📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 সুপারিশ

📄 সুপারিশ


মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন এবং তাওবার সুযোগ দানের উদ্দেশ্যে আদালতে চুরির দাবী উত্থাপিত হওয়ার আগে চোরের জন্য সুপারিশ করা জায়িয, যদি সে কুখ্যাত ও পেশাদার চোর না হয়। তবে আদালতে নালিশ দায়েরের পর তার জন্য সুপারিশ করা হারাম। বর্ণিত রয়েছে, হযরত উসামা (রা) যখন মাখযুম গোত্রের জনৈকা মহিলা চোরের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে সুপারিশ নিয়ে গিয়েছিলেন, তখন তিনি রাগত স্বরে বলেছিলেন, "তুমি কি আল্লাহর একটি হদ্দের প্রসঙ্গে আমাকে সুপারিশ করছ?" এ হাদীস থেকে জানা যায়, বিচারকের নিকট দাবী উত্থাপিত হবার পর হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করা জায়িয নয়। তবে বিচারকের নিকট দাবী উত্থাপিত হবার আগে হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করতে কোন অসুবিধা নেই। বর্ণিত আছে, একবার হযরত যুবায়র ইবনুল 'আওয়ام (রা) জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন, সে একজন চোরকে ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। হযরত যুবায়র (রা) তাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য সুপারিশ করলেন। কিন্তু লোকটি বললেন: না, আমি তাকে খলীফার কাছে নিয়ে যাব। তখন হযরত যুবায়র (রা) বললেন: "যদি খলীফার কাছে বিষয়টি পৌঁছে যায়, তা হলে সুপারিশকারী ও সুপারিশ গ্রহণকারী দুজনের ওপরই আল্লাহর লানত হবে।"

টিকাঃ
৮۹. সহীহ আল বুখারী, (কিতাবুল আম্বিয়া), হা.নং: ৩২৮৮; মুসলিম, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ৪৩৮৬, ৪৩৮৭
۹۰. মালিক, আল-মুদাওয়ানাহ, খ. ৪, পৃ. ৫৩১; আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ. ১৬৩; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২০
۹۱. আল-বাজী, আল-মুস্তকা, খ.৭, পৃ. ১৬৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 ক্ষমা

📄 ক্ষমা


সুপারিশের মত আদালতে চুরির দাবী উত্থাপিত হওয়ার আগে চোরকে ক্ষমা করে দিতে অসুবিধা নেই। তদুপরি তা উত্তম হবে, যদি সে কুখ্যাত ও পেশাদার চোর না হয়। তবে আদালতে নালিশ দায়েরের পর তাকে ক্ষমা করে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা পরস্পরকে একে অপরের অপরাধ ক্ষমা কর।" অপরকে হদ্দ ক্ষমা করে দাও। তবে যে মাত্র আমার কাছে হদ্দের নালিশ আসবে, তখন হদ্দের কার্যকারিতা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।"

টিকাঃ
৯২. ইবনু 'আবদিল বারর, আত-তামহীদ, খ.১১, পৃ. ২২৪; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২০

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 তাওবাহ

📄 তাওবাহ


চোর যদি তাওবাহ করে চুরিকৃত মাল মালিককে ফেরত দেয় এবং নিজেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করে, তা হলেও হদ্দ রহিত হবে না। এটাই অধিকাংশ ইমামের অভিমত। বর্ণিত আছে, হযরত 'আমর ইবনু সামুরা (রা) উষ্ট্র চুরির ঘটনায় তাওবা করে পবিত্র হবার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলে তিনি তার হাত কেটে দেন। এ থেকে জানা যায়, তাওবা করলেও হদ্দ রহিত হবে না। তবে শাফি'ঈ ও হাম্বলী মতাবলম্বী কারো কারো মতে, চোর যদি তাওবাহ করে চুরিকৃত মাল মালিককে ফেরত দেয় এবং নিজেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমর্পন করে, তা হলে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না।

টিকাঃ
৯৩. ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ,১০৪; আস-সাভী, বুলগাতুস সালিক, খ.৪, পৃ. ৪৮৯
৯৪. ইবনু মাজাহ, (কিতাবুল হুদূদ), হা.নং: ২৫৮৮
৯৫. আল-বাহুতী, কাশফুল কিনা', খ.৬, পৃ.১৫৩-১৫৪; আল-মাওসূ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.২৪, পৃ.৩৪৩

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার

📄 স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার


চোরের স্বীকারোক্তির মাধ্যমে চুরি প্রমাণিত হবার পর হাত কাটার আগে সে যদি নিজের স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে হদ্দ কার্যকর হবে না। কারণ এমতাবস্থায় অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এটা অধিকাংশ ইমামের অভিমত। তবে কারো কারো মতে, চোর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং হদ্দও রহিত হবে না। যেমন কারো প্রাপ্যের কথা স্বীকার করার পর যদি কেউ তার কথা থেকে ফিরে আসে তা যেমন গ্রহণযোগ্য হয় না, তেমনি চুরির ক্ষেত্রেও স্বীকারোক্তি করার পর তা প্রত্যাহার করে নিলে তাও গ্রহণযোগ্য হবে না।

টিকাঃ
৯৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৪১; আল-বাজী, আল-মুস্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৯-২০

ফন্ট সাইজ
15px
17px