩৫. শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬, পৃ. ১৬৪-৫; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ. ১৯৫-৭; আল-কাসানী, বদাই, খ.৭,পৃ. ৯৩-৪; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২৭-৯; আস- সাভী, বুলগাতুল সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৯৪-৬; আল-মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ.২৯৬-৮
৩৬. আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭,পৃ. ৯৫; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৩, পৃ.২৩১-২; গানিম, মাজমা'.., পৃ. ২০৩
৩৭. তবে ইমাম শাফি'ঈ ও আহমাদ (রহ)-প্রমুখের এক একটি বর্ণনা মতে, হত্যা করার মত আঘাত করার বেলায়ও বাধ্যতামূলক বদলা নিতে হবে। তবে ইমাম শাফি'ঈ (রহ)-এর অন্য একটি মতানুসারে কেবল দুহাত ও দু পা আক্রান্ত হলেই বাধ্যতামূলক বদলা নেয়া হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00