📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার

📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার


চোরের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে চুরি প্রমাণিত হবার পর হাত কাটার আগে সে যদি নিজের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে হদ্দ কার্যকর হবে না। কারণ এমতাবস্থায় অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে কারো কারো মতে, চোর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং হদ্দও রহিত হবে না। যেমন কারো প্রাপ্যের কথা স্বীকার করার পর যদি কেউ তার কথা থেকে ফিরে আসে তা যেমন গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি চুরির ক্ষেত্রেও স্বীকারোক্তি করার পর তা প্রত্যাহার করে নিলে তাও গ্রহণযোগ্য হবে না।

টিকাঃ
৯৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৪১; আল-বাজী, আল-মুস্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৯-২০

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হদ্দ অনুপযোগীদের সাথে চুরিতে অংশগ্রহণ

📄 হদ্দ অনুপযোগীদের সাথে চুরিতে অংশগ্রহণ


হদ্দের শাস্তিযোগ্য নয় (যেমন- অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল) এমন লোকদের সাথে মিলে কেউ চুরি করলে কারো জন্য হদ্দ প্রযোজ্য হবে না। কেননা এখানে চুরিকর্ম হল একটিই। অতএব একটি অপরাধে জড়িত বিভিন্নজনকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির শাস্তি দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এটা অধিকাংশ হানাফী ও হাম্বলীগণের অভিমত। তবে হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে এ রূপ অবস্থায় হদ্দযোগ্য লোকদের হদ্দ রহিত হবে না। তবে যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা পাগলরা নিজেরাই চুরির মাল বের করে নিয়ে আসে এবং অন্যান্য লোকেরা কেবল বাইরে অবস্থান করে তাদের সহযোগিতা করে, তাহলেই তারা হদ্দযোগ্য হবে না। মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতে চুরিতে শরীক হদ্দযোগ্য লোকদের জন্য হদ্দের বিধান প্রযোজ্য হবে।

টিকাঃ
৯৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১২৯, ১৮৯; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৫৫; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৩৩৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২১

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 মালিকানা স্বত্ব অর্জন

📄 মালিকানা স্বত্ব অর্জন


হদ্দের রায় ঘোষণা দেবার আগেই যদি চোর যে কোন উপায়ে চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যায় (যেমন- চোর চুরিকৃত বস্তুটি মালিক থেকে কিনে নিল কিংবা মালিক বস্তুটি তাকে দান করে দিল), তা হলেও চোরের হাত কাটা যাবে না। কেননা চুরির রায় দেবার জন্য যেখানে আর্জি পেশ করার শর্ত রয়েছে, সেক্ষেত্রে বিচারকের রায় দেবার আগে চোরের চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যাওয়া দ্বারা বোঝা যায় যে, এখানে চুরির ব্যাপারে কারো কোন আর্জিই নেই। তবে মালিকীগণের মতে এ রূপ অবস্থায় হদ্দ রহিত হবে না।
তবে রায় ঘোষণার পর এবং হাত কাটার আগে যদি চোর কোনভাবে চুরিকৃত বস্তুর মালিক বনে যায়, তা হলে অধিকাংশদের মতে হদ্দ রহিত হবে না। তবে কতিপয় হানাফী মতাবলম্বীর মতে, এ রূপ অবস্থায়ও হদ্দ রহিত হবে।

টিকাঃ
৯৮. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.৭৯, ১৮৬; আল-কাসানী, বদা'ই, খ.৭, পৃ. ৮৯; আল- বাজী, আল-মুস্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১২

📘 ইসলামের শাস্তি আইন > 📄 হদ্দ কার্যকারিতায় বিলম্ব

📄 হদ্দ কার্যকারিতায় বিলম্ব


চুরির রায় দেবার পর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে হাত কাটার বিধান রহিত হয়ে যাবে। এটাই অধিকাংশ হানাফী ইমামের অভিমত। তবে অন্যান্য সকল ইমামের মতে, চুরির রায় দেবার পর- যত দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হোক না কেন- হাত কাটার বিধান রহিত হবে না। কেননা এ রূপ অবস্থায় হদ্দ রহিত হয়ে গেলে অপরাধীদের মধ্যে অপরাধ করার পর পালিয়ে হদ্দ থেকে রেহাই পাবার প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠবে।

টিকাঃ
৯৯ আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৭৬; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়‍্যাহ, খ.২, পৃ. ১৮৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00