📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 শপথ

📄 শপথ


যখন চুরিকৃত সম্পদের মালিকের দাবীর পক্ষে কোন সাক্ষী থাকে না, আর চোরও স্বীকার করে না, তখন চোরকে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে শপথ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন সম্পদের মালিককে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে দাবীর পক্ষে শপথ করে বলে, তাহলে শাফি'ঈগণের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মালিকের এ শপথ দ্বারা চুরি প্রমাণিত হবে এবং চোরের হাতও কাটা যাবে। তবে হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী ইমামগণের নিকট এ রূপ অবস্থায় চোরের হাত কাটা যাবে না।

টিকাঃ
৮৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৫০; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৪, পৃ. ২৯৭; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২২; যাকারিয়া আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১৫০

📘 ইসলামের শাস্তি আইন 📄 লক্ষণ-প্রমাণ

📄 লক্ষণ-প্রমাণ


কারো কারো মতে বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারাও চুরি প্রমাণিত হবে, যদি তাতে সুস্পষ্টভাবে চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ভিত্তিতে চোরের হাতও কাটা হবে এবং তাকে মালের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। ইবনুল কাইয়েম বলেন, মুসলিম খলীফা ও শাসকগণ চুরির অভিযুক্ত ব্যক্তির হাত কাটতে নির্দেশ দিতেন, যদি তার কাছে চুরিকৃত মাল পাওয়া যেত। কেননা সাক্ষ্য ও চোরের স্বীকারোক্তির চাইতে চুরি সাব্যস্ত করার জন্য সুস্পষ্ট লক্ষণ অধিকতর শক্তিশালী প্রমাণ। কারণ, সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি যেহেতু এক প্রকার সংবাদ দান, তাই এগুলোর মধ্যে সত্য-মিথ্যার একটা অবকাশ সবসময় বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে চুরিকৃত মাল অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে তাতে চুরির ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ থাকবার কথা নয়। তবে অধিকাংশ ইমামের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবেই হদ্দযোগ্য চুরি প্রমাণ করা যাবে না।

টিকাঃ
৮৭. ইবনুল কাইয়েম আল-জাওযিয়্যা, 'ইলামুল মু'আক্কি 'ঈন, খ.২, পৃ. ৭৬-৭৭
৮৮. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px