📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হদ্দ অনুপযোগীদের সাথে চুরিতে অংশগ্রহণ

📄 হদ্দ অনুপযোগীদের সাথে চুরিতে অংশগ্রহণ


হদ্দের শাস্তিযোগ্য নয় (যেমন- অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল) এমন লোকদের সাথে মিলে কেউ চুরি করলে কারো জন্য হদ্দ প্রযোজ্য হবে না। কেননা এখানে চুরিকর্ম হল একটিই। অতএব একটি অপরাধে জড়িত বিভিন্নজনকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির শাস্তি দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এটা অধিকাংশ হানাফী ও হাম্বলীগণের অভিমত। তবে হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে এ রূপ অবস্থায় হদ্দযোগ্য লোকদের হদ্দ রহিত হবে না। তবে যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা পাগলরা নিজেরাই চুরির মাল বের করে নিয়ে আসে এবং অন্যান্য লোকেরা কেবল বাইরে অবস্থান করে তাদের সহযোগিতা করে, তাহলেই তারা হদ্দযোগ্য হবে না। মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতে চুরিতে শরীক হদ্দযোগ্য লোকদের জন্য হদ্দের বিধান প্রযোজ্য হবে।

টিকাঃ
৯৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১২৯, ১৮৯; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৫৫; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৩৩৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২১

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মালিকানা স্বত্ব অর্জন

📄 মালিকানা স্বত্ব অর্জন


হদ্দের রায় ঘোষণা দেবার আগেই যদি চোর যে কোন উপায়ে চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যায় (যেমন- চোর চুরিকৃত বস্তুটি মালিক থেকে কিনে নিল কিংবা মালিক বস্তুটি তাকে দান করে দিল), তা হলেও চোরের হাত কাটা যাবে না। কেননা চুরির রায় দেবার জন্য যেখানে আর্জি পেশ করার শর্ত রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিচারকের রায় দেবার আগে চোরের চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যাওয়া দ্বারা বোঝা যায় যে, এখানে চুরির ব্যাপারে কারো কোন আর্জিই নেই। তবে মালিকীগণের মতে এ রূপ অবস্থায় হদ্দ রহিত হবে না।
তবে রায় ঘোষণার পর এবং হাত কাটার আগে যদি চোর কোনভাবে চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যায়, তা হলে অধিকাংশদের মতে হদ্দ রহিত হবে না। তবে কতিপয় হানাফী মতাবলম্বীর মতে, এ রূপ অবস্থায়ও হদ্দ রহিত হবে।

টিকাঃ
৯৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৭৯, ১৮৬; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ৮৯; আল- বাজী, আল-মুস্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হদ্দ কার্যকারিতায় বিলম্ব

📄 হদ্দ কার্যকারিতায় বিলম্ব


চুরির রায় দেবার পর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে হাত কাটার বিধান রহিত হয়ে যাবে। এটাই অধিকাংশ হানাফী ইমামের অভিমত। তবে অন্যান্য সকল ইমামের মতে, চুরির রায় দেবার পর- যত দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হোক না কেন- হাত কাটার বিধান রহিত হবে না। কেননা এ রূপ অবস্থায় হদ্দ রহিত হয়ে গেলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধ করার পর পালিয়ে হদ্দ থেকে রেহাই পাবার প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবে।

টিকাঃ
৯৯ আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৭৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যাহ, খ.২, পৃ. ১৮৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 কর্তনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গ না থাকা

📄 কর্তনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গ না থাকা


প্রথমবার চুরিতে চোরের ডান হাত কাটতে হবে- এটাই হল ইসলামী শাস্তি আইনের বিধান। কিন্তু যদি দেখা যায় যে, চুরি করার আগে ডান হাত দুর্ঘটনায় পড়ে বা অন্য কোন অপরাধের শাস্তি (যেমন কিসাস) হিসেবে কেটে ফেলা হয়েছে, তা হলে চুরির শাস্তি হিসেবে তার বাম পা কাটতে হবে। যদি তা চুরি করার পরে কেটে ফেলা হয়, তা হলে হাত কর্তনের শাস্তি রহিত হয়ে যাবে, চাই এ হাতকর্তন চুরির পরে বিচারকের কাছে আর্জি পেশ করার আগে হোক কিংবা পরে, চুরির রায় ঘোষণা দেবার আগে হোক বা পরে, চাই তার হাত কোন বিপদে কাটা যাক কিংবা কোন অপরাধের শাস্তি হিসেবে কাটা যাক- সর্বাবস্থায় এ হুকম প্রযোজ্য হবে। কেননা প্রথমবার চুরিতে কর্তনের নির্দেশ চোরের ডান হাতের সাথে জড়িত। অতএব, চুরির পর যেহেতু তা ধ্বংসই হয়ে গেল, তাই কর্তনের বিধানটিও রহিত হয়ে যাবে। এটি হল অধিকাংশ ইমামের অভিমত। হানাফীগণের মতে আর্জি পেশ করার পরে রায় দেবার আগে কিংবা মালিকের আর্জি পেশ ও বিচারকের রায় দেবার পরেই যদি তার ডান হাত কেটে ফেলা হয়, তবেই চুরির শাস্তি হিসেবে হাত কর্তনের বিধান রহিত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে চুরির আগে কিংবা চুরির পরে মালিকের আর্জি পেশ করার আগেই যদি ডান হাত কেটে ফেলা হয়, তা হলে ডান হাতের পরিবর্তে বাম পা কাটতে হবে।
অনুরূপভাবে যদি দেখা যায় যে, তার ডান হাত সুস্থ আছে; কিন্তু বাম হাত বেকার কিংবা কর্তিত, তাহলে তার ডান হাত কর্তন করা যাবে না। কেননা এ রূপ অবস্থায় তার ডান হাত কাটা হলে তার জীবনই বিপন্ন হয়ে যাবে। এটা হানাফীগণের অভিমত। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণের দৃষ্টিতে এমতাবস্থায় তার ডান হাত কাটতে হবে। অনুরূপভাবে পায়ের ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ যদি দেখা যায় যে, তার বাম পা সুস্থ আছে; কিন্তু ডান পা বেকার কিংবা কর্তিত, তাহলে তার বাম পা কর্তন করা যাবে না। কেননা এ রূপ অবস্থায় তার বাম পা কাটা হলে তার জীবনই বিপন্ন হয়ে যাবে। এটা হানাফীগণের অভিমত। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামগণের দৃষ্টিতে এমতাবস্থায় তার বাম পা কাটতে হবে。

টিকাঃ
১০০. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৭৫; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ-১০৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১০৮; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরূ', খ.৪, পৃ.১৩৬-৭, আল- মরদাভী, আল-ইনসাফ, খ.১০, পৃ. ২৮৬-৭; শাফি'ঈ, আল-উম্ম, খ.৬,পৃ. ১৪২-৩; হায়তমী, তুহফাতুল মুহতাজ, খ.৯, পৃ.২৫৪-৫; আল-খারাশী, শারহু মুখতাছারিল খলীল, খ.৮, পৃ.১০৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00