📄 মৌখিক স্বীকৃতি
চোরের অভিযোগে অভিযুক্ত সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় আদালতে বিচারকের সামনে চুরির সুস্পষ্ট স্বীকারোক্তি করে তাহলে চুরি প্রমাণিত হবে এবং তাকে চুরির হদ্দ ভোগ করতে হবে। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। তবে কতবার স্বীকারোক্তি দিতে হবে- তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশদের মতে, একবার স্বীকারোক্তিই যথেষ্ট। তবে হাম্বলীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে ইমাম আবূ ইউসূফ (রহ)-এর মতে, দু'এজলাসে দুবার স্বীকৃতি দ্বারা চুরি প্রমাণিত হবে। যদি একবার স্বীকারোক্তি দেয়, তাহলে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। তবে তা'যীরী শাস্তি দেয়া যাবে এবং চুরিকৃত মাল কিংবা তার মূল্য ফিরিয়ে দিতে হবে।
স্বীকারকারী যদি নিজের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং বলে যে, সে একান্ত চাপে পড়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাহলে তার কথা আমলে নেয়া হবে এবং তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
টিকাঃ
৮১. হানাফীগণের মতে স্বীকারোক্তিদানকারীকে বাকশক্তি সম্পন্ন হতে হতে হবে। কোন বোবা ব্যক্তির স্বীকৃতিমূলক ইঙ্গিত দ্বারা হদ্দ কার্যকর করা যাবে না。
৮২. অধিকাংশের মতে, মালিকের দাবীর প্রেক্ষিতেই যদি চোর স্বীকারোক্তি করে, তবেই তার স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে। এ কারণেই অজ্ঞাত কিংবা অনুপস্থিত কোন লোকের মাল কেউ চুরি করলে তাতে হদ্দ কার্যকর করা যাবে না। পক্ষান্তরে মালিকীগণের মতে, স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবার জন্য মালিকের দাবী থাকার শর্ত নেই। এ কারণে তাঁদের দৃষ্টিতে, অজ্ঞাত কিংবা অনুপস্থিত কোন লোকের মাল কেউ চুরি করলে তাতে হদ্দ কার্যকর করতে হবে। (মালিক, মুদাওয়ানাহ, খ.৪, পৃ.৫৪)
৮৩. আল-কাসানী, বাদাই, খ.৭, পৃ.৮১; ইবনু 'আবিদীন, রাদ্দুল মুহতার, খ.৪, পৃ. ৮৬-৮৭; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৮
৮৪. ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৮; আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৮২; আল-বাহুতী, কাশফুল কিনা', খ.৬, পৃ.১৪৪-৫; ইবনু মুফলিহ, আল-ফুরু', খ.৬, পৃ.১২২
৮৫. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৪১; আল-বাজী, আল-মুন্তাকা, খ.৭,পৃ. ১৬৮; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৯-২০। তবে বিচারকের কাছে যদি বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই অপরাধী। তা হলে মালিকীগণ এবং হানাফীগণের মধ্যে পরবর্তীকালের অনেক মুফতীই চাপের মুখে চোরের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মত দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য হল, চোরেরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দেবে- এ ধরনের ঘটনা তো সচরাচর ঘটে না। (আল-মাওসৃ'আতুল ফিকহিয়্যা, খ.২৪, পৃ. ৩৪৩)
📄 শপথ
যখন চুরিকৃত সম্পদের মালিকের দাবীর পক্ষে কোন সাক্ষী থাকে না, আর চোরও স্বীকার করে না, তখন চোরকে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে শপথ করতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন সম্পদের মালিককে শপথ করতে বলা হবে। যদি সে দাবীর পক্ষে শপথ করে বলে, তাহলে শাফি'ঈগণের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী মালিকের এ শপথ দ্বারা চুরি প্রমাণিত হবে এবং চোরের হাতও কাটা যাবে। তবে হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী ইমামগণের নিকট এ রূপ অবস্থায় চোরের হাত কাটা যাবে না।
টিকাঃ
৮৬. আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, খ.৯, পৃ.১৫০; যায়ল'ঈ, তাবয়ীন, খ.৪, পৃ. ২৯৭; ইবনু কুদামা, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১২২; যাকারিয়া আল-আনসারী, আসনাল মাতালিব, খ.৪, পৃ. ১৫০
📄 লক্ষণ-প্রমাণ
কারো কারো মতে বিভিন্ন লক্ষণ দ্বারাও চুরি প্রমাণিত হবে, যদি তাতে সুস্পষ্টভাবে চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ভিত্তিতে চোরের হাতও কাটা হবে এবং তাকে মালের ক্ষতিপূরণও দিতে হবে। ইবনুল কাইয়েম বলেন, মুসলিম খলীফা ও শাসকগণ চুরির অভিযুক্ত ব্যক্তির হাত কাটতে নির্দেশ দিতেন, যদি তার কাছে চুরিকৃত মাল পাওয়া যেত। কেননা সাক্ষ্য ও চোরের স্বীকারোক্তির চাইতে চুরি সাব্যস্ত করার জন্য সুস্পষ্ট লক্ষণ অধিকতর শক্তিশালী প্রমাণ। কারণ, সাক্ষ্য ও স্বীকারোক্তি যেহেতু এক প্রকার সংবাদ দান, তাই এগুলোর মধ্যে সত্য-মিথ্যার একটা অবকাশ সবসময় বিদ্যমান থাকে। পক্ষান্তরে চুরিকৃত মাল অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাওয়া গেলে তাতে চুরির ব্যাপারে আর কোন সন্দেহ থাকবার কথা নয়। তবে অধিকাংশ ইমামের মতে, সাক্ষ্য-প্রমাণ কিংবা স্বীকারোক্তি ছাড়া অন্য কোনভাবেই হদ্দযোগ্য চুরি প্রমাণ করা যাবে না।
টিকাঃ
৮৭. ইবনুল কাইয়েম আল-জাওযিয়্যা, 'ইলামুল মু'আক্কি 'ঈন, খ.২, পৃ. ৭৬-৭৭
৮৮. ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, খ.৯, পৃ. ১১৮