📄 ক্ষমা
সুপারিশের মত আদালতে চুরির দাবী উত্থাপিত হওয়ার আগে চোরকে ক্ষমা করে দিতে অসুবিধা নেই। তদুপরি তা উত্তম হবে, যদি সে কুখ্যাত ও পেশাদার চোর না হয়। তবে আদালতে নালিশ দায়েরের পর তাকে ক্ষমা করে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা পরস্পরকে একে অপরের অপরাধ ক্ষমা কর।" অপরকে হদ্দ ক্ষমা করে দাও। তবে যে মাত্র আমার কাছে হদ্দের নালিশ আসবে, তখন হদ্দের কার্যকারিতা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।"
টিকাঃ
৯২. ইবনু 'আবদিল বারর, আত-তামহীদ, খ.১১, পৃ. ২২৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২০
📄 তাওবাহ
চোর যদি তাওবাহ করে চুরিকৃত মাল মালিককে ফেরত দেয় এবং নিজেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করে, তা হলেও হদ্দ রহিত হবে না। এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। বর্ণিত আছে, হযরত 'আমর ইবনু সামুরা (রা) উষ্ট্র চুরির ঘটনায় তাওবা করে পবিত্র হবার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলে তিনি তার হাত কেটে দেন। এ থেকে জানা যায়, তাওবা করলেও হদ্দ রহিত হবে না। তবে শাফি'ঈ ও হাম্বলী মতাবলম্বী কারো কারো মতে, চোর যদি তাওবাহ করে চুরিকৃত মাল মালিককে ফেরত দেয় এবং নিজেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করে, তা হলে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না।
টিকাঃ
৯৩. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ,১০৪; আস-সাভী, বুলগাতুস সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৮৯
৯৪. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ২৫৮৮
৯৫. আল-বাহুতী, কাশফুল কিনা', খ.৬, পৃ.১৫৩-১৫৪; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.২৪, পৃ.৩৪৩
📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার
চোরের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে চুরি প্রমাণিত হবার পর হাত কাটার আগে সে যদি নিজের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে হদ্দ কার্যকর হবে না। কারণ এমতাবস্থায় অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে কারো কারো মতে, চোর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং হদ্দও রহিত হবে না। যেমন কারো প্রাপ্যের কথা স্বীকার করার পর যদি কেউ তার কথা থেকে ফিরে আসে তা যেমন গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি চুরির ক্ষেত্রেও স্বীকারোক্তি করার পর তা প্রত্যাহার করে নিলে তাও গ্রহণযোগ্য হবে না।
টিকাঃ
৯৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৪১; আল-বাজী, আল-মুস্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৯-২০
📄 হদ্দ অনুপযোগীদের সাথে চুরিতে অংশগ্রহণ
হদ্দের শাস্তিযোগ্য নয় (যেমন- অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল) এমন লোকদের সাথে মিলে কেউ চুরি করলে কারো জন্য হদ্দ প্রযোজ্য হবে না। কেননা এখানে চুরিকর্ম হল একটিই। অতএব একটি অপরাধে জড়িত বিভিন্নজনকে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির শাস্তি দেয়া যুক্তিযুক্ত নয়। এটা অধিকাংশ হানাফী ও হাম্বলীগণের অভিমত। তবে হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে এ রূপ অবস্থায় হদ্দযোগ্য লোকদের হদ্দ রহিত হবে না। তবে যদি অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা পাগলরা নিজেরাই চুরির মাল বের করে নিয়ে আসে এবং অন্যান্য লোকেরা কেবল বাইরে অবস্থান করে তাদের সহযোগিতা করে, তাহলেই তারা হদ্দযোগ্য হবে না। মালিকী ও শাফি'ঈ ইমামগণের মতে চুরিতে শরীক হদ্দযোগ্য লোকদের জন্য হদ্দের বিধান প্রযোজ্য হবে।
টিকাঃ
৯৭. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১২৯, ১৮৯; ইবনু নুজায়ম, আল-বাহরুর রা'ইক, খ.৫, পৃ.৫৫; মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ. ৩৩৫; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২১